দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বব্যাংকের অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে আলোচনা চলছে: অর্থমন্ত্রী

বিশ্বব্যাংকের অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে আলোচনা চলছে: অর্থমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে এক ধাপ পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে বাংলাদেশ

মাল্টার দাম কেজিতে ৫২০ টাকা, ব্যাখ্যা চাইলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ল ১১ টাকা ৯২ পয়সা, রাত ১২টা থেকেই কার্যকর

একনেকে ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কমেছে ২ হাজার ১৫৮ টাকা

মুনাফা ছাড়ার শর্তে মিলছে মূল টাকা, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানতকারীদের ক্ষোভ

জ্বালানির দাম বাড়লেও বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে ব্যবস্থা: বাণিজ্যমন্ত্রী

বিশ্বব্যাংকের অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে আলোচনা চলছে: অর্থমন্ত্রী

বিশ্বব্যাংকের অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে আলোচনা চলছে: অর্থমন্ত্রী
ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে বৈঠক শেষে অতিরিক্ত ঋণসহায়তা নিয়ে আলোচনার কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণসহায়তা পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনা ও পরবর্তী কার্যক্রম শেষ করতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)–এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এখানে কোনো সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। এটা একটা আলোচনা। এই আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এটি একটি প্রক্রিয়া, যা আগামী কয়েক মাস চলবে।’

অর্থমন্ত্রী জানান, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে দুই পক্ষের করণীয় নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে ঢাকায়ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

অর্থাৎ, অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের ঋণসহায়তার বিষয়টি এখনো আলোচনাধীন। অর্থের পরিমাণ, সহায়তার শর্ত এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো নিশ্চিত হয়নি।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতি, কর্মসূচি এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সমঝোতা রয়েছে।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের গৃহীত নীতির সঙ্গেও সংস্থাটি একমত বলে জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্যে ছিল। আগের সময়ের বিভিন্ন দায়দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

এসব পরিস্থিতি বিশ্বব্যাংক অনুধাবন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের পাশে থাকতে খুবই আগ্রহী। আমরা যে নীতি গ্রহণ করেছি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পর আগামী দিনের জন্য যে অর্থনৈতিক কর্মসূচি ও গতিপথ নির্ধারণ করেছি, তার সঙ্গে বিশ্বব্যাংক পুরোপুরি একমত।’

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারত্বের কাঠামো নিয়েও আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে বড় অঙ্কের ঋণসহায়তা পাওয়া গেলে তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মসূচি ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ঋণের পরিমাণের পাশাপাশি এর সুদ, পরিশোধের সময়সীমা, শর্ত এবং অর্থ কোন খাতে ব্যবহার করা হবে—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা এবং অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ঋণসহায়তা কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে অর্থের ব্যবহার ও নীতিগত পদক্ষেপের ওপর।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক বিভিন্ন সুপারিশ ও পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশও নিজেদের প্রস্তাব তুলে ধরেছে।

এই আলোচনা থেকে ভবিষ্যতে দুই পক্ষের সহযোগিতার ক্ষেত্র ও করণীয় সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মূল্যস্ফীতি ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাস সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার অন্য কোনো সংস্থার প্রক্ষেপণকে বিতর্কিত করতে চায় না।

তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো নিজস্ব হিসাব ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক পূর্বাভাস দিয়ে থাকে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার বাজেটে নির্ধারিত অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে। বাজেটে দেওয়া প্রক্ষেপণগুলো পূরণ করা সম্ভব হবে বলেও সরকার আশা করছে।

বিষয় : বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিশ্বব্যাংকের ঋণসহায়তা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


বিশ্বব্যাংকের অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে আলোচনা চলছে: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণসহায়তা পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনা ও পরবর্তী কার্যক্রম শেষ করতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)–এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এখানে কোনো সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। এটা একটা আলোচনা। এই আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এটি একটি প্রক্রিয়া, যা আগামী কয়েক মাস চলবে।’

অর্থমন্ত্রী জানান, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে দুই পক্ষের করণীয় নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে ঢাকায়ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

অর্থাৎ, অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের ঋণসহায়তার বিষয়টি এখনো আলোচনাধীন। অর্থের পরিমাণ, সহায়তার শর্ত এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো নিশ্চিত হয়নি।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতি, কর্মসূচি এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সমঝোতা রয়েছে।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের গৃহীত নীতির সঙ্গেও সংস্থাটি একমত বলে জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্যে ছিল। আগের সময়ের বিভিন্ন দায়দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

এসব পরিস্থিতি বিশ্বব্যাংক অনুধাবন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের পাশে থাকতে খুবই আগ্রহী। আমরা যে নীতি গ্রহণ করেছি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পর আগামী দিনের জন্য যে অর্থনৈতিক কর্মসূচি ও গতিপথ নির্ধারণ করেছি, তার সঙ্গে বিশ্বব্যাংক পুরোপুরি একমত।’

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারত্বের কাঠামো নিয়েও আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে বড় অঙ্কের ঋণসহায়তা পাওয়া গেলে তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মসূচি ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ঋণের পরিমাণের পাশাপাশি এর সুদ, পরিশোধের সময়সীমা, শর্ত এবং অর্থ কোন খাতে ব্যবহার করা হবে—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা এবং অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ঋণসহায়তা কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে অর্থের ব্যবহার ও নীতিগত পদক্ষেপের ওপর।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক বিভিন্ন সুপারিশ ও পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশও নিজেদের প্রস্তাব তুলে ধরেছে।

এই আলোচনা থেকে ভবিষ্যতে দুই পক্ষের সহযোগিতার ক্ষেত্র ও করণীয় সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মূল্যস্ফীতি ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাস সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার অন্য কোনো সংস্থার প্রক্ষেপণকে বিতর্কিত করতে চায় না।

তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো নিজস্ব হিসাব ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক পূর্বাভাস দিয়ে থাকে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার বাজেটে নির্ধারিত অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে। বাজেটে দেওয়া প্রক্ষেপণগুলো পূরণ করা সম্ভব হবে বলেও সরকার আশা করছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর