রাজশাহীতে রাজনৈতিক যোগদান অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও সরকারের নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় ফিরতে পারলে প্রথম হামলার লক্ষ্য হতে পারেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার দুপুরে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তন-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে নেতাকর্মীদের এনসিপিতে যোগদানের মধ্য দিয়ে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভারতবিষয়ক নীতি এবং সংস্কার প্রসঙ্গেও তীব্র ভাষায় মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতেই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, দলটি বিভিন্ন এলাকায় আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে বলে তাদের পর্যবেক্ষণ। সেই প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলে তাদের প্রথম লক্ষ্য হতে পারেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফেরার সুযোগ পেলে রাজনৈতিক সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা না করার আহ্বান জানান। তার ভাষ্য, অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন।
তার বক্তব্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি দাবি করেন, অতীতের সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও নাগরিক কার্ড ব্যবস্থারও সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের কার্ড দেওয়া হলেও বাস্তব উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাজশাহী ও চাঁদপুরের উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দুই অঞ্চলের মানুষ এখনো মৌলিক সমস্যার সমাধান পায়নি। তার অভিযোগ, শুধু কাগুজে সুবিধা দিয়ে মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।
এ সময় তিনি ‘লাল কার্ড’ কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে সরকারবিরোধী প্রতীকী আন্দোলন গড়ে তোলা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি।
রাজনৈতিক সংস্কার প্রসঙ্গেও সরব ছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, জনগণ ভোটের মাধ্যমে যে প্রত্যাশা তৈরি করেছে, তা পূরণে সরকার ব্যর্থ হলে রাজনৈতিক সংকট আরও বাড়তে পারে।
তার দাবি, জনগণের মতামত বা নির্বাচনী ম্যান্ডেটকে অগ্রাহ্য করার চেষ্টা হলে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে গড়িমসি করলে জনঅসন্তোষ বাড়তে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নিজেদের অবস্থান জানান দিতে আগ্রাসী ভাষা ব্যবহার করছে। এতে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কাও দেখা দিচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত সরকার বা বিএনপির পক্ষ থেকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি ফারাক্কা লংমার্চ দিবসের প্রসঙ্গ টেনে ভারতবিরোধী রাজনৈতিক অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মওলানা মওলানা ভাসানী একসময় পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন। সেই আদর্শ থেকে বর্তমান রাজনীতি সরে গেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষায়, সীমান্ত হত্যা ও নদীর পানিবণ্টন প্রশ্নে বাংলাদেশের আরও শক্ত অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতকেন্দ্রিক নীতির কারণে দেশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
যদিও এসব বক্তব্যের বিষয়ে ভারত বা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা জরুরি, কারণ এ ধরনের মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজশাহীর পানি সংকট এবং পদ্মা নদীর নাব্যতা নিয়েও কথা বলেন এনসিপির এই নেতা। তিনি দাবি করেন, নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় খাল খননের মতো প্রকল্প কার্যকর ফল দিচ্ছে না।
তার বক্তব্যে উঠে আসে, আগে নদীতে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে, এরপর খাল খননের উদ্যোগ নিলে তা বাস্তবসম্মত হবে। তিনি রাজশাহীবাসীকে পানির দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বানও জানান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরাঞ্চলে পানি সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। পদ্মা ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত নদীর পানিবণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বিভিন্ন সময় আলোচনা হলেও স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এনসিপির রাজশাহী মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন মহানগর আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, যুগ্ম সদস্যসচিব এ বি এম গাজী সালাউদ্দিন আহমেদ, এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন এবং জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মহানগরের সদস্যসচিব আতিকুর রহমান।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও কঠোর ভাষার ব্যবহার বেড়েছে। নতুন ও পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরতে গিয়ে কখনো কখনো উত্তেজনাপূর্ণ মন্তব্য করছে। এতে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তাদের মতে, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ধরে রাখতে হলে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সংলাপ, সহনশীলতা এবং দায়িত্বশীল বক্তব্য জরুরি। অন্যথায় মাঠের উত্তেজনা সাধারণ মানুষের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
বর্তমানে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। তবে এসব মন্তব্যের রাজনৈতিক প্রভাব কতটা দীর্ঘমেয়াদি হবে, তা সময়ই বলে দেবে।

রোববার, ১৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬
রাজশাহীতে রাজনৈতিক যোগদান অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও সরকারের নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় ফিরতে পারলে প্রথম হামলার লক্ষ্য হতে পারেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার দুপুরে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তন-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে নেতাকর্মীদের এনসিপিতে যোগদানের মধ্য দিয়ে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভারতবিষয়ক নীতি এবং সংস্কার প্রসঙ্গেও তীব্র ভাষায় মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতেই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, দলটি বিভিন্ন এলাকায় আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে বলে তাদের পর্যবেক্ষণ। সেই প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলে তাদের প্রথম লক্ষ্য হতে পারেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফেরার সুযোগ পেলে রাজনৈতিক সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা না করার আহ্বান জানান। তার ভাষ্য, অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন।
তার বক্তব্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি দাবি করেন, অতীতের সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও নাগরিক কার্ড ব্যবস্থারও সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের কার্ড দেওয়া হলেও বাস্তব উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাজশাহী ও চাঁদপুরের উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দুই অঞ্চলের মানুষ এখনো মৌলিক সমস্যার সমাধান পায়নি। তার অভিযোগ, শুধু কাগুজে সুবিধা দিয়ে মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।
এ সময় তিনি ‘লাল কার্ড’ কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে সরকারবিরোধী প্রতীকী আন্দোলন গড়ে তোলা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি।
রাজনৈতিক সংস্কার প্রসঙ্গেও সরব ছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, জনগণ ভোটের মাধ্যমে যে প্রত্যাশা তৈরি করেছে, তা পূরণে সরকার ব্যর্থ হলে রাজনৈতিক সংকট আরও বাড়তে পারে।
তার দাবি, জনগণের মতামত বা নির্বাচনী ম্যান্ডেটকে অগ্রাহ্য করার চেষ্টা হলে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে গড়িমসি করলে জনঅসন্তোষ বাড়তে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নিজেদের অবস্থান জানান দিতে আগ্রাসী ভাষা ব্যবহার করছে। এতে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কাও দেখা দিচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত সরকার বা বিএনপির পক্ষ থেকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি ফারাক্কা লংমার্চ দিবসের প্রসঙ্গ টেনে ভারতবিরোধী রাজনৈতিক অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মওলানা মওলানা ভাসানী একসময় পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন। সেই আদর্শ থেকে বর্তমান রাজনীতি সরে গেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষায়, সীমান্ত হত্যা ও নদীর পানিবণ্টন প্রশ্নে বাংলাদেশের আরও শক্ত অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতকেন্দ্রিক নীতির কারণে দেশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
যদিও এসব বক্তব্যের বিষয়ে ভারত বা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা জরুরি, কারণ এ ধরনের মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজশাহীর পানি সংকট এবং পদ্মা নদীর নাব্যতা নিয়েও কথা বলেন এনসিপির এই নেতা। তিনি দাবি করেন, নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় খাল খননের মতো প্রকল্প কার্যকর ফল দিচ্ছে না।
তার বক্তব্যে উঠে আসে, আগে নদীতে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে, এরপর খাল খননের উদ্যোগ নিলে তা বাস্তবসম্মত হবে। তিনি রাজশাহীবাসীকে পানির দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বানও জানান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরাঞ্চলে পানি সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। পদ্মা ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত নদীর পানিবণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বিভিন্ন সময় আলোচনা হলেও স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এনসিপির রাজশাহী মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন মহানগর আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, যুগ্ম সদস্যসচিব এ বি এম গাজী সালাউদ্দিন আহমেদ, এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন এবং জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মহানগরের সদস্যসচিব আতিকুর রহমান।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও কঠোর ভাষার ব্যবহার বেড়েছে। নতুন ও পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরতে গিয়ে কখনো কখনো উত্তেজনাপূর্ণ মন্তব্য করছে। এতে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তাদের মতে, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ধরে রাখতে হলে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সংলাপ, সহনশীলতা এবং দায়িত্বশীল বক্তব্য জরুরি। অন্যথায় মাঠের উত্তেজনা সাধারণ মানুষের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
বর্তমানে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। তবে এসব মন্তব্যের রাজনৈতিক প্রভাব কতটা দীর্ঘমেয়াদি হবে, তা সময়ই বলে দেবে।

আপনার মতামত লিখুন