ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর ও রংপুর সিটি করপোরেশনের সড়ক, ড্রেনেজ ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নে ৫ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।
অনুমোদিত প্রকল্পের আওতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডে সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প শুরুর দুই বছরের মধ্যে সমন্বিত পয়োনিষ্কাশন পরিকল্পনা (এসটিপি) যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ঢাকা দক্ষিণের প্রকল্পে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনে সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নের পাশাপাশি নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ করা হবে।
অন্যদিকে রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসনের জন্যও প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
সিটি করপোরেশনগুলোর এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সড়ক যোগাযোগ, পানি নিষ্কাশন এবং নগরবাসীর দৈনন্দিন চলাচলের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি তৈরি হতে পারে।
একনেক সভায় সড়ক ও অবকাঠামো প্রকল্পের মান নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী—এমন তথ্য জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কোনো রাস্তা বা অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের পর তিন বছরের মধ্যে সমস্যা দেখা দিলে ঠিকাদারকে নিজ দায়িত্বে তা মেরামত করে দিতে হবে। এ বাধ্যবাধকতা প্রকল্পে যুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নগর উন্নয়ন প্রকল্পে শুধু নির্মাণ শেষ করাই নয়, কাজের মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিটি করপোরেশনগুলোর এসব প্রকল্প নির্বাচনী প্রস্তুতির সঙ্গে সম্পর্কিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পগুলোর প্রস্তুতি অনেক আগে থেকেই চলছে। নির্বাচনী প্রস্তুতির সঙ্গে এসব প্রকল্পের সম্পর্ক নেই।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে সিটি করপোরেশনগুলোর উন্নয়নে আরও প্রকল্প আসবে।
বুধবারের একনেক সভায় সিটি করপোরেশনের চার প্রকল্পসহ মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকা।
এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, প্রকল্প ঋণ ৪ হাজার ৮৫ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২০ কোটি টাকা।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্পও রয়েছে।
রামপালের ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রথমে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খরচ ছয় টাকা ধরা হয়েছিল। পরে চার ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ যুক্ত করায় তা বেড়ে নয় টাকা হয়েছে।
এখন প্রধানমন্ত্রী ব্যাটারি ব্যাকআপ আট ঘণ্টা করার নির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে প্রকল্পটির ব্যয় আরও কিছুটা বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।
একনেকে সিটি করপোরেশনের চার প্রকল্প ছাড়াও আরও যেসব প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
এ ছাড়া ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের একটি প্রকল্প পরিকল্পনামন্ত্রী ইতোমধ্যে অনুমোদন করেছেন। বিষয়টি একনেক সভাকে অবহিত করা হয়েছে।

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর ও রংপুর সিটি করপোরেশনের সড়ক, ড্রেনেজ ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নে ৫ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।
অনুমোদিত প্রকল্পের আওতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডে সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প শুরুর দুই বছরের মধ্যে সমন্বিত পয়োনিষ্কাশন পরিকল্পনা (এসটিপি) যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ঢাকা দক্ষিণের প্রকল্পে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনে সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নের পাশাপাশি নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ করা হবে।
অন্যদিকে রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসনের জন্যও প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
সিটি করপোরেশনগুলোর এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সড়ক যোগাযোগ, পানি নিষ্কাশন এবং নগরবাসীর দৈনন্দিন চলাচলের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি তৈরি হতে পারে।
একনেক সভায় সড়ক ও অবকাঠামো প্রকল্পের মান নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী—এমন তথ্য জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কোনো রাস্তা বা অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের পর তিন বছরের মধ্যে সমস্যা দেখা দিলে ঠিকাদারকে নিজ দায়িত্বে তা মেরামত করে দিতে হবে। এ বাধ্যবাধকতা প্রকল্পে যুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নগর উন্নয়ন প্রকল্পে শুধু নির্মাণ শেষ করাই নয়, কাজের মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিটি করপোরেশনগুলোর এসব প্রকল্প নির্বাচনী প্রস্তুতির সঙ্গে সম্পর্কিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পগুলোর প্রস্তুতি অনেক আগে থেকেই চলছে। নির্বাচনী প্রস্তুতির সঙ্গে এসব প্রকল্পের সম্পর্ক নেই।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে সিটি করপোরেশনগুলোর উন্নয়নে আরও প্রকল্প আসবে।
বুধবারের একনেক সভায় সিটি করপোরেশনের চার প্রকল্পসহ মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকা।
এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, প্রকল্প ঋণ ৪ হাজার ৮৫ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২০ কোটি টাকা।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্পও রয়েছে।
রামপালের ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রথমে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খরচ ছয় টাকা ধরা হয়েছিল। পরে চার ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ যুক্ত করায় তা বেড়ে নয় টাকা হয়েছে।
এখন প্রধানমন্ত্রী ব্যাটারি ব্যাকআপ আট ঘণ্টা করার নির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে প্রকল্পটির ব্যয় আরও কিছুটা বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।
একনেকে সিটি করপোরেশনের চার প্রকল্প ছাড়াও আরও যেসব প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
এ ছাড়া ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের একটি প্রকল্প পরিকল্পনামন্ত্রী ইতোমধ্যে অনুমোদন করেছেন। বিষয়টি একনেক সভাকে অবহিত করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন