জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে হতাহতের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা ও হত্যাচেষ্টার দুই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে মামলায় সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ১০৫ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
মামলা দুটি হলো—নাদিম হত্যাচেষ্টা মামলা ও বাবুল মৃধা হত্যা মামলা। যাত্রাবাড়ী থানার দুই উপপরিদর্শক পৃথকভাবে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এ মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি আসামি করা হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ঢাকার সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে।
এই মামলায় সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় বেশ কয়েকজনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন ও আনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও সচিব আনিসুর রহমান, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সাবেক সদস্য ও সাবেক সচিব ফয়েজ আহমেদ এবং সাবেক মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া ও আহমেদ কায়কাউস।
এ ছাড়া সাবেক সিনিয়র সচিব মেজবাউদ্দিন চৌধুরী, সাবেক আইজিপি শহিদুল হক, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার এস এম মেহেদী হাসান এবং দৈনিক স্টার লাইনের নির্বাহী সম্পাদক মাঈন উদ্দিনের নামও অব্যাহতির সুপারিশের তালিকায় রয়েছে।
এ মামলায় অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ৩৯ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
বাবুল মৃধা হত্যা মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এবং সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত।
এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, যাত্রাবাড়ী-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, পটুয়াখালী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা, পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজ, বরিশাল-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথ এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহও রয়েছেন।
অব্যাহতির সুপারিশ করা ৩৯ জনের মধ্যে রয়েছেন ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আতিকুর রহমান, ৬৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান, যাত্রাবাড়ী থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অর্থ দাস, রবিন খান ওরফে মেকআপ রবিন, মনির আহমেদ ও লুৎফুর রহমান।
তবে অভিযোগপত্রে নাম থাকা মানেই কারও অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে।

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে হতাহতের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা ও হত্যাচেষ্টার দুই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে মামলায় সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ১০৫ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
মামলা দুটি হলো—নাদিম হত্যাচেষ্টা মামলা ও বাবুল মৃধা হত্যা মামলা। যাত্রাবাড়ী থানার দুই উপপরিদর্শক পৃথকভাবে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এ মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি আসামি করা হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ঢাকার সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে।
এই মামলায় সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় বেশ কয়েকজনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন ও আনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও সচিব আনিসুর রহমান, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সাবেক সদস্য ও সাবেক সচিব ফয়েজ আহমেদ এবং সাবেক মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া ও আহমেদ কায়কাউস।
এ ছাড়া সাবেক সিনিয়র সচিব মেজবাউদ্দিন চৌধুরী, সাবেক আইজিপি শহিদুল হক, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার এস এম মেহেদী হাসান এবং দৈনিক স্টার লাইনের নির্বাহী সম্পাদক মাঈন উদ্দিনের নামও অব্যাহতির সুপারিশের তালিকায় রয়েছে।
এ মামলায় অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ৩৯ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
বাবুল মৃধা হত্যা মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এবং সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত।
এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, যাত্রাবাড়ী-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, পটুয়াখালী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা, পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজ, বরিশাল-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথ এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহও রয়েছেন।
অব্যাহতির সুপারিশ করা ৩৯ জনের মধ্যে রয়েছেন ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আতিকুর রহমান, ৬৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান, যাত্রাবাড়ী থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অর্থ দাস, রবিন খান ওরফে মেকআপ রবিন, মনির আহমেদ ও লুৎফুর রহমান।
তবে অভিযোগপত্রে নাম থাকা মানেই কারও অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে।

আপনার মতামত লিখুন