ভারতের আসাম রাজ্যে দুই দিনের উচ্ছেদ অভিযানে ১ হাজার ১০০টিরও বেশি পরিবারকে বনাঞ্চলীয় জমি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর অধিকাংশই বাংলাভাষী মুসলিম বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযানের সময় অন্তত ১০টি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
নগাঁও, হোজাই ও গোলাঘাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যে এসব অভিযান চালানো হয়। আসাম সরকারের বক্তব্য, সরকারি ও বনাঞ্চলীয় জমি দখলমুক্ত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রোববার নগাঁও জেলার লুতুমারী লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়।
এর আগের দিন শনিবার নগাঁওয়ে ৩৩৬টি, হোজাইয়ে ১৫২টি এবং গোলাঘাটে ৫৯টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে দুই দিনে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের সংখ্যা ১ হাজার ১০০ ছাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযানের সময় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দা আব্দুল নূর জানান, তাঁদের পূর্বপুরুষেরা ঔপনিবেশিক আমলের ‘তাউঙ্গিয়া’ ব্যবস্থার অধীনে বন বিভাগের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর দাবি, বনাঞ্চলে কাজের সঙ্গে যুক্ত পরিবারের সদস্যদের ওই এলাকায় পুনর্বাসন করা হয়েছিল।
আব্দুল নূরের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের পরিবার বহু বছর ধরে ওই জমিতে বসবাস করে আসছে। তবে জমির মালিকানা, পুনর্বাসনের নথি এবং বসবাসের আইনি ভিত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উচ্ছেদের বিরুদ্ধে গুয়াহাটি হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছিল। তবে সংরক্ষিত বনাঞ্চল সুরক্ষার স্বার্থে আদালত ৩০ দিনের মধ্যে জায়গা খালি করার নির্দেশ দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশের পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। তবে মামলার পূর্ণাঙ্গ নথি ও আদালতের আদেশের বিস্তারিত পাওয়া গেলে বিষয়টির আইনি প্রেক্ষাপট আরও স্পষ্ট হবে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উচ্ছেদ অভিযানের সময় অন্তত ১০টি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে কোন কোন এলাকায় মসজিদগুলো ভাঙা হয়েছে, সেগুলোর সংখ্যা কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের বক্তব্য কী—তা বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি।
ফলে মসজিদ ভাঙার বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যের পূর্ণাঙ্গ যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
আসাম সরকারের দাবি, সরকারি ও বনাঞ্চলীয় জমি অবৈধ দখলমুক্ত করার উদ্দেশ্যে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।
দাপ্তরিক তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামে বিজেপি সরকারের প্রায় এক দশকের শাসনামলে সরকারি জমি থেকে প্রায় ১৯ হাজার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসব পরিবারের বেশিরভাগই মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের ধর্মীয় পরিচয়, জমির মালিকানা এবং প্রতিটি অভিযানের আইনি ভিত্তি আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬
ভারতের আসাম রাজ্যে দুই দিনের উচ্ছেদ অভিযানে ১ হাজার ১০০টিরও বেশি পরিবারকে বনাঞ্চলীয় জমি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর অধিকাংশই বাংলাভাষী মুসলিম বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযানের সময় অন্তত ১০টি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
নগাঁও, হোজাই ও গোলাঘাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যে এসব অভিযান চালানো হয়। আসাম সরকারের বক্তব্য, সরকারি ও বনাঞ্চলীয় জমি দখলমুক্ত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রোববার নগাঁও জেলার লুতুমারী লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়।
এর আগের দিন শনিবার নগাঁওয়ে ৩৩৬টি, হোজাইয়ে ১৫২টি এবং গোলাঘাটে ৫৯টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে দুই দিনে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের সংখ্যা ১ হাজার ১০০ ছাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযানের সময় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দা আব্দুল নূর জানান, তাঁদের পূর্বপুরুষেরা ঔপনিবেশিক আমলের ‘তাউঙ্গিয়া’ ব্যবস্থার অধীনে বন বিভাগের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর দাবি, বনাঞ্চলে কাজের সঙ্গে যুক্ত পরিবারের সদস্যদের ওই এলাকায় পুনর্বাসন করা হয়েছিল।
আব্দুল নূরের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের পরিবার বহু বছর ধরে ওই জমিতে বসবাস করে আসছে। তবে জমির মালিকানা, পুনর্বাসনের নথি এবং বসবাসের আইনি ভিত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উচ্ছেদের বিরুদ্ধে গুয়াহাটি হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছিল। তবে সংরক্ষিত বনাঞ্চল সুরক্ষার স্বার্থে আদালত ৩০ দিনের মধ্যে জায়গা খালি করার নির্দেশ দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশের পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। তবে মামলার পূর্ণাঙ্গ নথি ও আদালতের আদেশের বিস্তারিত পাওয়া গেলে বিষয়টির আইনি প্রেক্ষাপট আরও স্পষ্ট হবে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উচ্ছেদ অভিযানের সময় অন্তত ১০টি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে কোন কোন এলাকায় মসজিদগুলো ভাঙা হয়েছে, সেগুলোর সংখ্যা কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের বক্তব্য কী—তা বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি।
ফলে মসজিদ ভাঙার বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যের পূর্ণাঙ্গ যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
আসাম সরকারের দাবি, সরকারি ও বনাঞ্চলীয় জমি অবৈধ দখলমুক্ত করার উদ্দেশ্যে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।
দাপ্তরিক তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামে বিজেপি সরকারের প্রায় এক দশকের শাসনামলে সরকারি জমি থেকে প্রায় ১৯ হাজার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসব পরিবারের বেশিরভাগই মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের ধর্মীয় পরিচয়, জমির মালিকানা এবং প্রতিটি অভিযানের আইনি ভিত্তি আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন