সাতক্ষীরা রেঞ্জের পশ্চিম সুন্দরবনে মুক্তিপণের দাবিতে তিন জেলেকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে বনদস্যু জিয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, রোববার (১১ অক্টোবর) বাদুড়ঝুলি খালে মাছ ধরার সময় চার জেলেকে অপহরণ করা হয়। পরে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ নিয়ে একজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি তিন জেলেকে মুক্তি দিতে দেড় লাখ টাকা দাবি করেছে অপহরণকারীরা।
মুক্তি পাওয়া জেলের নাম খোকা গাজী (৩২)। তিনি গাবুরার ৯ নম্বর সোরা গ্রামের রুস্তুম গাজীর ছেলে। মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে অন্য একটি জেলে নৌকায় করে তিনি বাড়িতে ফেরেন।
অপহৃত তিন জেলে হলেন একই গ্রামের হযরত পাড়ের ছেলে মাছুম পাড় (৩০), কেনা শেখের ছেলে আহম্মদ শেখ (২৫) এবং সাইদুল গাজীর ছেলে শহিদ গাজী (২৫)।
স্থানীয় আবিয়ার গাজী পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানান, পাঁচ দিন আগে বুড়িগোয়ালিনী বন কার্যালয় থেকে মাছ ধরার অনুমতি নিয়ে চার জেলে সুন্দরবনে প্রবেশ করেন।
একপর্যায়ে বাদুড়ঝুলি খালে মাছ ধরার সময় রাত ৯টার দিকে অস্ত্রধারী বনদস্যু জিয়া বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের অপহরণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরে পারিবারিক দেনদরবারের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ নিয়ে খোকা গাজীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে বাকি তিন জেলে এখনো অপহরণকারীদের কাছে রয়েছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় আবিয়ার গাজীর ভাষ্য অনুযায়ী, অপহৃত তিন জেলেকে মুক্তি দিতে দেড় লাখ টাকা দাবি করেছে বনদস্যুরা। টাকা না দিলে তাঁদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এ ঘটনায় অপহৃত জেলেদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের নিরাপদে উদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, জেলে অপহরণের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে বন বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে অপহৃত তিন জেলের বর্তমান অবস্থান, তাঁদের উদ্ধারে কোনো অভিযান শুরু হয়েছে কি না এবং মুক্তিপণের দাবির বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের নিরাপত্তা দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণের অভিযোগ সত্য হলে, এই ঘটনায় তিন জেলের জীবন রক্ষায় দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
একই সঙ্গে অপহৃত জেলেদের পরিবারের ওপর মুক্তিপণের অর্থ জোগাড়ের চাপও তৈরি হতে পারে। তাই অভিযোগ যাচাই, অপহৃতদের অবস্থান শনাক্ত এবং তাঁদের নিরাপদে উদ্ধারে বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের তথ্য সামনে না আসা পর্যন্ত অপহরণের দায় ও ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে সতর্কভাবে প্রতিবেদন করা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬
সাতক্ষীরা রেঞ্জের পশ্চিম সুন্দরবনে মুক্তিপণের দাবিতে তিন জেলেকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে বনদস্যু জিয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, রোববার (১১ অক্টোবর) বাদুড়ঝুলি খালে মাছ ধরার সময় চার জেলেকে অপহরণ করা হয়। পরে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ নিয়ে একজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি তিন জেলেকে মুক্তি দিতে দেড় লাখ টাকা দাবি করেছে অপহরণকারীরা।
মুক্তি পাওয়া জেলের নাম খোকা গাজী (৩২)। তিনি গাবুরার ৯ নম্বর সোরা গ্রামের রুস্তুম গাজীর ছেলে। মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে অন্য একটি জেলে নৌকায় করে তিনি বাড়িতে ফেরেন।
অপহৃত তিন জেলে হলেন একই গ্রামের হযরত পাড়ের ছেলে মাছুম পাড় (৩০), কেনা শেখের ছেলে আহম্মদ শেখ (২৫) এবং সাইদুল গাজীর ছেলে শহিদ গাজী (২৫)।
স্থানীয় আবিয়ার গাজী পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানান, পাঁচ দিন আগে বুড়িগোয়ালিনী বন কার্যালয় থেকে মাছ ধরার অনুমতি নিয়ে চার জেলে সুন্দরবনে প্রবেশ করেন।
একপর্যায়ে বাদুড়ঝুলি খালে মাছ ধরার সময় রাত ৯টার দিকে অস্ত্রধারী বনদস্যু জিয়া বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের অপহরণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরে পারিবারিক দেনদরবারের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ নিয়ে খোকা গাজীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে বাকি তিন জেলে এখনো অপহরণকারীদের কাছে রয়েছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় আবিয়ার গাজীর ভাষ্য অনুযায়ী, অপহৃত তিন জেলেকে মুক্তি দিতে দেড় লাখ টাকা দাবি করেছে বনদস্যুরা। টাকা না দিলে তাঁদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এ ঘটনায় অপহৃত জেলেদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের নিরাপদে উদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, জেলে অপহরণের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে বন বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে অপহৃত তিন জেলের বর্তমান অবস্থান, তাঁদের উদ্ধারে কোনো অভিযান শুরু হয়েছে কি না এবং মুক্তিপণের দাবির বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের নিরাপত্তা দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণের অভিযোগ সত্য হলে, এই ঘটনায় তিন জেলের জীবন রক্ষায় দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
একই সঙ্গে অপহৃত জেলেদের পরিবারের ওপর মুক্তিপণের অর্থ জোগাড়ের চাপও তৈরি হতে পারে। তাই অভিযোগ যাচাই, অপহৃতদের অবস্থান শনাক্ত এবং তাঁদের নিরাপদে উদ্ধারে বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের তথ্য সামনে না আসা পর্যন্ত অপহরণের দায় ও ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে সতর্কভাবে প্রতিবেদন করা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন