দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

উত্তরবঙ্গ এখনও বঞ্চনার শিকার, তিস্তা ঘিরে ক্ষোভের কথা বললেন শফিকুর রহমান

উত্তরবঙ্গ এখনও বঞ্চনার শিকার, তিস্তা ঘিরে ক্ষোভের কথা বললেন শফিকুর রহমান

মালয়েশিয়ায় আঞ্চলিক সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন জামায়াত সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নির্বাচিত মঈন সরকার, এমপি জাহাঙ্গীরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়

ইডেন কলেজে মধ্যরাতের বিক্ষোভ, ‘রাজনীতিমুক্ত হল’ দাবিতে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস

ধ্বংসস্তূপের রাষ্ট্র থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ বিএনপির সামনে: মির্জা ফখরুল

এমপিদের স্লোগান-হট্টগোলে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি, অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ"

৪৫ দিনে সীমান্তে বেড়া: অমিত শাহের প্রতিশ্রুতি নিয়ে বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন

ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে গয়েশ্বরের বার্তা: ‘ক্ষমতায় যে-ই আসুক, সম্পর্ক থাকবে স্থিতিশীল’

উত্তরবঙ্গ এখনও বঞ্চনার শিকার, তিস্তা ঘিরে ক্ষোভের কথা বললেন শফিকুর রহমান

উত্তরবঙ্গ এখনও বঞ্চনার শিকার, তিস্তা ঘিরে ক্ষোভের কথা বললেন শফিকুর রহমান
-ছবি: সংগৃহীত

উত্তরাঞ্চলের মানুষ স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে পিছিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। রংপুরে এক সুধী সমাবেশের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, দেশের উন্নয়নের মূলধারা থেকে উত্তরবঙ্গ দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুর শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে তিনি এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে তিস্তা নদীকেন্দ্রিক দুর্ভোগ, নদীভাঙন, কৃষি সংকট এবং আঞ্চলিক বৈষম্যের প্রসঙ্গ।

‘রাজধানী থেকে দূরের জেলাগুলো বেশি বঞ্চিত’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার বিচারে দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা অঞ্চলগুলোর একটি উত্তরবঙ্গ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজধানী থেকে যে জেলা যত দূরে, সেই এলাকার মানুষের দুর্ভোগও তত বেশি। বিশেষ করে তিস্তাপাড়ের জেলাগুলো দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার বলে তিনি অভিযোগ করেন।


তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের ন্যূনতম চাহিদাগুলোও সঠিকভাবে পূরণ হয়নি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক খাতে এখনো কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন চোখে পড়ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এরশাদের অবদানের কথা স্মরণ

বক্তব্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ-এর প্রসঙ্গও তুলে আনেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে এরশাদ সরকারের কিছু উদ্যোগ ছিল, যার জন্য তাকে কৃতিত্ব দেওয়া উচিত।

তবে একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সরকারের আমলে উত্তরবঙ্গকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হলেও বাস্তব উন্নয়নে ধারাবাহিকতা ছিল না। ফলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরাঞ্চলের ভোট রাজনীতিতে তিস্তা, নদীভাঙন ও কৃষি সংকট দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। নির্বাচন সামনে এলে প্রায় সব রাজনৈতিক দলই এই অঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়নের মুখ দেখে না।

নদী এখন আশীর্বাদের বদলে দুর্ভোগের কারণ

তিস্তা ও উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য নদীর বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, একসময় এসব নদী মানুষের জীবন ও জীবিকার উৎস ছিল। কিন্তু এখন অনেক নদীতে পলি ও বালু জমে পানিপ্রবাহ কমে গেছে।

তার দাবি, বর্ষা মৌসুমে নদীগুলো অতিরিক্ত পানি ধারণ করতে না পারায় ভাঙন বাড়ছে। এতে প্রতিবছর অসংখ্য পরিবার বসতভিটা হারাচ্ছে। আবার শুষ্ক মৌসুমে কৃষকেরা সেচের পানির সংকটে পড়ছেন।

তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের অনেক এলাকায় কৃষকরা সময়মতো পানি না পাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন করতে পারছেন না। এতে কৃষিনির্ভর অর্থনীতির ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী খনন, পানি ব্যবস্থাপনা ও ভাঙনরোধে কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তঃসীমান্ত নদীর পানিপ্রবাহ নিয়েও নতুন করে ভাবতে হবে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনার প্রতিশ্রুতি

ক্ষমতায় গেলে তিস্তা কেন্দ্রিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে তিস্তার উন্নয়ন কার্যক্রম দিয়েই কাজ শুরু করতে চান তারা।


তার ভাষায়, তিস্তা ও আশপাশের নদীপাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন জরুরি। সেই লক্ষ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা বলছে তার দল।

যদিও এই মহাপরিকল্পনার বিস্তারিত রূপরেখা বা অর্থায়নের বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কিছু জানাননি। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে তিস্তা ইস্যুকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সরকারের সমালোচনা

বর্তমান সরকারের সমালোচনাও করেন শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে তিস্তা নিয়ে বড় বড় ঘোষণা ও আন্দোলনের কথা বলা হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান অগ্রগতি খুব কম।

তার মতে, উত্তরাঞ্চলের মতো বিশাল জনগোষ্ঠীকে দীর্ঘদিন অবহেলায় রেখে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, দেশের সুষম উন্নয়নের জন্য আঞ্চলিক বৈষম্য কমানো জরুরি।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ বক্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উত্তরাঞ্চলের বাস্তবতা নিয়ে নতুন আলোচনা

উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। কিন্তু নদীভাঙন, খরা, মৌসুমি বন্যা ও কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখেছে। অনেক পরিবার প্রতিবছর নতুন করে ঘর হারায়, আবার অনেকে কাজের সন্ধানে অন্য জেলায় চলে যেতে বাধ্য হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রশ্নটি শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনায় নিয়ে আসা প্রয়োজন। নদী ব্যবস্থাপনা, সেচ সুবিধা, শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন একসঙ্গে না হলে এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি সংকট কাটানো কঠিন হবে।

এ ছাড়া তিস্তা নদী নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত পানি বণ্টন আলোচনাও উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ফলে বিষয়টি এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, জাতীয় গুরুত্বও বহন করছে।


বর্তমান পরিস্থিতি কী

রংপুরে সুধী সমাবেশ ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হলেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বা উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে এখনো নতুন কোনো সরকারি ঘোষণা আসেনি। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বক্তব্যে বিষয়টি আবারও সামনে চলে এসেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়ে উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশেষ করে নদীভাঙন রোধ, কৃষিতে পানির নিশ্চয়তা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো বিষয়গুলোতে দ্রুত উদ্যোগ দেখতে চান তারা।

বিষয় : তিস্তা মহাপরিকল্পনা, শফিকুর রহমান, রংপুর রাজনীতি

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬


উত্তরবঙ্গ এখনও বঞ্চনার শিকার, তিস্তা ঘিরে ক্ষোভের কথা বললেন শফিকুর রহমান

প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬

featured Image

উত্তরাঞ্চলের মানুষ স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে পিছিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। রংপুরে এক সুধী সমাবেশের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, দেশের উন্নয়নের মূলধারা থেকে উত্তরবঙ্গ দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুর শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে তিনি এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে তিস্তা নদীকেন্দ্রিক দুর্ভোগ, নদীভাঙন, কৃষি সংকট এবং আঞ্চলিক বৈষম্যের প্রসঙ্গ।

‘রাজধানী থেকে দূরের জেলাগুলো বেশি বঞ্চিত’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার বিচারে দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা অঞ্চলগুলোর একটি উত্তরবঙ্গ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজধানী থেকে যে জেলা যত দূরে, সেই এলাকার মানুষের দুর্ভোগও তত বেশি। বিশেষ করে তিস্তাপাড়ের জেলাগুলো দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার বলে তিনি অভিযোগ করেন।


তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের ন্যূনতম চাহিদাগুলোও সঠিকভাবে পূরণ হয়নি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক খাতে এখনো কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন চোখে পড়ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এরশাদের অবদানের কথা স্মরণ

বক্তব্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ-এর প্রসঙ্গও তুলে আনেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে এরশাদ সরকারের কিছু উদ্যোগ ছিল, যার জন্য তাকে কৃতিত্ব দেওয়া উচিত।

তবে একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সরকারের আমলে উত্তরবঙ্গকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হলেও বাস্তব উন্নয়নে ধারাবাহিকতা ছিল না। ফলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরাঞ্চলের ভোট রাজনীতিতে তিস্তা, নদীভাঙন ও কৃষি সংকট দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। নির্বাচন সামনে এলে প্রায় সব রাজনৈতিক দলই এই অঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়নের মুখ দেখে না।

নদী এখন আশীর্বাদের বদলে দুর্ভোগের কারণ

তিস্তা ও উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য নদীর বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, একসময় এসব নদী মানুষের জীবন ও জীবিকার উৎস ছিল। কিন্তু এখন অনেক নদীতে পলি ও বালু জমে পানিপ্রবাহ কমে গেছে।

তার দাবি, বর্ষা মৌসুমে নদীগুলো অতিরিক্ত পানি ধারণ করতে না পারায় ভাঙন বাড়ছে। এতে প্রতিবছর অসংখ্য পরিবার বসতভিটা হারাচ্ছে। আবার শুষ্ক মৌসুমে কৃষকেরা সেচের পানির সংকটে পড়ছেন।

তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের অনেক এলাকায় কৃষকরা সময়মতো পানি না পাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন করতে পারছেন না। এতে কৃষিনির্ভর অর্থনীতির ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী খনন, পানি ব্যবস্থাপনা ও ভাঙনরোধে কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তঃসীমান্ত নদীর পানিপ্রবাহ নিয়েও নতুন করে ভাবতে হবে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনার প্রতিশ্রুতি

ক্ষমতায় গেলে তিস্তা কেন্দ্রিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে তিস্তার উন্নয়ন কার্যক্রম দিয়েই কাজ শুরু করতে চান তারা।


তার ভাষায়, তিস্তা ও আশপাশের নদীপাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন জরুরি। সেই লক্ষ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা বলছে তার দল।

যদিও এই মহাপরিকল্পনার বিস্তারিত রূপরেখা বা অর্থায়নের বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কিছু জানাননি। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে তিস্তা ইস্যুকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সরকারের সমালোচনা

বর্তমান সরকারের সমালোচনাও করেন শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে তিস্তা নিয়ে বড় বড় ঘোষণা ও আন্দোলনের কথা বলা হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান অগ্রগতি খুব কম।

তার মতে, উত্তরাঞ্চলের মতো বিশাল জনগোষ্ঠীকে দীর্ঘদিন অবহেলায় রেখে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, দেশের সুষম উন্নয়নের জন্য আঞ্চলিক বৈষম্য কমানো জরুরি।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ বক্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উত্তরাঞ্চলের বাস্তবতা নিয়ে নতুন আলোচনা

উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। কিন্তু নদীভাঙন, খরা, মৌসুমি বন্যা ও কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখেছে। অনেক পরিবার প্রতিবছর নতুন করে ঘর হারায়, আবার অনেকে কাজের সন্ধানে অন্য জেলায় চলে যেতে বাধ্য হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রশ্নটি শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনায় নিয়ে আসা প্রয়োজন। নদী ব্যবস্থাপনা, সেচ সুবিধা, শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন একসঙ্গে না হলে এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি সংকট কাটানো কঠিন হবে।

এ ছাড়া তিস্তা নদী নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত পানি বণ্টন আলোচনাও উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ফলে বিষয়টি এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, জাতীয় গুরুত্বও বহন করছে।


বর্তমান পরিস্থিতি কী

রংপুরে সুধী সমাবেশ ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হলেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বা উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে এখনো নতুন কোনো সরকারি ঘোষণা আসেনি। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বক্তব্যে বিষয়টি আবারও সামনে চলে এসেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়ে উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশেষ করে নদীভাঙন রোধ, কৃষিতে পানির নিশ্চয়তা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো বিষয়গুলোতে দ্রুত উদ্যোগ দেখতে চান তারা।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর