রাজধানীর শাহবাগে মানববন্ধন করে ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে চাকরিচ্যুত ও ক্ষতিগ্রস্ত বিডিআর সদস্যদের পুনর্বহাল, ক্ষতিপূরণ এবং কারাবন্দী সদস্যদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে বিডিআর কল্যাণ পরিষদ। শুক্রবার দুপুরে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সাবেক বিডিআর সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা দাবি করেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর দেশের বিভিন্ন ইউনিট থেকে বহু সদস্যকে যথাযথ তদন্ত ছাড়াই গ্রেপ্তার ও চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে অনেক সদস্য কারাগারে রয়েছেন এবং তাঁদের পরিবার মানবিক ও আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে।
শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে শাহবাগ চত্বরে এই মানববন্ধন শুরু হয়। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নেন। এ সময় তাঁরা চাকরি পুনর্বহাল, নিরপরাধ সদস্যদের মুক্তি এবং ক্ষতিপূরণের দাবিতে স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে বিডিআর কল্যাণ পরিষদের মুখপাত্র সাইদ আহমদ খান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, পিলখানার ঘটনার পর প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে গিয়ে অনেক নিরপরাধ সদস্যকে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে তাঁদের দাবি। তাঁর ভাষ্য, “সাজানো তদন্ত ও মিথ্যা সাক্ষ্যের ভিত্তিতে বহু সদস্য বছরের পর বছর কারাভোগ করছেন।”
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন চাকরিচ্যুত থাকার কারণে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েছে। অনেকের সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে, চিকিৎসার অভাবে অসুস্থ সদস্যদের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মানববন্ধন থেকে বিডিআর কল্যাণ পরিষদ দুই দফা দাবি তুলে ধরে। সেগুলো হলো—
সংগঠনের নেতারা বলেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তাঁরা নতুন করে আন্দোলনের পথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
মানববন্ধনে সংগঠনের সভাপতি মো. ফয়জুল আলম বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর শুধু ঢাকার ভেতর নয়, দেশের বিভিন্ন ইউনিট থেকেও অসংখ্য সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এদের একটি বড় অংশ কোনো অপরাধে জড়িত ছিলেন না।
তিনি বলেন, “চাকরি হারানোর পর অনেক পরিবার সামাজিক মর্যাদা ও জীবিকার পথ হারিয়েছে। আমরা চাই নিরপেক্ষভাবে বিষয়গুলো আবার পর্যালোচনা করা হোক।”
ফয়জুল আলম আরও বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অতীতে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হলেও ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যদের বিষয়ে এখনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। তিনি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার আহ্বান জানান।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ওই ঘটনায় সেনাবাহিনীর বহু কর্মকর্তা নিহত হন। পরে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে হত্যা, বিস্ফোরক ও বিদ্রোহের অভিযোগে অসংখ্য বিডিআর সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
বছরের পর বছর ধরে এ ঘটনায় বিচারিক কার্যক্রম চলেছে। বিভিন্ন আদালতে অনেক সদস্য দণ্ডিত হয়েছেন, আবার কেউ কেউ খালাসও পেয়েছেন। তবে শুরু থেকেই কিছু পক্ষ অভিযোগ করে আসছে যে, তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় নিরপরাধ সদস্যদেরও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। যদিও রাষ্ট্রপক্ষ বরাবরই বলেছে, আদালতের রায় ও তদন্তের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মানববন্ধনের শেষ দিকে সংগঠনের নেতারা জানান, দাবি পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ না এলে আগামী ১ জুলাই সারা দেশের চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
তাঁদের ভাষ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তাঁরা ন্যায়বিচারের আশায় অপেক্ষা করছেন। এখনো সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
পিলখানা হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও সংবেদনশীল ঘটনা। এই ঘটনার বিচার, তদন্ত এবং পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের বিচার প্রত্যাশা, অন্যদিকে চাকরিচ্যুত ও দণ্ডিত সদস্যদের একটি অংশের ন্যায়বিচারের দাবি—দুই পক্ষের অবস্থানই সমাজে আলোচনার বিষয় হয়ে আছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন সংবেদনশীল ঘটনায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে যেসব পরিবার দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক ও সামাজিক সংকটে আছে, তাদের মানবিক দিকটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বর্তমানে বিডিআর কল্যাণ পরিষদের দাবির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬
রাজধানীর শাহবাগে মানববন্ধন করে ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে চাকরিচ্যুত ও ক্ষতিগ্রস্ত বিডিআর সদস্যদের পুনর্বহাল, ক্ষতিপূরণ এবং কারাবন্দী সদস্যদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে বিডিআর কল্যাণ পরিষদ। শুক্রবার দুপুরে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সাবেক বিডিআর সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা দাবি করেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর দেশের বিভিন্ন ইউনিট থেকে বহু সদস্যকে যথাযথ তদন্ত ছাড়াই গ্রেপ্তার ও চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে অনেক সদস্য কারাগারে রয়েছেন এবং তাঁদের পরিবার মানবিক ও আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে।
শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে শাহবাগ চত্বরে এই মানববন্ধন শুরু হয়। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নেন। এ সময় তাঁরা চাকরি পুনর্বহাল, নিরপরাধ সদস্যদের মুক্তি এবং ক্ষতিপূরণের দাবিতে স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে বিডিআর কল্যাণ পরিষদের মুখপাত্র সাইদ আহমদ খান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, পিলখানার ঘটনার পর প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে গিয়ে অনেক নিরপরাধ সদস্যকে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে তাঁদের দাবি। তাঁর ভাষ্য, “সাজানো তদন্ত ও মিথ্যা সাক্ষ্যের ভিত্তিতে বহু সদস্য বছরের পর বছর কারাভোগ করছেন।”
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন চাকরিচ্যুত থাকার কারণে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েছে। অনেকের সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে, চিকিৎসার অভাবে অসুস্থ সদস্যদের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মানববন্ধন থেকে বিডিআর কল্যাণ পরিষদ দুই দফা দাবি তুলে ধরে। সেগুলো হলো—
সংগঠনের নেতারা বলেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তাঁরা নতুন করে আন্দোলনের পথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
মানববন্ধনে সংগঠনের সভাপতি মো. ফয়জুল আলম বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর শুধু ঢাকার ভেতর নয়, দেশের বিভিন্ন ইউনিট থেকেও অসংখ্য সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এদের একটি বড় অংশ কোনো অপরাধে জড়িত ছিলেন না।
তিনি বলেন, “চাকরি হারানোর পর অনেক পরিবার সামাজিক মর্যাদা ও জীবিকার পথ হারিয়েছে। আমরা চাই নিরপেক্ষভাবে বিষয়গুলো আবার পর্যালোচনা করা হোক।”
ফয়জুল আলম আরও বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অতীতে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হলেও ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যদের বিষয়ে এখনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। তিনি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার আহ্বান জানান।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ওই ঘটনায় সেনাবাহিনীর বহু কর্মকর্তা নিহত হন। পরে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে হত্যা, বিস্ফোরক ও বিদ্রোহের অভিযোগে অসংখ্য বিডিআর সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
বছরের পর বছর ধরে এ ঘটনায় বিচারিক কার্যক্রম চলেছে। বিভিন্ন আদালতে অনেক সদস্য দণ্ডিত হয়েছেন, আবার কেউ কেউ খালাসও পেয়েছেন। তবে শুরু থেকেই কিছু পক্ষ অভিযোগ করে আসছে যে, তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় নিরপরাধ সদস্যদেরও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। যদিও রাষ্ট্রপক্ষ বরাবরই বলেছে, আদালতের রায় ও তদন্তের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মানববন্ধনের শেষ দিকে সংগঠনের নেতারা জানান, দাবি পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ না এলে আগামী ১ জুলাই সারা দেশের চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
তাঁদের ভাষ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তাঁরা ন্যায়বিচারের আশায় অপেক্ষা করছেন। এখনো সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
পিলখানা হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও সংবেদনশীল ঘটনা। এই ঘটনার বিচার, তদন্ত এবং পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের বিচার প্রত্যাশা, অন্যদিকে চাকরিচ্যুত ও দণ্ডিত সদস্যদের একটি অংশের ন্যায়বিচারের দাবি—দুই পক্ষের অবস্থানই সমাজে আলোচনার বিষয় হয়ে আছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন সংবেদনশীল ঘটনায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে যেসব পরিবার দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক ও সামাজিক সংকটে আছে, তাদের মানবিক দিকটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বর্তমানে বিডিআর কল্যাণ পরিষদের দাবির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন