দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

নরসিংদীতে ‘ইত্যাদি’ শুটিং স্পটে বিশৃঙ্খলা: আহত অন্তত ২০, সাংবাদিকদের মোবাইল চুরির অভিযোগ

নরসিংদীতে ‘ইত্যাদি’ শুটিং স্পটে বিশৃঙ্খলা: আহত অন্তত ২০, সাংবাদিকদের মোবাইল চুরির অভিযোগ

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বিজিবি মোতায়েন

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় ৩ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্তকে আটকের দাবিতে বিক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মাটি কাটার বিরোধে বিএনপি নেতা ওসমান গনি খুন, সড়ক অবরোধ ও উত্তেজনা

কুরবানির ঈদের আগে বিষ খাইয়ে কৃষকের ৩ গরু হত্যা, পথে বসার শঙ্কায় পরিবার

শেবাচিম হাসপাতালে বিশৃঙ্খলা: হামে ২৬ শিশুর মৃত্যু, চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে ক্ষোভ

কুষ্টিয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় সুপারের ছেলের খাতা লিখে দিচ্ছিলেন শিক্ষকরা, আটক ৩

কুমিল্লা-চাঁদপুর রুটে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট, হাজীগঞ্জে হামলার অভিযোগে আতঙ্ক

নরসিংদীতে ‘ইত্যাদি’ শুটিং স্পটে বিশৃঙ্খলা: আহত অন্তত ২০, সাংবাদিকদের মোবাইল চুরির অভিযোগ

নরসিংদীতে ‘ইত্যাদি’ শুটিং স্পটে বিশৃঙ্খলা: আহত অন্তত ২০, সাংবাদিকদের মোবাইল চুরির অভিযোগ
‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানে প্রবেশের সময় তীব্র ভিড় ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে আতঙ্কিত দর্শকদের একাংশ।

বাংলাদেশের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’-র ধারণ অনুষ্ঠান ঘিরে নরসিংদীতে সৃষ্টি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ। অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশকে কেন্দ্র করে ধাক্কাধাক্কি, হুড়োহুড়ি ও নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতিতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকসহ বহু দর্শকের মোবাইল ফোন চুরির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যায় নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রামনগর হাই স্কুল মাঠ সংলগ্ন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানটি ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহ থাকলেও নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে।


প্রবেশ গেটেই শুরু বিশৃঙ্খলা

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে প্রবেশের জন্য আমন্ত্রিত অতিথিদের বিশেষ পাসের ব্যবস্থা ছিল। তবে সন্ধ্যার পর দর্শকের চাপ বাড়তে থাকলে মূল ফটকের সামনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

পাসধারী নারী, শিশু ও বয়স্কদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। একপর্যায়ে ভেতরে ঢোকার জন্য শুরু হয় তীব্র ঠেলাঠেলি। অনেকেই পড়ে গিয়ে আহত হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েকজন নারী শ্বাসকষ্ট ও আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলেও জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, আয়োজক কর্তৃপক্ষ দর্শকের সংখ্যা সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা পেয়েছিল। কিন্তু সেই অনুযায়ী পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও প্রবেশ ব্যবস্থাপনা না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ভিড়ের সুযোগে সক্রিয় পকেটমার চক্র?

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রবেশপথের বিশৃঙ্খলার সুযোগে সংঘবদ্ধ একটি পকেটমার চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। দর্শকদের পকেট, ব্যাগ ও ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একের পর এক মোবাইল ফোন চুরি করা হয়।

বিশেষ করে গেটের সামনে অতিরিক্ত ভিড়ের সময় চুরির ঘটনা বেশি ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অনেকেই অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের পর বুঝতে পারেন, তাদের মোবাইল ফোন আর সঙ্গে নেই।

অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বে থাকা বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের মোবাইলও খোয়া যায়

ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া বিভিন্ন গণমাধ্যমের অন্তত সাতজন সাংবাদিকের মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে বলে জানা গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন, দীপ্ত টিভি, ইভিনিং নিউজ, দৈনিক আমার দেশ, ভোরের ডাক ও প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধিরা রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশের সময় ভয়াবহ হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। ভেতরে ঢোকার পর তিনি বুঝতে পারেন তার মোবাইল ফোনটি নেই।

তার দাবি, বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের জানানো হয়। সেখানে অবস্থান করার সময় আরও কয়েকজন সাংবাদিক ও জেলা প্রশাসনের এক কর্মচারীসহ অন্তত ৪৫ জন দর্শক তাদের মোবাইল চুরির অভিযোগ করেন।

তবে ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

দেয়াল টপকে ঢোকার অভিযোগ

জানা গেছে, অনুষ্ঠানস্থলে প্রায় তিন হাজার অতিথির বসার ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু বাস্তবে উপস্থিত দর্শকের সংখ্যা ছিল তার কয়েকগুণ বেশি।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, পাস ছাড়া বহু মানুষ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের চেষ্টা করেন। কেউ কেউ পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে ভেতরে ঢুকে পড়েন, আবার অনেকে প্রাচীর টপকেও প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই অতিরিক্ত ভিড় পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পুলিশ ও আয়োজকদেরও হিমশিম খেতে দেখা যায়।

ক্ষোভ নিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ছাড়েন অনেকে

চরম বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতিতে অনেক আমন্ত্রিত অতিথি অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই স্থান ত্যাগ করেন। কয়েকজন দর্শক বলেন, পরিবার নিয়ে অনুষ্ঠান দেখতে এসে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন।

একজন নারী দর্শক অভিযোগ করেন, “বাচ্চাকে নিয়ে এত ধাক্কাধাক্কির মধ্যে পড়ে গিয়েছিলাম। কয়েক মিনিটের জন্য মনে হয়েছিল বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

আরেক দর্শক বলেন, “এত বড় অনুষ্ঠানে নিরাপত্তার এমন দুর্বলতা সত্যিই হতাশাজনক।”

পুলিশের বক্তব্য কী?

এ বিষয়ে নরসিংদীর পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল-ফারুক বলেন, জনপ্রিয় অনুষ্ঠান হওয়ায় নরসিংদী ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে এসেছিলেন।

তার ভাষায়, “ভিড়ের মধ্যে কিছু চোরও ঢুকে থাকতে পারে। বেশ কয়েকজন দর্শকের মোবাইল ফোন হারানোর বিষয়টি আমরা জেনেছি। ভুক্তভোগীরা থানায় জিডি করলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফোন উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।”

তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না—সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।


বড় আয়োজন, কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেল

বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় সাংস্কৃতিক আয়োজনগুলোতে দর্শকের নিরাপত্তা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনপ্রিয় অনুষ্ঠান হলে দর্শকের চাপ বাড়বে, এটি স্বাভাবিক। কিন্তু সেই অনুযায়ী নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে দুর্ঘটনা ও অপরাধের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আলাদা প্রবেশপথ, পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

এ ঘটনার পর নরসিংদীতে আয়োজিত বড় জনসমাগমের অনুষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিষয় : ইত্যাদি অনুষ্ঠান নরসিংদী মোবাইল চুরি খবর নরসিংদী বিশৃঙ্খলা ইত্যাদি শুটিং স্পট সাংবাদিকের মোবাইল চুরি

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


নরসিংদীতে ‘ইত্যাদি’ শুটিং স্পটে বিশৃঙ্খলা: আহত অন্তত ২০, সাংবাদিকদের মোবাইল চুরির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’-র ধারণ অনুষ্ঠান ঘিরে নরসিংদীতে সৃষ্টি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ। অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশকে কেন্দ্র করে ধাক্কাধাক্কি, হুড়োহুড়ি ও নিয়ন্ত্রণহীন পরিস্থিতিতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকসহ বহু দর্শকের মোবাইল ফোন চুরির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যায় নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রামনগর হাই স্কুল মাঠ সংলগ্ন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানটি ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহ থাকলেও নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে।


প্রবেশ গেটেই শুরু বিশৃঙ্খলা

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে প্রবেশের জন্য আমন্ত্রিত অতিথিদের বিশেষ পাসের ব্যবস্থা ছিল। তবে সন্ধ্যার পর দর্শকের চাপ বাড়তে থাকলে মূল ফটকের সামনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

পাসধারী নারী, শিশু ও বয়স্কদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। একপর্যায়ে ভেতরে ঢোকার জন্য শুরু হয় তীব্র ঠেলাঠেলি। অনেকেই পড়ে গিয়ে আহত হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েকজন নারী শ্বাসকষ্ট ও আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলেও জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, আয়োজক কর্তৃপক্ষ দর্শকের সংখ্যা সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা পেয়েছিল। কিন্তু সেই অনুযায়ী পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও প্রবেশ ব্যবস্থাপনা না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ভিড়ের সুযোগে সক্রিয় পকেটমার চক্র?

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রবেশপথের বিশৃঙ্খলার সুযোগে সংঘবদ্ধ একটি পকেটমার চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। দর্শকদের পকেট, ব্যাগ ও ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একের পর এক মোবাইল ফোন চুরি করা হয়।

বিশেষ করে গেটের সামনে অতিরিক্ত ভিড়ের সময় চুরির ঘটনা বেশি ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অনেকেই অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের পর বুঝতে পারেন, তাদের মোবাইল ফোন আর সঙ্গে নেই।

অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বে থাকা বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের মোবাইলও খোয়া যায়

ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া বিভিন্ন গণমাধ্যমের অন্তত সাতজন সাংবাদিকের মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে বলে জানা গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন, দীপ্ত টিভি, ইভিনিং নিউজ, দৈনিক আমার দেশ, ভোরের ডাক ও প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধিরা রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশের সময় ভয়াবহ হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। ভেতরে ঢোকার পর তিনি বুঝতে পারেন তার মোবাইল ফোনটি নেই।

তার দাবি, বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের জানানো হয়। সেখানে অবস্থান করার সময় আরও কয়েকজন সাংবাদিক ও জেলা প্রশাসনের এক কর্মচারীসহ অন্তত ৪৫ জন দর্শক তাদের মোবাইল চুরির অভিযোগ করেন।

তবে ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

দেয়াল টপকে ঢোকার অভিযোগ

জানা গেছে, অনুষ্ঠানস্থলে প্রায় তিন হাজার অতিথির বসার ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু বাস্তবে উপস্থিত দর্শকের সংখ্যা ছিল তার কয়েকগুণ বেশি।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, পাস ছাড়া বহু মানুষ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের চেষ্টা করেন। কেউ কেউ পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে ভেতরে ঢুকে পড়েন, আবার অনেকে প্রাচীর টপকেও প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই অতিরিক্ত ভিড় পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পুলিশ ও আয়োজকদেরও হিমশিম খেতে দেখা যায়।

ক্ষোভ নিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ছাড়েন অনেকে

চরম বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতিতে অনেক আমন্ত্রিত অতিথি অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই স্থান ত্যাগ করেন। কয়েকজন দর্শক বলেন, পরিবার নিয়ে অনুষ্ঠান দেখতে এসে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন।

একজন নারী দর্শক অভিযোগ করেন, “বাচ্চাকে নিয়ে এত ধাক্কাধাক্কির মধ্যে পড়ে গিয়েছিলাম। কয়েক মিনিটের জন্য মনে হয়েছিল বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

আরেক দর্শক বলেন, “এত বড় অনুষ্ঠানে নিরাপত্তার এমন দুর্বলতা সত্যিই হতাশাজনক।”

পুলিশের বক্তব্য কী?

এ বিষয়ে নরসিংদীর পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল-ফারুক বলেন, জনপ্রিয় অনুষ্ঠান হওয়ায় নরসিংদী ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে এসেছিলেন।

তার ভাষায়, “ভিড়ের মধ্যে কিছু চোরও ঢুকে থাকতে পারে। বেশ কয়েকজন দর্শকের মোবাইল ফোন হারানোর বিষয়টি আমরা জেনেছি। ভুক্তভোগীরা থানায় জিডি করলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফোন উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।”

তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না—সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।


বড় আয়োজন, কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেল

বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় সাংস্কৃতিক আয়োজনগুলোতে দর্শকের নিরাপত্তা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনপ্রিয় অনুষ্ঠান হলে দর্শকের চাপ বাড়বে, এটি স্বাভাবিক। কিন্তু সেই অনুযায়ী নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে দুর্ঘটনা ও অপরাধের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আলাদা প্রবেশপথ, পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

এ ঘটনার পর নরসিংদীতে আয়োজিত বড় জনসমাগমের অনুষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর