দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

মাল্টার দাম কেজিতে ৫২০ টাকা, ব্যাখ্যা চাইলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

মাল্টার দাম কেজিতে ৫২০ টাকা, ব্যাখ্যা চাইলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ল ১১ টাকা ৯২ পয়সা, রাত ১২টা থেকেই কার্যকর

একনেকে ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কমেছে ২ হাজার ১৫৮ টাকা

মুনাফা ছাড়ার শর্তে মিলছে মূল টাকা, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানতকারীদের ক্ষোভ

জ্বালানির দাম বাড়লেও বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে ব্যবস্থা: বাণিজ্যমন্ত্রী

এডিবির পূর্বাভাসে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কমে ৪ শতাংশ, বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় আবারও দ্রব্যমূল্য ও বাসভাড়া বৃদ্ধির আশঙ্কা

মাল্টার দাম কেজিতে ৫২০ টাকা, ব্যাখ্যা চাইলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

মাল্টার দাম কেজিতে ৫২০ টাকা, ব্যাখ্যা চাইলেন বাণিজ্যমন্ত্রী
বাজারে প্রতিকেজি মাল্টার দাম ৫২০ টাকা হওয়ায় আমদানি মূল্য ও অন্যান্য ব্যয়ের ব্যাখ্যা চেয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাজারে প্রতিকেজি মাল্টার দাম ৫২০ টাকা কেন—আমদানি মূল্য, শুল্ক-কর ও অন্যান্য খরচ বিবেচনার পরও এই দাম কীভাবে নির্ধারিত হচ্ছে, তার ব্যাখ্যা চেয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

একই সঙ্গে বাজারে আমদানিনির্ভর ফলের সরবরাহ বাড়াতে ব্যবসায়ীদের দ্রুত ঋণপত্র (এলসি) খুলে মাল্টাসহ বিভিন্ন ফল আমদানির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। অস্বাভাবিক দামে ফল বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ফলের সরবরাহ নিশ্চিত ও বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

সভায় ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে মাল্টার সরবরাহ কমে যাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে দাম বেড়েছে।

তাদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, কোনো কোনো সপ্তাহে দেশে মাত্র ১২ থেকে ২৯ কনটেইনার মাল্টা এসেছে। অথচ স্বাভাবিক চাহিদা পূরণে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কনটেইনার মাল্টা প্রয়োজন।

অর্থাৎ আমদানির পরিমাণ ও বাজারের চাহিদার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হওয়ায় সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি।

তবে এই সরবরাহ সংকটের পরও খুচরা পর্যায়ে দাম প্রতিকেজি ৫২০ টাকা পর্যন্ত কীভাবে উঠল, সেটিই জানতে চেয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

আমদানিকারকেরা জানান, মাল্টার দাম বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ শুল্ক, পরিবহন ব্যয়, জাহাজ ও বন্দরের জটিলতা এবং আগের চালানে লোকসান।

তাদের ভাষ্য, মাল্টা পচনশীল পণ্য হওয়ায় দীর্ঘ সময় পরিবহন বা সংরক্ষণে রাখলে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে আমদানিকারকদের আর্থিক ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি।

এসব কারণে অনেক ব্যবসায়ী মাল্টা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন বলে সভায় জানানো হয়।

মাল্টার অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রমাণ পাওয়া গেলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ দেওয়া হবে না।

পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে মাল্টাসহ বিভিন্ন ফল আমদানি বাড়াতে ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করেন তিনি। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে সরবরাহ বাড়াতে দ্রুত এলসি খোলার তাগিদও দেওয়া হয়।

মাল্টার শুল্কসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনার আশ্বাসও দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

আসন্ন চাহিদার কথা বিবেচনা করে এখন থেকেই খেজুর আমদানির প্রস্তুতি নিতে ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি জানান, খেজুরের শুল্কের বিষয়ে চলতি সপ্তাহেই সরকারের সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এ ছাড়া খেজুরের অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু বা শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করবে।

বিভিন্ন মান ও গ্রেডের খেজুরের আন্তর্জাতিক উৎসমূল্য যাচাই করে একটি যৌক্তিক নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরে সেই প্রস্তাব জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে পাঠানো হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুল্কায়ন ব্যবস্থা এমন হতে হবে, যাতে ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিক অ্যাসেসমেন্টের শিকার না হন। একই সঙ্গে পণ্যের মূল্য কম দেখিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুযোগও রাখা যাবে না।

সরকার ও ব্যবসায়ী—দুই পক্ষকেই স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। কোনো পক্ষ কারসাজির চেষ্টা করলে পুরো ব্যবস্থার ওপরই আস্থার সংকট তৈরি হয় বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

সভায় এনবিআরের প্রতিনিধি জানান, বিভিন্ন মান ও গ্রেডের খেজুরের প্রকৃত ক্রয়মূল্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু শুল্কায়নের সময় সেই পার্থক্য সব ক্ষেত্রে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না।

এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারদর ও উৎসমূল্য বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

ফলের বাজারে সরবরাহ বাড়ানো গেলে দাম কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে শুধু আমদানি বাড়ালেই খুচরা পর্যায়ে দাম কতটা কমবে, সেটি নির্ভর করবে আমদানি মূল্য, শুল্ক, পরিবহন, পচনশীল পণ্যের ক্ষতি এবং পাইকারি-খুচরা পর্যায়ের মার্জিনের ওপর।

তাই মাল্টার দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে পুরো সরবরাহব্যবস্থার কোথায় অতিরিক্ত ব্যয় বা মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে, সেটি চিহ্নিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

বিষয় : বাণিজ্যমন্ত্রী মাল্টার দাম কেজি ৫২০ টাকা বাংলাদেশে ফলের দাম

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


মাল্টার দাম কেজিতে ৫২০ টাকা, ব্যাখ্যা চাইলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বাজারে প্রতিকেজি মাল্টার দাম ৫২০ টাকা কেন—আমদানি মূল্য, শুল্ক-কর ও অন্যান্য খরচ বিবেচনার পরও এই দাম কীভাবে নির্ধারিত হচ্ছে, তার ব্যাখ্যা চেয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

একই সঙ্গে বাজারে আমদানিনির্ভর ফলের সরবরাহ বাড়াতে ব্যবসায়ীদের দ্রুত ঋণপত্র (এলসি) খুলে মাল্টাসহ বিভিন্ন ফল আমদানির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। অস্বাভাবিক দামে ফল বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ফলের সরবরাহ নিশ্চিত ও বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

সভায় ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে মাল্টার সরবরাহ কমে যাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে দাম বেড়েছে।

তাদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, কোনো কোনো সপ্তাহে দেশে মাত্র ১২ থেকে ২৯ কনটেইনার মাল্টা এসেছে। অথচ স্বাভাবিক চাহিদা পূরণে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কনটেইনার মাল্টা প্রয়োজন।

অর্থাৎ আমদানির পরিমাণ ও বাজারের চাহিদার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হওয়ায় সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি।

তবে এই সরবরাহ সংকটের পরও খুচরা পর্যায়ে দাম প্রতিকেজি ৫২০ টাকা পর্যন্ত কীভাবে উঠল, সেটিই জানতে চেয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

আমদানিকারকেরা জানান, মাল্টার দাম বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ শুল্ক, পরিবহন ব্যয়, জাহাজ ও বন্দরের জটিলতা এবং আগের চালানে লোকসান।

তাদের ভাষ্য, মাল্টা পচনশীল পণ্য হওয়ায় দীর্ঘ সময় পরিবহন বা সংরক্ষণে রাখলে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে আমদানিকারকদের আর্থিক ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি।

এসব কারণে অনেক ব্যবসায়ী মাল্টা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন বলে সভায় জানানো হয়।

মাল্টার অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রমাণ পাওয়া গেলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ দেওয়া হবে না।

পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে মাল্টাসহ বিভিন্ন ফল আমদানি বাড়াতে ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করেন তিনি। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে সরবরাহ বাড়াতে দ্রুত এলসি খোলার তাগিদও দেওয়া হয়।

মাল্টার শুল্কসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনার আশ্বাসও দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

আসন্ন চাহিদার কথা বিবেচনা করে এখন থেকেই খেজুর আমদানির প্রস্তুতি নিতে ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি জানান, খেজুরের শুল্কের বিষয়ে চলতি সপ্তাহেই সরকারের সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এ ছাড়া খেজুরের অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু বা শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করবে।

বিভিন্ন মান ও গ্রেডের খেজুরের আন্তর্জাতিক উৎসমূল্য যাচাই করে একটি যৌক্তিক নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরে সেই প্রস্তাব জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে পাঠানো হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুল্কায়ন ব্যবস্থা এমন হতে হবে, যাতে ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিক অ্যাসেসমেন্টের শিকার না হন। একই সঙ্গে পণ্যের মূল্য কম দেখিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুযোগও রাখা যাবে না।

সরকার ও ব্যবসায়ী—দুই পক্ষকেই স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। কোনো পক্ষ কারসাজির চেষ্টা করলে পুরো ব্যবস্থার ওপরই আস্থার সংকট তৈরি হয় বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

সভায় এনবিআরের প্রতিনিধি জানান, বিভিন্ন মান ও গ্রেডের খেজুরের প্রকৃত ক্রয়মূল্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু শুল্কায়নের সময় সেই পার্থক্য সব ক্ষেত্রে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না।

এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারদর ও উৎসমূল্য বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

ফলের বাজারে সরবরাহ বাড়ানো গেলে দাম কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে শুধু আমদানি বাড়ালেই খুচরা পর্যায়ে দাম কতটা কমবে, সেটি নির্ভর করবে আমদানি মূল্য, শুল্ক, পরিবহন, পচনশীল পণ্যের ক্ষতি এবং পাইকারি-খুচরা পর্যায়ের মার্জিনের ওপর।

তাই মাল্টার দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে পুরো সরবরাহব্যবস্থার কোথায় অতিরিক্ত ব্যয় বা মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে, সেটি চিহ্নিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর