দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়, খারাপ আবহাওয়ায় বায়তুল মোকাররমে আয়োজন

জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়, খারাপ আবহাওয়ায় বায়তুল মোকাররমে আয়োজন

গাজীপুরের কামতা গ্যাসক্ষেত্র থেকে আগামী জুনে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস: প্রতিমন্ত্রী

বেনাপোলে বিজিবির বড় অভিযান, ১২ লাখ টাকার মালামাল আটক

প্রিয় সোনামনি রামিসা, তোমার কাছে মানবতা লজ্জিত’—একটি পোস্টে কাঁদালেন জামায়াত আমির

টঙ্গীতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর আজ

বিরল রোগে আক্রান্ত শিশু হাবিবার সফল অপারেশন, নতুন নাম রাখা হলো ‘জুবাইদা’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শিশুদের আনন্দঘন সময়, ভূমি ভবনের ডে-কেয়ার সেন্টারে কেক কাটলেন।

চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনে প্রটোকল কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার, ঘিরে নানা প্রশ্ন

চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনে প্রটোকল কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার, ঘিরে নানা প্রশ্ন

চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনে প্রটোকল কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার, ঘিরে নানা প্রশ্ন
চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি। -ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের ভেতর থেকে এক প্রটোকল কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় কূটনৈতিক অঙ্গনসহ স্থানীয় প্রশাসনে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ওই কর্মকর্তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান সহকর্মীরা। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। কীভাবে তার মৃত্যু হলো, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের অপেক্ষায় আছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এদিকে ঘটনাকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলেও বাড়ছে আলোচনা।


সকালে কূটনৈতিক কার্যালয়ে চাঞ্চল্য

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের একটি কক্ষ থেকে ওই কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সহকর্মীরা জানান, সকালে দীর্ঘ সময় দরজা না খোলায় সন্দেহ তৈরি হয়। পরে ভেতরে গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। দ্রুত বিষয়টি স্থানীয় পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে কিছু ব্যক্তিগত সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে সেসব বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধমূলক সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কাউকে জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

পরিচয় প্রকাশে সতর্কতা

কূটনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে মৃত কর্মকর্তার ব্যক্তিগত কিছু তথ্য প্রকাশে সতর্কতা দেখা গেছে। ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত বিবৃতি তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া হয়নি।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তিনি প্রটোকল শাখায় দায়িত্ব পালন করতেন এবং কয়েক বছর ধরে চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন। সহকর্মীদের অনেকেই তাকে শান্ত স্বভাবের ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

একজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সকালে এমন খবর শুনে সবাই হতবাক হয়ে গেছে। অফিসে স্বাভাবিক পরিবেশ নেই। কী হয়েছে, কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না।”

আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু?

ঘটনার পর থেকেই নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও আলামত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। মরদেহে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল কি না, সেটিও পরীক্ষা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

একজন তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, “আমরা সব দিক বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছি। কোনো কিছুই এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলা হবে।


এদিকে কূটনৈতিক মিশনের ভেতরে এমন ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আলোচনায় এসেছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে নিরাপত্তা ঘাটতির অভিযোগ কেউ করেননি, তবু বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য

ঘটনার সময় আশপাশে থাকা কয়েকজন জানান, সকালে হাইকমিশন এলাকায় হঠাৎ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়তে দেখা যায়। পরে খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়।

একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “সকাল থেকেই দেখি পুলিশ আর গাড়ির আনাগোনা। পরে শুনি ভেতরে একজন কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টা খুবই অস্বাভাবিক লাগছে।”

তবে কূটনৈতিক এলাকা হওয়ায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত ছিল। ফলে ঘটনার প্রত্যক্ষ তথ্য খুব কমই বাইরে এসেছে।

প্রশাসনের অবস্থান

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। কূটনৈতিক স্থাপনা হওয়ায় তদন্তে বাড়তি সতর্কতা রাখা হচ্ছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও প্রয়োজনীয় সমন্বয় চলছে বলে জানা গেছে।

এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে অপমৃত্যুর একটি সাধারণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস থেকেও মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই গেছে।

কূটনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ

বিদেশি কূটনৈতিক মিশনে কর্মরত কর্মকর্তাদের কাজের চাপ, ব্যক্তিগত জীবন এবং মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে এ ঘটনার পর। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, বিদেশে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের ওপর পেশাগত ও ব্যক্তিগত চাপ অনেক সময় দৃশ্যমান থাকে না।

তারা মনে করছেন, এমন ঘটনার সঠিক তদন্তের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মীদের মানসিক সহায়তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। যদিও এই নির্দিষ্ট ঘটনায় মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত নয়, তবু এটি কূটনৈতিক পরিবেশে মানবিক দিকগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে।

তদন্তের দিকে নজর সবার

বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন। সেটি হাতে পেলেই তদন্তে নতুন অগ্রগতি আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ বলছে, প্রযুক্তিগত তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামতও যাচাই করা হবে।


ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি ছড়ালেও সংশ্লিষ্টরা যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয় বলেও জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রামের এই ঘটনা এখন শুধু একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্ত নয়, বরং কূটনৈতিক নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল তথ্য প্রকাশের বিষয়টিও সামনে নিয়ে এসেছে। তদন্ত শেষ হলে হয়তো পরিষ্কার হবে, কী ঘটেছিল সেই সকালবেলায় ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের ভেতরে।

বিষয় : চট্টগ্রাম ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন, প্রটোকল কর্মকর্তার মৃত্যু অস্বাভাবিক মৃত্যু তদন্ত

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনে প্রটোকল কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার, ঘিরে নানা প্রশ্ন

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের ভেতর থেকে এক প্রটোকল কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় কূটনৈতিক অঙ্গনসহ স্থানীয় প্রশাসনে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ওই কর্মকর্তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান সহকর্মীরা। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। কীভাবে তার মৃত্যু হলো, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের অপেক্ষায় আছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এদিকে ঘটনাকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলেও বাড়ছে আলোচনা।


সকালে কূটনৈতিক কার্যালয়ে চাঞ্চল্য

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের একটি কক্ষ থেকে ওই কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সহকর্মীরা জানান, সকালে দীর্ঘ সময় দরজা না খোলায় সন্দেহ তৈরি হয়। পরে ভেতরে গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। দ্রুত বিষয়টি স্থানীয় পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে কিছু ব্যক্তিগত সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে সেসব বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধমূলক সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কাউকে জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

পরিচয় প্রকাশে সতর্কতা

কূটনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে মৃত কর্মকর্তার ব্যক্তিগত কিছু তথ্য প্রকাশে সতর্কতা দেখা গেছে। ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত বিবৃতি তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া হয়নি।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তিনি প্রটোকল শাখায় দায়িত্ব পালন করতেন এবং কয়েক বছর ধরে চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন। সহকর্মীদের অনেকেই তাকে শান্ত স্বভাবের ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

একজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সকালে এমন খবর শুনে সবাই হতবাক হয়ে গেছে। অফিসে স্বাভাবিক পরিবেশ নেই। কী হয়েছে, কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না।”

আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু?

ঘটনার পর থেকেই নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও আলামত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। মরদেহে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল কি না, সেটিও পরীক্ষা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

একজন তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, “আমরা সব দিক বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছি। কোনো কিছুই এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলা হবে।


এদিকে কূটনৈতিক মিশনের ভেতরে এমন ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আলোচনায় এসেছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে নিরাপত্তা ঘাটতির অভিযোগ কেউ করেননি, তবু বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য

ঘটনার সময় আশপাশে থাকা কয়েকজন জানান, সকালে হাইকমিশন এলাকায় হঠাৎ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়তে দেখা যায়। পরে খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়।

একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “সকাল থেকেই দেখি পুলিশ আর গাড়ির আনাগোনা। পরে শুনি ভেতরে একজন কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টা খুবই অস্বাভাবিক লাগছে।”

তবে কূটনৈতিক এলাকা হওয়ায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত ছিল। ফলে ঘটনার প্রত্যক্ষ তথ্য খুব কমই বাইরে এসেছে।

প্রশাসনের অবস্থান

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। কূটনৈতিক স্থাপনা হওয়ায় তদন্তে বাড়তি সতর্কতা রাখা হচ্ছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও প্রয়োজনীয় সমন্বয় চলছে বলে জানা গেছে।

এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে অপমৃত্যুর একটি সাধারণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস থেকেও মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই গেছে।

কূটনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ

বিদেশি কূটনৈতিক মিশনে কর্মরত কর্মকর্তাদের কাজের চাপ, ব্যক্তিগত জীবন এবং মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে এ ঘটনার পর। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, বিদেশে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের ওপর পেশাগত ও ব্যক্তিগত চাপ অনেক সময় দৃশ্যমান থাকে না।

তারা মনে করছেন, এমন ঘটনার সঠিক তদন্তের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মীদের মানসিক সহায়তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। যদিও এই নির্দিষ্ট ঘটনায় মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত নয়, তবু এটি কূটনৈতিক পরিবেশে মানবিক দিকগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে।

তদন্তের দিকে নজর সবার

বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন। সেটি হাতে পেলেই তদন্তে নতুন অগ্রগতি আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ বলছে, প্রযুক্তিগত তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামতও যাচাই করা হবে।


ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি ছড়ালেও সংশ্লিষ্টরা যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয় বলেও জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রামের এই ঘটনা এখন শুধু একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্ত নয়, বরং কূটনৈতিক নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল তথ্য প্রকাশের বিষয়টিও সামনে নিয়ে এসেছে। তদন্ত শেষ হলে হয়তো পরিষ্কার হবে, কী ঘটেছিল সেই সকালবেলায় ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের ভেতরে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর