দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

পঞ্চগড় সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ভারতে ফেরত

পঞ্চগড় সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ভারতে ফেরত

যান্ত্রিক ত্রুটিতে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ

দুর্দিনেও শতবর্ষের নৌকা তৈরির পেশা আঁকড়ে চাপাতলীর কারিগররা

বন্ধুকে বাসায় দাওয়াত দিয়ে জিম্মি, ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি; গ্রেপ্তার ২

শীতের আগমনী বার্তাতেও রাজধানীর সবজিবাজারে স্বস্তি নেই

২ সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা দিয়ে চলছে ১৮০ স্কুল, ১১৭টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডেঙ্গুতে ১০ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ২৮৮২

বাউফলে গভীর রাতে মিনিটের ব্যবধানে ৪ বিস্ফোরণের শব্দ, আতঙ্ক

যান্ত্রিক ত্রুটিতে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ

যান্ত্রিক ত্রুটিতে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটেরই বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের কোনোটিতেই এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে যান্ত্রিক ত্রুটিতে প্রথম ও তৃতীয় ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেন্দ্রটির উৎপাদন পুরোপুরি থেমে গেছে।

৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার এই কেন্দ্র থেকে বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে এক ইউনিট বিদ্যুৎও সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এর আগে ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিট।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়।

কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিটটি চালুর জন্য মেরামতের কাজ চলছিল। এর মধ্যেই মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোর ৫টা ৫ মিনিটে সাব-স্টেশনের একটি ইক্যুইপমেন্ট নষ্ট হয়ে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার তৃতীয় ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে যায়।

ফলে একই সময়ে প্রথম ও তৃতীয় ইউনিট বন্ধ থাকায় কেন্দ্রটির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া তৃতীয় ইউনিট থেকে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১৬০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো।

অন্যদিকে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে দেওয়া হতো।

অর্থাৎ দুটি ইউনিট সচল থাকলে বাস্তবে কেন্দ্রটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ২১০ থেকে ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতো। এখন সেই সরবরাহও বন্ধ রয়েছে।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। ইউনিটটির উৎপাদন ক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট।

ফলে বর্তমানে কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটের মধ্যে দুটি নতুন করে বন্ধ হওয়ার পর আর কোনো ইউনিট সচল নেই। দীর্ঘদিন ধরে একটি ইউনিট বন্ধ থাকার পর বাকি দুটি ইউনিটের একসঙ্গে অচল হয়ে পড়ায় কেন্দ্রটির ওপর নির্ভরশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রথম ও তৃতীয় ইউনিটের ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে।

চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনালের একটি দল ইতোমধ্যে কেন্দ্রটিতে কাজ করছে। প্রকৌশলীরা যান্ত্রিক ত্রুটির পাশাপাশি তৃতীয় ইউনিটের সাব-স্টেশনের নষ্ট হয়ে যাওয়া ইক্যুইপমেন্ট মেরামতের চেষ্টা করছেন।

তবে ইউনিট দুটি কবে নাগাদ পুনরায় উৎপাদনে ফিরবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। স্থানীয় বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে পাওয়া কয়লা ব্যবহার করে এই কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

কেন্দ্রটির একাধিক ইউনিট দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকলে শুধু উৎপাদন ক্ষমতার ব্যবহার কমে না, জাতীয় গ্রিডের ওপরও বাড়তি চাপ পড়ে। বিশেষ করে চাহিদার সময় কোনো বড় উৎপাদন কেন্দ্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে অন্য কেন্দ্রগুলো থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজন হয়।

বিষয় : বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র ড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ দিনাজপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


যান্ত্রিক ত্রুটিতে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের কোনোটিতেই এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে যান্ত্রিক ত্রুটিতে প্রথম ও তৃতীয় ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেন্দ্রটির উৎপাদন পুরোপুরি থেমে গেছে।

৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার এই কেন্দ্র থেকে বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে এক ইউনিট বিদ্যুৎও সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এর আগে ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিট।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়।

কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিটটি চালুর জন্য মেরামতের কাজ চলছিল। এর মধ্যেই মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোর ৫টা ৫ মিনিটে সাব-স্টেশনের একটি ইক্যুইপমেন্ট নষ্ট হয়ে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার তৃতীয় ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে যায়।

ফলে একই সময়ে প্রথম ও তৃতীয় ইউনিট বন্ধ থাকায় কেন্দ্রটির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া তৃতীয় ইউনিট থেকে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১৬০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো।

অন্যদিকে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে দেওয়া হতো।

অর্থাৎ দুটি ইউনিট সচল থাকলে বাস্তবে কেন্দ্রটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ২১০ থেকে ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতো। এখন সেই সরবরাহও বন্ধ রয়েছে।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। ইউনিটটির উৎপাদন ক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট।

ফলে বর্তমানে কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটের মধ্যে দুটি নতুন করে বন্ধ হওয়ার পর আর কোনো ইউনিট সচল নেই। দীর্ঘদিন ধরে একটি ইউনিট বন্ধ থাকার পর বাকি দুটি ইউনিটের একসঙ্গে অচল হয়ে পড়ায় কেন্দ্রটির ওপর নির্ভরশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রথম ও তৃতীয় ইউনিটের ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে।

চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনালের একটি দল ইতোমধ্যে কেন্দ্রটিতে কাজ করছে। প্রকৌশলীরা যান্ত্রিক ত্রুটির পাশাপাশি তৃতীয় ইউনিটের সাব-স্টেশনের নষ্ট হয়ে যাওয়া ইক্যুইপমেন্ট মেরামতের চেষ্টা করছেন।

তবে ইউনিট দুটি কবে নাগাদ পুনরায় উৎপাদনে ফিরবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। স্থানীয় বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে পাওয়া কয়লা ব্যবহার করে এই কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

কেন্দ্রটির একাধিক ইউনিট দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকলে শুধু উৎপাদন ক্ষমতার ব্যবহার কমে না, জাতীয় গ্রিডের ওপরও বাড়তি চাপ পড়ে। বিশেষ করে চাহিদার সময় কোনো বড় উৎপাদন কেন্দ্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে অন্য কেন্দ্রগুলো থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজন হয়।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর