দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ২৩ ভারতীয় ক্রুবাহী তেল ট্যাঙ্কারে আগুন

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ২৩ ভারতীয় ক্রুবাহী তেল ট্যাঙ্কারে আগুন

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব, আক্রান্ত প্রায় ৩ হাজার ৯০০

দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্র সঙ্গ না দিলেও ইরানে হামলার প্রস্তুতি ইসরায়েলের

কাশ্মীরে ১৫০ বাংলাদেশিকে আটকের দাবি ভারতের, ৭ অক্টোবর ফেরত পাঠানোর কথা

‘মক্কা-মদিনা ছাড়া পুরো সৌদি আকাশসীমা হামলার জন্য উন্মুক্ত’: হুথিদের হুঁশিয়ারি

রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ও মজুদ ছাড়ায় বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

ইরানের হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি থেকে বি-১ বোমারু বিমান সরাল যুক্তরাষ্ট্র

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ২৩ ভারতীয় ক্রুবাহী তেল ট্যাঙ্কারে আগুন

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ২৩ ভারতীয় ক্রুবাহী তেল ট্যাঙ্কারে আগুন
রাশিয়ার সোচির কাছে কৃষ্ণসাগরে ড্রোন হামলার পর তেল ট্যাঙ্কারে আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।

রাশিয়ার উপকূলের কাছে কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার ঘটনায় ২৩ জন ভারতীয় নাবিককে বহনকারী লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি তেল ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। হামলার পর জাহাজটিতে থাকা সব ক্রুকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, সমুদ্রচলতি ড্রোনের হামলায় ট্যাঙ্কারটিতে আগুন ধরে যায়। আগুনের তীব্রতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

রুশ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর ট্যাঙ্কার থেকে কৃষ্ণসাগরের পানিতে অপরিশোধিত তেল ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।

দুর্ঘটনাস্থলে আগুন ও ধোঁয়ার তীব্রতা কিছুটা কমে এলে ফায়ার সার্ভিসের দল আবারও আগুন নেভানোর কাজ শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সোচির কাছে সমুদ্রের ওপর তীব্র কমলা রঙের আগুনের শিখা এবং আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে রাশিয়ার বিখ্যাত পর্যটন শহর সোচির কাছাকাছি সমুদ্র এলাকায়। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের এই শহরের উপকূলে আগুন ও ধোঁয়ার কারণে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয় মেয়র নিরাপত্তার স্বার্থে সমুদ্রসৈকত ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

তেল ছড়িয়ে পড়ার কারণে সামুদ্রিক পরিবেশের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট নয়। তবে আগুনের পাশাপাশি অপরিশোধিত তেল পানিতে ছড়িয়ে পড়ায় পরিবেশগত ঝুঁকির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

এর মাত্র একদিন আগে রোমানিয়ার উপকূলে আরেকটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের পর সেটি ডুবে যায়। ওই ঘটনায় একজন নিহত ও একজন নিখোঁজ হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউক্রেনের দাবি অনুযায়ী, রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ওই জাহাজে আগুন লাগে এবং একজন ভারতীয় নাবিক আহত হন।

তবে এসব হামলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে ঘটনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।

২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কৃষ্ণসাগর ও আশপাশের সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সাম্প্রতিক সময়ে আরও বিস্তৃত হয়েছে। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার শহরগুলোতে নিয়মিত হামলার জবাবে তারা রাশিয়ার তেল অবকাঠামো ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।

অন্যদিকে রাশিয়াও ইউক্রেনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও শহরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

কৃষ্ণসাগরীয় এলাকায় এর আগের হামলাগুলোতেও তেল ছড়িয়ে পড়া, সৈকত বন্ধ করে দেওয়া এবং পরিবেশগত ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

কৃষ্ণসাগর শুধু যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক এলাকা নয়; এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনেরও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। ফলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বাড়লে জাহাজ চলাচল, বিমা ব্যয় এবং পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে কোনো জাহাজে বিদেশি নাগরিক থাকলে হামলার প্রভাব সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কূটনৈতিক পর্যায়েও পৌঁছাতে পারে। এবার ২৩ জন ভারতীয় নাবিক নিরাপদে উদ্ধার হওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে।

বিষয় : ইউক্রেনের ড্রোন হামলা কৃষ্ণসাগরে তেল ট্যাঙ্কারে আগুন কৃষ্ণসাগরে জাহাজে হামলা সোচিতে তেল ট্যাঙ্কারে আগুন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ২৩ ভারতীয় ক্রুবাহী তেল ট্যাঙ্কারে আগুন

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাশিয়ার উপকূলের কাছে কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার ঘটনায় ২৩ জন ভারতীয় নাবিককে বহনকারী লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি তেল ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। হামলার পর জাহাজটিতে থাকা সব ক্রুকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, সমুদ্রচলতি ড্রোনের হামলায় ট্যাঙ্কারটিতে আগুন ধরে যায়। আগুনের তীব্রতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

রুশ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর ট্যাঙ্কার থেকে কৃষ্ণসাগরের পানিতে অপরিশোধিত তেল ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।

দুর্ঘটনাস্থলে আগুন ও ধোঁয়ার তীব্রতা কিছুটা কমে এলে ফায়ার সার্ভিসের দল আবারও আগুন নেভানোর কাজ শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সোচির কাছে সমুদ্রের ওপর তীব্র কমলা রঙের আগুনের শিখা এবং আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে রাশিয়ার বিখ্যাত পর্যটন শহর সোচির কাছাকাছি সমুদ্র এলাকায়। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের এই শহরের উপকূলে আগুন ও ধোঁয়ার কারণে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয় মেয়র নিরাপত্তার স্বার্থে সমুদ্রসৈকত ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

তেল ছড়িয়ে পড়ার কারণে সামুদ্রিক পরিবেশের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট নয়। তবে আগুনের পাশাপাশি অপরিশোধিত তেল পানিতে ছড়িয়ে পড়ায় পরিবেশগত ঝুঁকির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

এর মাত্র একদিন আগে রোমানিয়ার উপকূলে আরেকটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের পর সেটি ডুবে যায়। ওই ঘটনায় একজন নিহত ও একজন নিখোঁজ হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউক্রেনের দাবি অনুযায়ী, রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ওই জাহাজে আগুন লাগে এবং একজন ভারতীয় নাবিক আহত হন।

তবে এসব হামলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে ঘটনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।

২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কৃষ্ণসাগর ও আশপাশের সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সাম্প্রতিক সময়ে আরও বিস্তৃত হয়েছে। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার শহরগুলোতে নিয়মিত হামলার জবাবে তারা রাশিয়ার তেল অবকাঠামো ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।

অন্যদিকে রাশিয়াও ইউক্রেনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও শহরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

কৃষ্ণসাগরীয় এলাকায় এর আগের হামলাগুলোতেও তেল ছড়িয়ে পড়া, সৈকত বন্ধ করে দেওয়া এবং পরিবেশগত ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

কৃষ্ণসাগর শুধু যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক এলাকা নয়; এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনেরও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। ফলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বাড়লে জাহাজ চলাচল, বিমা ব্যয় এবং পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে কোনো জাহাজে বিদেশি নাগরিক থাকলে হামলার প্রভাব সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কূটনৈতিক পর্যায়েও পৌঁছাতে পারে। এবার ২৩ জন ভারতীয় নাবিক নিরাপদে উদ্ধার হওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর