জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়সংবলিত ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য, নদীভাঙন ও বন্যা ব্যবস্থাপনা, ভূমি জরিপ, গ্রামীণ অবকাঠামো, বিমানবন্দর সম্প্রসারণ, বিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাত।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভা শেষে এনইসি ভবনে সাংবাদিকদের প্রকল্পগুলোর বিষয়ে জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মোট ব্যয় ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ১১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৫ হাজার ২৫২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
প্রকল্পগুলোর মধ্যে নতুন ৮টি, সংশোধিত ৩টি এবং মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প ২টি রয়েছে।
স্বাস্থ্য সেবা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো—‘ইন্টিগ্রেটেড হেলথ সিস্টেম রেসপন্স টু ফাইট এগেইনস্ট টিবি, এইচআইভি/এইডস অ্যান্ড ম্যালেরিয়া ইন বাংলাদেশ’ এবং ‘পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন, পটুয়াখালী (১ম সংশোধিত)’।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২ (এফএসএসপি-২)’ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রামের রৌফাবাদে মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠানের হোস্টেল ভবন সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পও একনেকের অনুমোদন পেয়েছে।
এর একটি হলো মুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (অংশ-১)।
অন্যটি মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষা প্রকল্প।
নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় বসতি, কৃষিজমি ও অবকাঠামো রক্ষায় এ ধরনের প্রকল্পের বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রকল্পগুলোর বাস্তব সুফল কত দ্রুত পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের গতি ও কাজের মানের ওপর।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ‘ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপের মাধ্যমে ৩টি সিটি করপোরেশন, ১টি পৌরসভা এবং ২টি গ্রামীণ উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি স্থাপন’ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প রয়েছে। এগুলো হলো রংপুর বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ এবং মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প (প্রথম পর্যায়)-এর তৃতীয় সংশোধন অনুমোদন পেয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের র্যাব (এসআরবি)-এর কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনও অনুমোদিত হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প হলো—ফেনীর সোনাগাজীতে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ এবং তিনটি পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ।
সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী কর্তৃক ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সংবলিত ১৫টি প্রকল্প সম্পর্কেও একনেককে অবহিত করা হয়।
একনেকের অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বড় অংশ অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, নদী ব্যবস্থাপনা ও সরকারি সেবার সক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে যুক্ত। ফলে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ ছাড়, সময়মতো কাজ শুরু এবং প্রকল্পের মান নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
একনেকের অনুমোদন একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও এর পরের বিষয়গুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বরাদ্দ অনুযায়ী অর্থ ছাড়, সময়মতো কাজ শুরু, নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ করা এবং কাজের মান নিশ্চিত করা না গেলে বড় অঙ্কের অনুমোদন থেকেও প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।
বিশেষ করে নদীভাঙন, স্বাস্থ্যসেবা, গ্রামীণ সড়ক ও বিদ্যুৎ সংযোগের মতো সরাসরি জনজীবনের সঙ্গে যুক্ত প্রকল্পগুলো দ্রুত ও মানসম্মতভাবে বাস্তবায়ন হলে সাধারণ মানুষ তার সুফল সরাসরি পেতে পারেন।

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়সংবলিত ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য, নদীভাঙন ও বন্যা ব্যবস্থাপনা, ভূমি জরিপ, গ্রামীণ অবকাঠামো, বিমানবন্দর সম্প্রসারণ, বিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাত।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভা শেষে এনইসি ভবনে সাংবাদিকদের প্রকল্পগুলোর বিষয়ে জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মোট ব্যয় ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ১১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৫ হাজার ২৫২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
প্রকল্পগুলোর মধ্যে নতুন ৮টি, সংশোধিত ৩টি এবং মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প ২টি রয়েছে।
স্বাস্থ্য সেবা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো—‘ইন্টিগ্রেটেড হেলথ সিস্টেম রেসপন্স টু ফাইট এগেইনস্ট টিবি, এইচআইভি/এইডস অ্যান্ড ম্যালেরিয়া ইন বাংলাদেশ’ এবং ‘পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন, পটুয়াখালী (১ম সংশোধিত)’।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২ (এফএসএসপি-২)’ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রামের রৌফাবাদে মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠানের হোস্টেল ভবন সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পও একনেকের অনুমোদন পেয়েছে।
এর একটি হলো মুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (অংশ-১)।
অন্যটি মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষা প্রকল্প।
নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় বসতি, কৃষিজমি ও অবকাঠামো রক্ষায় এ ধরনের প্রকল্পের বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রকল্পগুলোর বাস্তব সুফল কত দ্রুত পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের গতি ও কাজের মানের ওপর।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ‘ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপের মাধ্যমে ৩টি সিটি করপোরেশন, ১টি পৌরসভা এবং ২টি গ্রামীণ উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি স্থাপন’ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প রয়েছে। এগুলো হলো রংপুর বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ এবং মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প (প্রথম পর্যায়)-এর তৃতীয় সংশোধন অনুমোদন পেয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের র্যাব (এসআরবি)-এর কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনও অনুমোদিত হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প হলো—ফেনীর সোনাগাজীতে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ এবং তিনটি পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ।
সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী কর্তৃক ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সংবলিত ১৫টি প্রকল্প সম্পর্কেও একনেককে অবহিত করা হয়।
একনেকের অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বড় অংশ অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, নদী ব্যবস্থাপনা ও সরকারি সেবার সক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে যুক্ত। ফলে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ ছাড়, সময়মতো কাজ শুরু এবং প্রকল্পের মান নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
একনেকের অনুমোদন একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও এর পরের বিষয়গুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বরাদ্দ অনুযায়ী অর্থ ছাড়, সময়মতো কাজ শুরু, নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ করা এবং কাজের মান নিশ্চিত করা না গেলে বড় অঙ্কের অনুমোদন থেকেও প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।
বিশেষ করে নদীভাঙন, স্বাস্থ্যসেবা, গ্রামীণ সড়ক ও বিদ্যুৎ সংযোগের মতো সরাসরি জনজীবনের সঙ্গে যুক্ত প্রকল্পগুলো দ্রুত ও মানসম্মতভাবে বাস্তবায়ন হলে সাধারণ মানুষ তার সুফল সরাসরি পেতে পারেন।

আপনার মতামত লিখুন