চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় জনবল সংকটে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার ১৮০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১৭টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক। অন্যদিকে পুরো উপজেলার শিক্ষা কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র দুজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা।
শুধু বিদ্যালয়েই নয়, উপজেলা শিক্ষা অফিসেও রয়েছে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, তিনটি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা, কম্পিউটার অপারেটর, উচ্চমান সহকারী ও অফিস সহায়কসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। এতে বিদ্যালয় পরিদর্শন, প্রশাসনিক কাজ ও দাপ্তরিক কার্যক্রম সমন্বয়ে চাপ বাড়ছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, মতলব উত্তর উপজেলায় মোট ১৮০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন ১ হাজার ৮৩ জন। এসব বিদ্যালয়ে দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী রয়েছেন ১১৩ জন।
তবে বিদ্যালয়ের তুলনায় প্রশাসনিক ও নেতৃত্বের পর্যায়ে জনবলের ঘাটতি প্রকট। ১৮০ বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১৭টিতে প্রধান শিক্ষক না থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠানেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
প্রধান শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত পাঠদান থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, শিক্ষক সমন্বয়, দাপ্তরিক যোগাযোগ ও বিভিন্ন সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মতলব উত্তর আয়তন ও বিদ্যালয়ের সংখ্যার দিক থেকে বড় উপজেলা। অথচ উপজেলা শিক্ষা অফিসে বর্তমানে মাত্র দুজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা দিয়ে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।
এর সঙ্গে রয়েছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পদসহ অন্যান্য দাপ্তরিক পদ শূন্য থাকার সমস্যা। ফলে সীমিত জনবল দিয়ে নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষক-সংক্রান্ত প্রশাসনিক কাজ, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে কর্মকর্তাদের।
নাউরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবুল খায়ের মো. বাহাউদ্দিন বলেন, “একটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকলে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় নানা ধরনের সমস্যা হয়। অনেক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। এতে শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।”
উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুল বাতেন বলেন, “প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলা শিক্ষা অফিসেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় বিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ সমন্বয় করতে সমস্যা হচ্ছে। শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করা জরুরি।”
শিক্ষকদের ভাষ্য, একটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক শুধু প্রশাসনিক দায়িত্বই পালন করেন না; শিক্ষক সমন্বয়, পাঠদানের মান পর্যবেক্ষণ, অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ফলে দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকলে এর প্রভাব বিদ্যালয়ের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় পড়তে পারে।
জনবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জামাল হোসেন বলেন, “জনবল সংকটের কারণে আমাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে সীমিত জনবল নিয়েই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”
সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা বেগম বলেন, “সারা বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় জনবল সংকট রয়েছে। মতলব উত্তর উপজেলায় প্রধান শিক্ষকসহ কিছু পদ শূন্য রয়েছে, বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ে চাহিদা পাঠিয়েছি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, “উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দুজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা দিয়ে পুরো উপজেলার শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা সত্যিই কষ্টসাধ্য। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জনবল বৃদ্ধির জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।”
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এতগুলো বিদ্যালয়ের নিয়মিত তদারকি ও প্রশাসনিক কাজ কতটা কার্যকরভাবে করা সম্ভব হচ্ছে। একজন প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব নেওয়া সহকারী শিক্ষকের ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাদেরও সীমিত জনবল দিয়ে বিপুলসংখ্যক বিদ্যালয় তদারক করতে হচ্ছে।
প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিদ্যালয়ের নেতৃত্ব ও নিয়মিত তদারকি গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা শিক্ষা প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় দুর্বল হলে ছোটখাটো প্রশাসনিক সমস্যা থেকেও দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় জনবল সংকটে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার ১৮০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১৭টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক। অন্যদিকে পুরো উপজেলার শিক্ষা কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র দুজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা।
শুধু বিদ্যালয়েই নয়, উপজেলা শিক্ষা অফিসেও রয়েছে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, তিনটি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা, কম্পিউটার অপারেটর, উচ্চমান সহকারী ও অফিস সহায়কসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। এতে বিদ্যালয় পরিদর্শন, প্রশাসনিক কাজ ও দাপ্তরিক কার্যক্রম সমন্বয়ে চাপ বাড়ছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, মতলব উত্তর উপজেলায় মোট ১৮০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন ১ হাজার ৮৩ জন। এসব বিদ্যালয়ে দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী রয়েছেন ১১৩ জন।
তবে বিদ্যালয়ের তুলনায় প্রশাসনিক ও নেতৃত্বের পর্যায়ে জনবলের ঘাটতি প্রকট। ১৮০ বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১৭টিতে প্রধান শিক্ষক না থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠানেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
প্রধান শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত পাঠদান থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, শিক্ষক সমন্বয়, দাপ্তরিক যোগাযোগ ও বিভিন্ন সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মতলব উত্তর আয়তন ও বিদ্যালয়ের সংখ্যার দিক থেকে বড় উপজেলা। অথচ উপজেলা শিক্ষা অফিসে বর্তমানে মাত্র দুজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা দিয়ে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।
এর সঙ্গে রয়েছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পদসহ অন্যান্য দাপ্তরিক পদ শূন্য থাকার সমস্যা। ফলে সীমিত জনবল দিয়ে নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষক-সংক্রান্ত প্রশাসনিক কাজ, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে কর্মকর্তাদের।
নাউরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবুল খায়ের মো. বাহাউদ্দিন বলেন, “একটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকলে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় নানা ধরনের সমস্যা হয়। অনেক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। এতে শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।”
উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুল বাতেন বলেন, “প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলা শিক্ষা অফিসেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় বিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ সমন্বয় করতে সমস্যা হচ্ছে। শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করা জরুরি।”
শিক্ষকদের ভাষ্য, একটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক শুধু প্রশাসনিক দায়িত্বই পালন করেন না; শিক্ষক সমন্বয়, পাঠদানের মান পর্যবেক্ষণ, অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ফলে দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকলে এর প্রভাব বিদ্যালয়ের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় পড়তে পারে।
জনবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জামাল হোসেন বলেন, “জনবল সংকটের কারণে আমাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে সীমিত জনবল নিয়েই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”
সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা বেগম বলেন, “সারা বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় জনবল সংকট রয়েছে। মতলব উত্তর উপজেলায় প্রধান শিক্ষকসহ কিছু পদ শূন্য রয়েছে, বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ে চাহিদা পাঠিয়েছি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, “উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দুজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা দিয়ে পুরো উপজেলার শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা সত্যিই কষ্টসাধ্য। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জনবল বৃদ্ধির জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।”
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এতগুলো বিদ্যালয়ের নিয়মিত তদারকি ও প্রশাসনিক কাজ কতটা কার্যকরভাবে করা সম্ভব হচ্ছে। একজন প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব নেওয়া সহকারী শিক্ষকের ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাদেরও সীমিত জনবল দিয়ে বিপুলসংখ্যক বিদ্যালয় তদারক করতে হচ্ছে।
প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিদ্যালয়ের নেতৃত্ব ও নিয়মিত তদারকি গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা শিক্ষা প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় দুর্বল হলে ছোটখাটো প্রশাসনিক সমস্যা থেকেও দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন