দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও চালুর বিষয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুধু নতুন কর্মী পাঠানো নয়, মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন জটিলতায় আটকে থাকা বাংলাদেশিদের সমস্যাও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
দুই দিনের সরকারি সফরে রোববার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এ আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো বন্ধ থাকায় বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করা হবে।
স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে তাকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে রাজধানীর শাংগ্রি-লা হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নানা প্রশাসনিক ও নীতিগত কারণে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়া বন্ধ রয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে হাজারো কর্মপ্রত্যাশী এবং তাদের পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
তিনি জানান, শুধু নতুন শ্রমবাজার চালুর বিষয় নয়, মালয়েশিয়ায় অবস্থান করেও নানা জটিলতায় দেশে ফিরতে না পারা বাংলাদেশিদের বিষয়েও আলোচনা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ সমস্যা সমাধানে দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ভবিষ্যতে অদক্ষ শ্রমিক পাঠানোর পরিবর্তে দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিদেশে কর্মসংস্থানের আগে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে যাতে বাংলাদেশি কর্মীরা আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হতে পারেন।
তার মতে, শুধু কর্মী পাঠালেই হবে না, দক্ষতা বাড়িয়ে বেশি আয় ও উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।
মালয়েশিয়া বর্তমানে সেমিকন্ডাক্টর ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খাতগুলোতে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, শ্রমবাজারের পাশাপাশি প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা গেলে বাংলাদেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগও বাড়তে পারে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয় অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। প্রতি বছর বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠান। মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি শ্রমিকদের একটি বড় গন্তব্য হলেও বিভিন্ন কারণে শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর সফর শুধু কূটনৈতিক সফর নয়, বরং শ্রমবাজার পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মতবিনিময় সভায় শ্রমবাজারের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়টি বিশেষভাবে সামনে এসেছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে ভবিষ্যতে শুধু শ্রমিক রপ্তানির সংখ্যা নয়, তাদের দক্ষতা ও আয় বৃদ্ধিকেও সরকারের নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হতে পারে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের বর্তমান বাস্তবতায় এটিই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে কার্যকর কৌশল বলে মনে করছেন অনেক অর্থনীতি বিশ্লেষক।
• মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা হবে।
• আটকে থাকা বাংলাদেশিদের সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
• দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে প্রশিক্ষণভিত্তিক কর্মসূচির কথা বলা হয়েছে।
• সেমিকন্ডাক্টর ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাংলাদেশের লাখো পরিবারের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই শ্রমবাজার চালুর যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয় সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। অনেক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নতুন নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে যাওয়ার আগে দক্ষতা অর্জন ও বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়েও সচেতন থাকা জরুরি।
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান ও তার সহধর্মিণী। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী, ডেপুটি হাইকমিশনার সাহানারা মনিকা এবং অন্যান্য কূটনৈতিক কর্মকর্তা। সফর উপলক্ষে বিমানবন্দর থেকে শাংগ্রি-লা হোটেল পর্যন্ত সড়কপথ দুই দেশের জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হয়।

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও চালুর বিষয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুধু নতুন কর্মী পাঠানো নয়, মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন জটিলতায় আটকে থাকা বাংলাদেশিদের সমস্যাও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
দুই দিনের সরকারি সফরে রোববার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এ আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো বন্ধ থাকায় বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করা হবে।
স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে তাকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে রাজধানীর শাংগ্রি-লা হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নানা প্রশাসনিক ও নীতিগত কারণে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়া বন্ধ রয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে হাজারো কর্মপ্রত্যাশী এবং তাদের পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
তিনি জানান, শুধু নতুন শ্রমবাজার চালুর বিষয় নয়, মালয়েশিয়ায় অবস্থান করেও নানা জটিলতায় দেশে ফিরতে না পারা বাংলাদেশিদের বিষয়েও আলোচনা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ সমস্যা সমাধানে দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ভবিষ্যতে অদক্ষ শ্রমিক পাঠানোর পরিবর্তে দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিদেশে কর্মসংস্থানের আগে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে যাতে বাংলাদেশি কর্মীরা আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হতে পারেন।
তার মতে, শুধু কর্মী পাঠালেই হবে না, দক্ষতা বাড়িয়ে বেশি আয় ও উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।
মালয়েশিয়া বর্তমানে সেমিকন্ডাক্টর ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খাতগুলোতে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, শ্রমবাজারের পাশাপাশি প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা গেলে বাংলাদেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগও বাড়তে পারে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয় অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। প্রতি বছর বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠান। মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি শ্রমিকদের একটি বড় গন্তব্য হলেও বিভিন্ন কারণে শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর সফর শুধু কূটনৈতিক সফর নয়, বরং শ্রমবাজার পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মতবিনিময় সভায় শ্রমবাজারের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়টি বিশেষভাবে সামনে এসেছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে ভবিষ্যতে শুধু শ্রমিক রপ্তানির সংখ্যা নয়, তাদের দক্ষতা ও আয় বৃদ্ধিকেও সরকারের নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হতে পারে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের বর্তমান বাস্তবতায় এটিই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে কার্যকর কৌশল বলে মনে করছেন অনেক অর্থনীতি বিশ্লেষক।
• মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা হবে।
• আটকে থাকা বাংলাদেশিদের সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
• দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে প্রশিক্ষণভিত্তিক কর্মসূচির কথা বলা হয়েছে।
• সেমিকন্ডাক্টর ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাংলাদেশের লাখো পরিবারের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই শ্রমবাজার চালুর যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয় সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। অনেক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নতুন নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে যাওয়ার আগে দক্ষতা অর্জন ও বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়েও সচেতন থাকা জরুরি।
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান ও তার সহধর্মিণী। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী, ডেপুটি হাইকমিশনার সাহানারা মনিকা এবং অন্যান্য কূটনৈতিক কর্মকর্তা। সফর উপলক্ষে বিমানবন্দর থেকে শাংগ্রি-লা হোটেল পর্যন্ত সড়কপথ দুই দেশের জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন