ঈদকে সামনে রেখে যখন সড়কপথে মানুষের যাতায়াত বাড়ছে, ঠিক তখনই গভীর রাতে মহাসড়কে নেমে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করলেন নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। রাতভর টহল দিয়ে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট পরিদর্শন করেন, চালক-যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ডাকাতি-ছিনতাই প্রতিরোধে জেলা পুলিশের কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
শনিবার (৩১ মে) গভীর রাতে সাপাহার, পোরশা, সারাইগাছি, আড্ডা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় এই বিশেষ নিরাপত্তা তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জনসাধারণের জানমাল রক্ষা এবং মহাসড়কে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরিদর্শনের অংশ হিসেবে পুলিশ সুপার নিজেই ‘ডোমিনান্ট টহল’-এ অংশ নেন। তিনি সাপাহার, পোরশা, সরাইগাছি বাজার, বেজোড়া বাজারসহ আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরে দেখেন।
এ সময় নিরাপত্তা চৌকি, টহল ব্যবস্থা এবং পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হয়। পাশাপাশি মহাসড়কে চলাচলরত বিভিন্ন পরিবহনের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও মূল্যায়ন করেন তিনি।
স্থানীয়দের মতে, জেলার সর্বোচ্চ পুলিশ কর্মকর্তার এমন সরাসরি উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করেছে।
পরিদর্শনের সময় পুলিশ সুপার বিভিন্ন যানবাহনের চালক, হেল্পার এবং যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের কাছে মহাসড়কের বর্তমান পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে মতামত জানতে চান।
একটি মালবাহী পিকআপ ভ্যানের চালকের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি নিরাপত্তা নিয়ে খোঁজখবর নেন এবং যেকোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতি দ্রুত পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ী, ক্রেতা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ঈদের শুভেচ্ছা জানান।
পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, সাপাহার, পোরশা, সারাইগাছি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে কোনো ধরনের অপরাধ, বিশেষ করে ডাকাতি ও ছিনতাই কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
তিনি বলেন, “নওগাঁ জেলা পুলিশ জনগণের নিরাপত্তার প্রশ্নে আপস করবে না। যেকোনো ডাকাতির অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে।”
তার দাবি, গত কয়েক মাসে পুলিশের বিশেষ অভিযান এবং নিয়মিত টহলের কারণে মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এ সময় তিনি জানান, বিভিন্ন অভিযানে ডাকাতি চক্রের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
তবে এসব তথ্যের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঈদ, পূজা কিংবা বড় কোনো উৎসবের আগে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে যাত্রী চলাচল বেড়ে যায়। সেই সুযোগে অপরাধী চক্র সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ প্রায়ই উঠে আসে। বিশেষ করে গভীর রাতে চলাচলকারী পরিবহনগুলোকে লক্ষ্য করে ডাকাতি, ছিনতাই কিংবা চাঁদাবাজির ঘটনা অতীতে বিভিন্ন এলাকায় ঘটেছে।
আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি অপরাধ প্রবণতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যখন সাধারণ মানুষ দেখে যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে সক্রিয় রয়েছে, তখন অপরাধী চক্রের জন্যও ঝুঁকি বেড়ে যায়।
অন্যদিকে, চালক ও যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হয়।
পুলিশ সুপার সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু পুলিশের পক্ষে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য দিয়ে জনগণ সহযোগিতা করলে অপরাধ প্রতিরোধ আরও সহজ হবে।
পরিদর্শনকালে সাপাহার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল অফিসার), পোরশা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সব মিলিয়ে ঈদকে সামনে রেখে নওগাঁ জেলার গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে পুলিশের এই বিশেষ নিরাপত্তা তৎপরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা কতটা দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকে, সেদিকেও নজর রাখছেন স্থানীয়রা।

সোমবার, ০১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬
ঈদকে সামনে রেখে যখন সড়কপথে মানুষের যাতায়াত বাড়ছে, ঠিক তখনই গভীর রাতে মহাসড়কে নেমে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করলেন নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। রাতভর টহল দিয়ে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট পরিদর্শন করেন, চালক-যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ডাকাতি-ছিনতাই প্রতিরোধে জেলা পুলিশের কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
শনিবার (৩১ মে) গভীর রাতে সাপাহার, পোরশা, সারাইগাছি, আড্ডা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় এই বিশেষ নিরাপত্তা তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জনসাধারণের জানমাল রক্ষা এবং মহাসড়কে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরিদর্শনের অংশ হিসেবে পুলিশ সুপার নিজেই ‘ডোমিনান্ট টহল’-এ অংশ নেন। তিনি সাপাহার, পোরশা, সরাইগাছি বাজার, বেজোড়া বাজারসহ আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরে দেখেন।
এ সময় নিরাপত্তা চৌকি, টহল ব্যবস্থা এবং পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হয়। পাশাপাশি মহাসড়কে চলাচলরত বিভিন্ন পরিবহনের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও মূল্যায়ন করেন তিনি।
স্থানীয়দের মতে, জেলার সর্বোচ্চ পুলিশ কর্মকর্তার এমন সরাসরি উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করেছে।
পরিদর্শনের সময় পুলিশ সুপার বিভিন্ন যানবাহনের চালক, হেল্পার এবং যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের কাছে মহাসড়কের বর্তমান পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে মতামত জানতে চান।
একটি মালবাহী পিকআপ ভ্যানের চালকের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি নিরাপত্তা নিয়ে খোঁজখবর নেন এবং যেকোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতি দ্রুত পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ী, ক্রেতা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ঈদের শুভেচ্ছা জানান।
পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, সাপাহার, পোরশা, সারাইগাছি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে কোনো ধরনের অপরাধ, বিশেষ করে ডাকাতি ও ছিনতাই কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
তিনি বলেন, “নওগাঁ জেলা পুলিশ জনগণের নিরাপত্তার প্রশ্নে আপস করবে না। যেকোনো ডাকাতির অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে।”
তার দাবি, গত কয়েক মাসে পুলিশের বিশেষ অভিযান এবং নিয়মিত টহলের কারণে মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এ সময় তিনি জানান, বিভিন্ন অভিযানে ডাকাতি চক্রের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
তবে এসব তথ্যের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঈদ, পূজা কিংবা বড় কোনো উৎসবের আগে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে যাত্রী চলাচল বেড়ে যায়। সেই সুযোগে অপরাধী চক্র সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ প্রায়ই উঠে আসে। বিশেষ করে গভীর রাতে চলাচলকারী পরিবহনগুলোকে লক্ষ্য করে ডাকাতি, ছিনতাই কিংবা চাঁদাবাজির ঘটনা অতীতে বিভিন্ন এলাকায় ঘটেছে।
আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি অপরাধ প্রবণতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যখন সাধারণ মানুষ দেখে যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে সক্রিয় রয়েছে, তখন অপরাধী চক্রের জন্যও ঝুঁকি বেড়ে যায়।
অন্যদিকে, চালক ও যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হয়।
পুলিশ সুপার সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু পুলিশের পক্ষে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য দিয়ে জনগণ সহযোগিতা করলে অপরাধ প্রতিরোধ আরও সহজ হবে।
পরিদর্শনকালে সাপাহার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল অফিসার), পোরশা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সব মিলিয়ে ঈদকে সামনে রেখে নওগাঁ জেলার গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে পুলিশের এই বিশেষ নিরাপত্তা তৎপরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা কতটা দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকে, সেদিকেও নজর রাখছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন