নরসিংদী জেলা স্টেডিয়াম যেন একদিনের জন্য পরিণত হয়েছিল শিশুদের আনন্দ, স্বপ্ন আর ক্রীড়া উন্মাদনার মিলনমেলায়। প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক ও বালিকা)–২০২৬ এর ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও ক্রীড়াপ্রেমীদের উপস্থিতিতে পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।
দিনব্যাপী আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল ঘিরে ছিল ব্যাপক উৎসাহ। মাঠে ছোট্ট খেলোয়াড়দের দারুণ নৈপুণ্য, গ্যালারিতে দর্শকদের করতালি আর অতিথিদের অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খায়রুল কবির খোকন। তিনি বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সময়ে শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য মাঠভিত্তিক খেলাধুলাকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, শুধু পরীক্ষার ফলাফল নয়, সন্তানের মানসিক বিকাশ ও সামাজিক দক্ষতার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
ফাইনাল খেলাকে ঘিরে সকাল থেকেই স্টেডিয়ামে দর্শকদের ভিড় বাড়তে থাকে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা বালক ও বালিকা দলের খেলোয়াড়রা মাঠে নামার আগে নিজেদের মধ্যে কৌশল নির্ধারণ ও অনুশীলনে ব্যস্ত সময় পার করেন।
খেলার শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল জয়ের প্রবল ইচ্ছা। ছোট্ট ফুটবলারদের দৌড়ঝাঁপ, আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ এবং গোলের চেষ্টা দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উত্তেজনা তৈরি করে। গ্যালারিতে থাকা সহপাঠী ও শিক্ষকরাও নিজেদের দলকে সমর্থন জানাতে স্লোগানে মুখর ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ আশরাফ উদ্দিন বকুল। তিনি বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহ-সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে শিশুদের মাঠের খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলা শিশুদের শৃঙ্খলাবোধ, দলগত চেতনা ও নেতৃত্বের গুণ তৈরি করে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনেক শিশু মোবাইল ফোন ও ভার্চুয়াল জগতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আনতে খেলাধুলা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তাই বিদ্যালয়ভিত্তিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নিয়মিত আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসরাত জাহান কেয়া। তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিশুদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে তারা ভবিষ্যতে আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
তিনি আরও জানান, সরকার শিক্ষার পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমেও গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ একজন শিশুর পূর্ণাঙ্গ বিকাশের জন্য শুধু বইয়ের জ্ঞান যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সামাজিক সম্পৃক্ততা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মো: আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক, ডা. মো: বুলবুল কবীর এবং রাশেদুল হাসান রিন্টু।
অতিথিরা খেলা শেষে বিজয়ী ও রানারআপ দলের হাতে ট্রফি, মেডেল ও সনদ তুলে দেন। পুরস্কার হাতে পেয়ে শিশুদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে পুরো স্টেডিয়াম মুখর হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষক জানান, বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ আগের তুলনায় অনেক বেশি। খেলাধুলা তাদের সেই চাপ কমাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে দলগতভাবে কাজ করা, পরাজয় মেনে নেওয়া এবং নেতৃত্ব দেওয়ার মতো গুণও খেলাধুলার মাধ্যমে তৈরি হয়।
একজন শিক্ষক বলেন, “অনেক শিক্ষার্থী বইয়ের বাইরে অন্য কোনো কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে না। কিন্তু খেলাধুলা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহও বৃদ্ধি করে।”
অভিভাবকদের অনেকেই বলেন, শিশুদের মাঠে সক্রিয় দেখতে পেরে তারা আনন্দিত। তারা মনে করেন, নিয়মিত খেলাধুলা শিশুদের শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক বিকাশেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ক্রীড়া সংগঠকরা মনে করছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে এ ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজন ভবিষ্যতের খেলোয়াড় তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ছোটবেলা থেকেই প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা পেলে অনেক শিক্ষার্থী জাতীয় পর্যায়েও নিজেদের মেলে ধরতে সক্ষম হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে শিশুদের মধ্যে স্থূলতা, অনলাইন আসক্তি ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বাড়ছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় নিয়মিত খেলাধুলা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তাই বিদ্যালয় ও পরিবার—উভয় জায়গা থেকেই শিশুদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করা জরুরি।
ফাইনাল খেলা শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা অতিথিদের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং আনন্দ ভাগাভাগি করেন। স্টেডিয়ামজুড়ে তখন ছিল উৎসবের আবহ। শিশুদের হাসিমুখ আর উচ্ছ্বাসে পুরো আয়োজনটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়।
আয়োজকরা জানান, আগামী বছরগুলোতেও আরও বড় পরিসরে এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। শিশুদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য বলেও জানান তারা।

রোববার, ১৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬
নরসিংদী জেলা স্টেডিয়াম যেন একদিনের জন্য পরিণত হয়েছিল শিশুদের আনন্দ, স্বপ্ন আর ক্রীড়া উন্মাদনার মিলনমেলায়। প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক ও বালিকা)–২০২৬ এর ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও ক্রীড়াপ্রেমীদের উপস্থিতিতে পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।
দিনব্যাপী আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল ঘিরে ছিল ব্যাপক উৎসাহ। মাঠে ছোট্ট খেলোয়াড়দের দারুণ নৈপুণ্য, গ্যালারিতে দর্শকদের করতালি আর অতিথিদের অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খায়রুল কবির খোকন। তিনি বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সময়ে শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য মাঠভিত্তিক খেলাধুলাকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, শুধু পরীক্ষার ফলাফল নয়, সন্তানের মানসিক বিকাশ ও সামাজিক দক্ষতার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
ফাইনাল খেলাকে ঘিরে সকাল থেকেই স্টেডিয়ামে দর্শকদের ভিড় বাড়তে থাকে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা বালক ও বালিকা দলের খেলোয়াড়রা মাঠে নামার আগে নিজেদের মধ্যে কৌশল নির্ধারণ ও অনুশীলনে ব্যস্ত সময় পার করেন।
খেলার শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল জয়ের প্রবল ইচ্ছা। ছোট্ট ফুটবলারদের দৌড়ঝাঁপ, আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ এবং গোলের চেষ্টা দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উত্তেজনা তৈরি করে। গ্যালারিতে থাকা সহপাঠী ও শিক্ষকরাও নিজেদের দলকে সমর্থন জানাতে স্লোগানে মুখর ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ আশরাফ উদ্দিন বকুল। তিনি বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহ-সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে শিশুদের মাঠের খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলা শিশুদের শৃঙ্খলাবোধ, দলগত চেতনা ও নেতৃত্বের গুণ তৈরি করে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনেক শিশু মোবাইল ফোন ও ভার্চুয়াল জগতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আনতে খেলাধুলা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তাই বিদ্যালয়ভিত্তিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নিয়মিত আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসরাত জাহান কেয়া। তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিশুদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে তারা ভবিষ্যতে আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
তিনি আরও জানান, সরকার শিক্ষার পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমেও গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ একজন শিশুর পূর্ণাঙ্গ বিকাশের জন্য শুধু বইয়ের জ্ঞান যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সামাজিক সম্পৃক্ততা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মো: আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক, ডা. মো: বুলবুল কবীর এবং রাশেদুল হাসান রিন্টু।
অতিথিরা খেলা শেষে বিজয়ী ও রানারআপ দলের হাতে ট্রফি, মেডেল ও সনদ তুলে দেন। পুরস্কার হাতে পেয়ে শিশুদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে পুরো স্টেডিয়াম মুখর হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষক জানান, বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ আগের তুলনায় অনেক বেশি। খেলাধুলা তাদের সেই চাপ কমাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে দলগতভাবে কাজ করা, পরাজয় মেনে নেওয়া এবং নেতৃত্ব দেওয়ার মতো গুণও খেলাধুলার মাধ্যমে তৈরি হয়।
একজন শিক্ষক বলেন, “অনেক শিক্ষার্থী বইয়ের বাইরে অন্য কোনো কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে না। কিন্তু খেলাধুলা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহও বৃদ্ধি করে।”
অভিভাবকদের অনেকেই বলেন, শিশুদের মাঠে সক্রিয় দেখতে পেরে তারা আনন্দিত। তারা মনে করেন, নিয়মিত খেলাধুলা শিশুদের শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক বিকাশেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ক্রীড়া সংগঠকরা মনে করছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে এ ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজন ভবিষ্যতের খেলোয়াড় তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ছোটবেলা থেকেই প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা পেলে অনেক শিক্ষার্থী জাতীয় পর্যায়েও নিজেদের মেলে ধরতে সক্ষম হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে শিশুদের মধ্যে স্থূলতা, অনলাইন আসক্তি ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বাড়ছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় নিয়মিত খেলাধুলা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তাই বিদ্যালয় ও পরিবার—উভয় জায়গা থেকেই শিশুদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করা জরুরি।
ফাইনাল খেলা শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা অতিথিদের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং আনন্দ ভাগাভাগি করেন। স্টেডিয়ামজুড়ে তখন ছিল উৎসবের আবহ। শিশুদের হাসিমুখ আর উচ্ছ্বাসে পুরো আয়োজনটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়।
আয়োজকরা জানান, আগামী বছরগুলোতেও আরও বড় পরিসরে এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। শিশুদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য বলেও জানান তারা।

আপনার মতামত লিখুন