নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ আহসানগঞ্জ রেল স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন একের পর এক ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেন ছুটে গেলেও বেশির ভাগ ট্রেন সেখানে থামে না। ফলে ঢাকা যাতায়াতের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নওগাঁ, রাজশাহী, নাটোর ও বগুড়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন ৯টি ঢাকাগামী ট্রেন স্টেশন অতিক্রম করলেও মাত্র দুটি ট্রেনের যাত্রাবিরতি থাকায় যাত্রীদের টিকিট সংকট, অতিরিক্ত ভিড় এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে ভ্রমণ করতে হচ্ছে।
এ অবস্থায় আহসানগঞ্জ রেল স্টেশনে সব ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী, নিয়মিত যাত্রী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন হিসেবে পরিচিত আহসানগঞ্জ। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে শুধু আত্রাই উপজেলা নয়, আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষের কাছেও এটি সবচেয়ে সহজলভ্য রেল যোগাযোগের কেন্দ্র।
স্টেশনটির উত্তরে রাণীনগর, পশ্চিমে রাজশাহীর বাগমারা, দক্ষিণে নাটোরের নলডাঙ্গা ও সিংড়া এবং পূর্বদিকে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা অবস্থিত। ফলে প্রতিদিন হাজারো মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, চাকরি, ব্যবসা ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনসহ নানা কাজে ঢাকা যাতায়াতের জন্য এই স্টেশনের ওপর নির্ভরশীল।
স্থানীয়দের মতে, এত বড় জনগোষ্ঠীর জন্য মাত্র দুটি ট্রেনের যাত্রাবিরতি কোনোভাবেই পর্যাপ্ত নয়।
বর্তমানে ব্রডগেজ লাইনের চিলাহাটি এক্সপ্রেস, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস, নীলসাগর এক্সপ্রেস ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস এবং মিটারগেজ লাইনের লালমনি এক্সপ্রেস, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস, রংপুর এক্সপ্রেস ও বুড়িমারী এক্সপ্রেস আহসানগঞ্জ স্টেশনের ওপর দিয়ে চলাচল করে।
কিন্তু এসব ট্রেনের মধ্যে কেবল নীলসাগর এক্সপ্রেস ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। বাকি ট্রেনগুলো স্টেশন অতিক্রম করলেও যাত্রী ওঠানামার সুযোগ থাকে না।
ফলে দুটি ট্রেনের টিকিটের ওপর নির্ভর করতে হয় পুরো অঞ্চলের যাত্রীদের। এতে প্রতিদিনই দেখা দেয় তীব্র টিকিট সংকট। অনেক যাত্রী কাঙ্ক্ষিত টিকিট না পেয়ে ভ্রমণ বাতিল করতে বাধ্য হন।
নিয়মিত যাত্রীদের অভিযোগ, জরুরি প্রয়োজনেও অনেক সময় ট্রেনের টিকিট পাওয়া যায় না। বিশেষ করে ছুটির দিন, উৎসব মৌসুম কিংবা ভর্তি পরীক্ষা ও চাকরির পরীক্ষার সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
যাত্রী খোরশেদ আলম, ইলিয়াছ আহমেদ, মীম, দীনা, মৌ, তিথি, সুমি, পারভেজ গান্ধাভী, নিয়ামত আলী বাবু ও আল আমিন মিলন জানান, প্রায়ই জরুরি কাজে ঢাকা যেতে হয়। কিন্তু সীমিত যাত্রাবিরতির কারণে টিকিট পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাদের দাবি, অনেক সময় বাধ্য হয়ে স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে প্রায় আট ঘণ্টার দীর্ঘ পথ দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করতে হয়। এতে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন।
স্থানীয়দের দাবি, আহসানগঞ্জ রেল স্টেশন থেকে প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আয় হয়। আশপাশের অনেক স্টেশনের তুলনায় এই স্টেশনে যাত্রী চাপও বেশি।
তাদের প্রশ্ন, যখন একটি স্টেশন থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় হচ্ছে এবং প্রতিদিন হাজারো মানুষ এ স্টেশন ব্যবহার করছেন, তখন সেখানে অধিক সংখ্যক ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকার যৌক্তিকতা কোথায়?
এলাকাবাসীর মতে, যাত্রীসংখ্যা ও ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনায় স্টেশনটির প্রাপ্য সুবিধা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও আত্রাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, আহসানগঞ্জ রেল স্টেশন পুরো জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র।
তিনি বলেন, আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার মানুষের জন্য এটি কার্যত একমাত্র নির্ভরযোগ্য রেল স্টেশন। তাই জনগণের দুর্ভোগ কমাতে ঢাকাগামী আরও ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
তিনি জানান, স্থানীয়দের দাবির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে এবং জনস্বার্থ বিবেচনায় বিষয়টির একটি কার্যকর সমাধান খোঁজার চেষ্টা করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। যখন কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে পর্যাপ্ত ট্রেন থামে না, তখন শুধু যাত্রীদের ভোগান্তিই বাড়ে না; শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
আহসানগঞ্জের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে। তাই স্থানীয়দের প্রত্যাশা, যাত্রী চাহিদা, রাজস্ব আয় এবং ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্তত কয়েকটি অতিরিক্ত ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা হবে।
এলাকাবাসীর ভাষায়, এটি কোনো বিলাসী দাবি নয়; বরং হাজারো মানুষের নিত্যদিনের কষ্ট লাঘবের জন্য একটি যৌক্তিক ও প্রয়োজনীয় দাবি।

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ আহসানগঞ্জ রেল স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন একের পর এক ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেন ছুটে গেলেও বেশির ভাগ ট্রেন সেখানে থামে না। ফলে ঢাকা যাতায়াতের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নওগাঁ, রাজশাহী, নাটোর ও বগুড়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন ৯টি ঢাকাগামী ট্রেন স্টেশন অতিক্রম করলেও মাত্র দুটি ট্রেনের যাত্রাবিরতি থাকায় যাত্রীদের টিকিট সংকট, অতিরিক্ত ভিড় এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে ভ্রমণ করতে হচ্ছে।
এ অবস্থায় আহসানগঞ্জ রেল স্টেশনে সব ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী, নিয়মিত যাত্রী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন হিসেবে পরিচিত আহসানগঞ্জ। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে শুধু আত্রাই উপজেলা নয়, আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষের কাছেও এটি সবচেয়ে সহজলভ্য রেল যোগাযোগের কেন্দ্র।
স্টেশনটির উত্তরে রাণীনগর, পশ্চিমে রাজশাহীর বাগমারা, দক্ষিণে নাটোরের নলডাঙ্গা ও সিংড়া এবং পূর্বদিকে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা অবস্থিত। ফলে প্রতিদিন হাজারো মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, চাকরি, ব্যবসা ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনসহ নানা কাজে ঢাকা যাতায়াতের জন্য এই স্টেশনের ওপর নির্ভরশীল।
স্থানীয়দের মতে, এত বড় জনগোষ্ঠীর জন্য মাত্র দুটি ট্রেনের যাত্রাবিরতি কোনোভাবেই পর্যাপ্ত নয়।
বর্তমানে ব্রডগেজ লাইনের চিলাহাটি এক্সপ্রেস, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস, নীলসাগর এক্সপ্রেস ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস এবং মিটারগেজ লাইনের লালমনি এক্সপ্রেস, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস, রংপুর এক্সপ্রেস ও বুড়িমারী এক্সপ্রেস আহসানগঞ্জ স্টেশনের ওপর দিয়ে চলাচল করে।
কিন্তু এসব ট্রেনের মধ্যে কেবল নীলসাগর এক্সপ্রেস ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। বাকি ট্রেনগুলো স্টেশন অতিক্রম করলেও যাত্রী ওঠানামার সুযোগ থাকে না।
ফলে দুটি ট্রেনের টিকিটের ওপর নির্ভর করতে হয় পুরো অঞ্চলের যাত্রীদের। এতে প্রতিদিনই দেখা দেয় তীব্র টিকিট সংকট। অনেক যাত্রী কাঙ্ক্ষিত টিকিট না পেয়ে ভ্রমণ বাতিল করতে বাধ্য হন।
নিয়মিত যাত্রীদের অভিযোগ, জরুরি প্রয়োজনেও অনেক সময় ট্রেনের টিকিট পাওয়া যায় না। বিশেষ করে ছুটির দিন, উৎসব মৌসুম কিংবা ভর্তি পরীক্ষা ও চাকরির পরীক্ষার সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
যাত্রী খোরশেদ আলম, ইলিয়াছ আহমেদ, মীম, দীনা, মৌ, তিথি, সুমি, পারভেজ গান্ধাভী, নিয়ামত আলী বাবু ও আল আমিন মিলন জানান, প্রায়ই জরুরি কাজে ঢাকা যেতে হয়। কিন্তু সীমিত যাত্রাবিরতির কারণে টিকিট পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাদের দাবি, অনেক সময় বাধ্য হয়ে স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে প্রায় আট ঘণ্টার দীর্ঘ পথ দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করতে হয়। এতে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন।
স্থানীয়দের দাবি, আহসানগঞ্জ রেল স্টেশন থেকে প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আয় হয়। আশপাশের অনেক স্টেশনের তুলনায় এই স্টেশনে যাত্রী চাপও বেশি।
তাদের প্রশ্ন, যখন একটি স্টেশন থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় হচ্ছে এবং প্রতিদিন হাজারো মানুষ এ স্টেশন ব্যবহার করছেন, তখন সেখানে অধিক সংখ্যক ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকার যৌক্তিকতা কোথায়?
এলাকাবাসীর মতে, যাত্রীসংখ্যা ও ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনায় স্টেশনটির প্রাপ্য সুবিধা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও আত্রাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, আহসানগঞ্জ রেল স্টেশন পুরো জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র।
তিনি বলেন, আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার মানুষের জন্য এটি কার্যত একমাত্র নির্ভরযোগ্য রেল স্টেশন। তাই জনগণের দুর্ভোগ কমাতে ঢাকাগামী আরও ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
তিনি জানান, স্থানীয়দের দাবির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে এবং জনস্বার্থ বিবেচনায় বিষয়টির একটি কার্যকর সমাধান খোঁজার চেষ্টা করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। যখন কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে পর্যাপ্ত ট্রেন থামে না, তখন শুধু যাত্রীদের ভোগান্তিই বাড়ে না; শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
আহসানগঞ্জের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে। তাই স্থানীয়দের প্রত্যাশা, যাত্রী চাহিদা, রাজস্ব আয় এবং ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্তত কয়েকটি অতিরিক্ত ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা হবে।
এলাকাবাসীর ভাষায়, এটি কোনো বিলাসী দাবি নয়; বরং হাজারো মানুষের নিত্যদিনের কষ্ট লাঘবের জন্য একটি যৌক্তিক ও প্রয়োজনীয় দাবি।

আপনার মতামত লিখুন