সাভারে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে এক বড় রাজনৈতিক মিলনমেলায় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক লায়ন মো. খোরশেদ আলম। তিনি বলেছেন, “ব্যক্তিগত বিভেদ ভুলে তৃণমূল পর্যায়ে ঐক্য গড়ে তুলতে না পারলে রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।”
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সাভার পৌর এলাকার উলাইলের একটি কমিউনিটি সেন্টারে সাভার পৌর মৎস্যজীবী দলের উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিএনপি, ছাত্রদল, মৎস্যজীবী দলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ও দলীয় সংহতির বার্তায় মুখর হয়ে ওঠে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, সন্ধ্যার পর থেকেই বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে এটি শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বড় ধরনের মিলনমেলায় রূপ নেয়। আগত অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মো. মোখলেছুর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সাভার পৌর ছাত্রদল নেতা তাজ খান নাঈম।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয় ও ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্ব দেন। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক মাঠে টিকে থাকতে হলে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, পারস্পরিক যোগাযোগ এবং সহযোগিতার বিকল্প নেই।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে লায়ন মো. খোরশেদ আলম বলেন, বিএনপি সবসময় সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের রাজনীতি করে এসেছে। তার দাবি, জনগণের ভোটাধিকার ও জীবন-জীবিকার প্রশ্নে দলটি অতীতেও আন্দোলনে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
তিনি বলেন, “রাজনীতির মূল শক্তি হচ্ছে তৃণমূল। মাঠের কর্মীরা সক্রিয় থাকলে যে কোনো আন্দোলন সফল করা সম্ভব। তাই নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভক্তি নয়, ঐক্য প্রয়োজন।”
একই সঙ্গে তিনি মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও এই শ্রেণির মানুষ দীর্ঘদিন নানা অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে।
খোরশেদ আলম বলেন, “মৎস্যজীবীরা শুধু শ্রমজীবী মানুষ নন, তারা দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখার অংশ। তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
সভায় বক্তারা বারবার তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করার বিষয়টি সামনে আনেন। তাদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়লে রাজনৈতিক দলগুলো জনসম্পৃক্ততা হারাতে শুরু করে।
সভাপতির বক্তব্যে মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, মৎস্যজীবী দল কেবল একটি অঙ্গসংগঠন নয়, বরং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করছে।
তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ে নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, সামাজিক দায়িত্বও পালন করতে হবে।”
তিনি আরও জানান, সাভার পৌর মৎস্যজীবী দলকে আরও সুসংগঠিত করতে ওয়ার্ডভিত্তিক কার্যক্রম বাড়ানো হচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে রাজনীতির ইতিবাচক ধারায় সম্পৃক্ত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে ছাত্রদল নেতা তাজ খান নাঈম বলেন, দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই তরুণদের ওপর নির্ভর করছে। তার মতে, তরুণদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে পারলে রাজনৈতিক আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি বলেন, “তারুণ্যের শক্তিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে হবে। তরুণরা রাজনীতিতে সক্রিয় হলে গণতান্ত্রিক চর্চাও বাড়বে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলই তৃণমূলকে সক্রিয় করার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ মাঠপর্যায়ের কর্মীরা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়লে সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলগুলোর ভেতরে অভ্যন্তরীণ সমন্বয় একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে মতবিরোধ, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব কিংবা ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির কারণে অনেক সময় সংগঠনের কার্যক্রমে প্রভাব পড়ে।
এ কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে এখন ‘ঐক্য’ শব্দটি বারবার সামনে আসছে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখাকে রাজনৈতিক দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে দেখছে।
সামাজিক বিশ্লেষকরাও বলছেন, স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সম্প্রীতি বজায় থাকলে তা সামাজিক পরিবেশেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে সহিংসতা কমে এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলো তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ থাকে।
দীর্ঘ আলোচনা ও মতবিনিময়ের পর অনুষ্ঠানের শেষপর্বে অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পরে নেতাকর্মীরা একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
আয়োজকদের দাবি, এই আয়োজনের মাধ্যমে সাভার পৌর এলাকার নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মতবিনিময় সভা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬
সাভারে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে এক বড় রাজনৈতিক মিলনমেলায় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক লায়ন মো. খোরশেদ আলম। তিনি বলেছেন, “ব্যক্তিগত বিভেদ ভুলে তৃণমূল পর্যায়ে ঐক্য গড়ে তুলতে না পারলে রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।”
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সাভার পৌর এলাকার উলাইলের একটি কমিউনিটি সেন্টারে সাভার পৌর মৎস্যজীবী দলের উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিএনপি, ছাত্রদল, মৎস্যজীবী দলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ও দলীয় সংহতির বার্তায় মুখর হয়ে ওঠে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, সন্ধ্যার পর থেকেই বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে এটি শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বড় ধরনের মিলনমেলায় রূপ নেয়। আগত অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মো. মোখলেছুর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সাভার পৌর ছাত্রদল নেতা তাজ খান নাঈম।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয় ও ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্ব দেন। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক মাঠে টিকে থাকতে হলে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, পারস্পরিক যোগাযোগ এবং সহযোগিতার বিকল্প নেই।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে লায়ন মো. খোরশেদ আলম বলেন, বিএনপি সবসময় সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের রাজনীতি করে এসেছে। তার দাবি, জনগণের ভোটাধিকার ও জীবন-জীবিকার প্রশ্নে দলটি অতীতেও আন্দোলনে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
তিনি বলেন, “রাজনীতির মূল শক্তি হচ্ছে তৃণমূল। মাঠের কর্মীরা সক্রিয় থাকলে যে কোনো আন্দোলন সফল করা সম্ভব। তাই নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভক্তি নয়, ঐক্য প্রয়োজন।”
একই সঙ্গে তিনি মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও এই শ্রেণির মানুষ দীর্ঘদিন নানা অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে।
খোরশেদ আলম বলেন, “মৎস্যজীবীরা শুধু শ্রমজীবী মানুষ নন, তারা দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখার অংশ। তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
সভায় বক্তারা বারবার তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করার বিষয়টি সামনে আনেন। তাদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়লে রাজনৈতিক দলগুলো জনসম্পৃক্ততা হারাতে শুরু করে।
সভাপতির বক্তব্যে মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, মৎস্যজীবী দল কেবল একটি অঙ্গসংগঠন নয়, বরং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করছে।
তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ে নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, সামাজিক দায়িত্বও পালন করতে হবে।”
তিনি আরও জানান, সাভার পৌর মৎস্যজীবী দলকে আরও সুসংগঠিত করতে ওয়ার্ডভিত্তিক কার্যক্রম বাড়ানো হচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে রাজনীতির ইতিবাচক ধারায় সম্পৃক্ত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে ছাত্রদল নেতা তাজ খান নাঈম বলেন, দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই তরুণদের ওপর নির্ভর করছে। তার মতে, তরুণদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে পারলে রাজনৈতিক আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি বলেন, “তারুণ্যের শক্তিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে হবে। তরুণরা রাজনীতিতে সক্রিয় হলে গণতান্ত্রিক চর্চাও বাড়বে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলই তৃণমূলকে সক্রিয় করার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ মাঠপর্যায়ের কর্মীরা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়লে সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলগুলোর ভেতরে অভ্যন্তরীণ সমন্বয় একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে মতবিরোধ, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব কিংবা ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির কারণে অনেক সময় সংগঠনের কার্যক্রমে প্রভাব পড়ে।
এ কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে এখন ‘ঐক্য’ শব্দটি বারবার সামনে আসছে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখাকে রাজনৈতিক দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে দেখছে।
সামাজিক বিশ্লেষকরাও বলছেন, স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সম্প্রীতি বজায় থাকলে তা সামাজিক পরিবেশেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে সহিংসতা কমে এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলো তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ থাকে।
দীর্ঘ আলোচনা ও মতবিনিময়ের পর অনুষ্ঠানের শেষপর্বে অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পরে নেতাকর্মীরা একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
আয়োজকদের দাবি, এই আয়োজনের মাধ্যমে সাভার পৌর এলাকার নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মতবিনিময় সভা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।

আপনার মতামত লিখুন