বরিশালের হিজলা উপজেলার মেঘনা নদীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, নদীতে মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে নৌ-পুলিশের সঙ্গে জেলেদের বিরোধের একপর্যায়ে গুলি ছোড়া হয়। তবে গুলি কারা ছুড়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে হিজলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চর মেমানিয়া গ্রামের কয়েকজন জেলে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে যান। রাতভর মাছ শিকার শেষে বৃহস্পতিবার ভোরে তীরে ফেরার পথে গৌরবদী ইউনিয়নের শাওড়া অরাকুল মাছঘাটসংলগ্ন নদীতে তাঁদের ট্রলার থামানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের সহায়তায় আহত জেলেকে উদ্ধার করে প্রথমে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করা হলে পথেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাঁদের পরিচয়, আঘাতের ধরন এবং চিকিৎসার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর ভাইকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলা করলে হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।
তবে গুলির ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ।
হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কেএম মাহফুজুর রহমান বলেন, গুলিতে একজন জেলে নিহত হয়েছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে নদীতে তাঁদের কোনো অভিযান ছিল না এবং কারা অভিযান চালিয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান হোসেন বলেন, তাঁরা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছেন।
হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলিয়াস সিকদার জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি এক জেলে নিহত হওয়ার খবর পেয়েছেন। তাঁর কাছে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেই বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চাঁদপুর নৌ-পুলিশের কোনো অভিযান ছিল না।
এ বক্তব্যের কারণে ঘটনাস্থলে কোন বাহিনী বা দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, একজন জেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনায় কারা গুলি করেছে, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
এ ঘটনায় পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং আহত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬
বরিশালের হিজলা উপজেলার মেঘনা নদীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, নদীতে মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে নৌ-পুলিশের সঙ্গে জেলেদের বিরোধের একপর্যায়ে গুলি ছোড়া হয়। তবে গুলি কারা ছুড়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে হিজলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চর মেমানিয়া গ্রামের কয়েকজন জেলে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে যান। রাতভর মাছ শিকার শেষে বৃহস্পতিবার ভোরে তীরে ফেরার পথে গৌরবদী ইউনিয়নের শাওড়া অরাকুল মাছঘাটসংলগ্ন নদীতে তাঁদের ট্রলার থামানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের সহায়তায় আহত জেলেকে উদ্ধার করে প্রথমে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করা হলে পথেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাঁদের পরিচয়, আঘাতের ধরন এবং চিকিৎসার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর ভাইকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলা করলে হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।
তবে গুলির ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ।
হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কেএম মাহফুজুর রহমান বলেন, গুলিতে একজন জেলে নিহত হয়েছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে নদীতে তাঁদের কোনো অভিযান ছিল না এবং কারা অভিযান চালিয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান হোসেন বলেন, তাঁরা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছেন।
হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলিয়াস সিকদার জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি এক জেলে নিহত হওয়ার খবর পেয়েছেন। তাঁর কাছে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেই বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চাঁদপুর নৌ-পুলিশের কোনো অভিযান ছিল না।
এ বক্তব্যের কারণে ঘটনাস্থলে কোন বাহিনী বা দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, একজন জেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনায় কারা গুলি করেছে, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
এ ঘটনায় পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং আহত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন