দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, দুই মাসে প্রাণ গেল ৩১ জনের

ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, দুই মাসে প্রাণ গেল ৩১ জনের

৭২ ঘণ্টায় ৩ মৃত্যু, গাইবান্ধায় জলাতঙ্ক আতঙ্ক—হাসপাতালে টিকা নেই, অভিযোগে ক্ষোভ

রেডিওথেরাপি মানেই আতঙ্ক নয়, ক্যান্সার চিকিৎসায় কেন বাড়ছে এই পদ্ধতির গুরুত্ব

হামের চাপের মাঝেই ঢাকায় নতুন আতঙ্ক ডেঙ্গু: বৃষ্টির পানিতে বাড়ছে এডিসের বিস্তার, সতর্ক প্রশাসন

চার সপ্তাহের মধ্যে হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হামের থাবায় আরও ৯ শিশুর মৃত্যু, দেড় মাসে প্রাণ গেল ৩৫২ জনের'".

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে বাড়ছে চাপ

২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু: হাম পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ

ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, দুই মাসে প্রাণ গেল ৩১ জনের

ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, দুই মাসে প্রাণ গেল ৩১ জনের
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শিশুরা। -ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুদের বয়স ছিল মাত্র ৩ ও ১০ মাস। চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত হাসপাতালটিতে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়ে মারা গেছে ৩১ জন। নতুন এই দুই মৃত্যুর ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

বুধবার (১৩ মে) সকালে হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার এক বিজ্ঞপ্তিতে দুই শিশুর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মৃত শিশুদের একজন জামালপুর এবং অন্যজন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।


কয়েক দিনের ব্যবধানে দুই শিশুর মৃত্যু

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জামালপুরের তিন মাস বয়সী শিশুটিকে গত ১১ মে হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, ঈশ্বরগঞ্জের ১০ মাস বয়সী শিশুটিকে গত ৫ মে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কয়েক দিন ধরে আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা চলার পর বুধবার ভোরে সে মারা যায়।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, আক্রান্ত শিশুদের অনেকেই জ্বর, শরীরে লালচে দানা, শ্বাসকষ্ট ও দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে আসছে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে শিশুদের শারীরিক অবস্থা জটিল হয়ে পড়ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

দুই মাসে হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ১৩০০ শিশু

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে ১৩ মে পর্যন্ত হাম আক্রান্ত ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ২৯৩ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ১৬৬ জন।

এখনও হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে ৯৬ শিশু। চিকিৎসক ও নার্সদের একটি বড় অংশকে এসব রোগীর সেবায় কাজ করতে হচ্ছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গরম আবহাওয়া, সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এবং অনেক শিশুর টিকা না নেওয়ার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে। যদিও কোন এলাকায় সংক্রমণ বেশি ছড়িয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

‘টিকার কার্যকারিতা শুরু হলে প্রকোপ কমবে’

হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার বলেন, “হাম খুব দ্রুত ছড়ায়। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে টিকার কার্যকারিতা শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।”

তিনি আরও বলেন, “অভিভাবকদের একটু সচেতনতা শিশুকে বড় ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে পারে। জ্বর বা শরীরে দানা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে।”

স্বাস্থ্যকর্মীদের দাবি, অনেক অভিভাবক শুরুতে সাধারণ জ্বর ভেবে চিকিৎসা নিতে দেরি করছেন। ফলে কিছু শিশু গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছাচ্ছে।

আইসোলেশন ওয়ার্ডে বাড়ছে চাপ

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বাড়ছে বলে জানা গেছে। প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় শয্যা ব্যবস্থাপনা নিয়েও চাপ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও হাসপাতাল প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।


কিছু অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, শিশুদের নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় চাপ তৈরি হলেও চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

একজন অভিভাবক বলেন, “ছোট বাচ্চাদের কষ্ট দেখে ভয় লাগছে। অনেকেই দূরের জেলা থেকে আসছে। সবাই আতঙ্কের মধ্যে আছে।”

হাম নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা না নিলে শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে পড়ে। অপুষ্টি বা আগে থেকেই দুর্বল শিশুদের ক্ষেত্রে জটিলতা আরও বাড়তে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন সময়ের প্রচারণায় শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও অনেক এলাকায় এখনও টিকা গ্রহণে অনীহা বা অসচেতনতার অভিযোগ রয়েছে। ফলে সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা বাড়ালেই হবে না, পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রমও জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করা জরুরি।

সামাজিক প্রভাবও বাড়ছে

হামের সংক্রমণ বাড়ায় শুধু হাসপাতাল নয়, পরিবারগুলোও মানসিক চাপে পড়ছে। অনেক বাবা-মা শিশুদের নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। স্কুলপড়ুয়া শিশুদের পরিবারেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, গুজব বা ভুল তথ্যের কারণে টিকা নিয়ে ভয় তৈরি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সংক্রামক রোগ নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়লেও টিকাদানে অনিয়ম বা দেরি এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। তাই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবার—সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।


এখন কী পরিস্থিতি

বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং নতুন রোগী সামলাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় অভিভাবকদের উদ্বেগও বাড়ছে। চিকিৎসকরা জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন।

বিষয় : হাম আক্রান্ত শিশু হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড ময়মনসিংহ মেডিকেল

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬


ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, দুই মাসে প্রাণ গেল ৩১ জনের

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬

featured Image

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুদের বয়স ছিল মাত্র ৩ ও ১০ মাস। চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত হাসপাতালটিতে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়ে মারা গেছে ৩১ জন। নতুন এই দুই মৃত্যুর ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

বুধবার (১৩ মে) সকালে হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার এক বিজ্ঞপ্তিতে দুই শিশুর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মৃত শিশুদের একজন জামালপুর এবং অন্যজন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।


কয়েক দিনের ব্যবধানে দুই শিশুর মৃত্যু

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জামালপুরের তিন মাস বয়সী শিশুটিকে গত ১১ মে হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, ঈশ্বরগঞ্জের ১০ মাস বয়সী শিশুটিকে গত ৫ মে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কয়েক দিন ধরে আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা চলার পর বুধবার ভোরে সে মারা যায়।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, আক্রান্ত শিশুদের অনেকেই জ্বর, শরীরে লালচে দানা, শ্বাসকষ্ট ও দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে আসছে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে শিশুদের শারীরিক অবস্থা জটিল হয়ে পড়ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

দুই মাসে হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ১৩০০ শিশু

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে ১৩ মে পর্যন্ত হাম আক্রান্ত ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ২৯৩ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ১৬৬ জন।

এখনও হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে ৯৬ শিশু। চিকিৎসক ও নার্সদের একটি বড় অংশকে এসব রোগীর সেবায় কাজ করতে হচ্ছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গরম আবহাওয়া, সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এবং অনেক শিশুর টিকা না নেওয়ার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে। যদিও কোন এলাকায় সংক্রমণ বেশি ছড়িয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

‘টিকার কার্যকারিতা শুরু হলে প্রকোপ কমবে’

হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার বলেন, “হাম খুব দ্রুত ছড়ায়। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে টিকার কার্যকারিতা শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।”

তিনি আরও বলেন, “অভিভাবকদের একটু সচেতনতা শিশুকে বড় ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে পারে। জ্বর বা শরীরে দানা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে।”

স্বাস্থ্যকর্মীদের দাবি, অনেক অভিভাবক শুরুতে সাধারণ জ্বর ভেবে চিকিৎসা নিতে দেরি করছেন। ফলে কিছু শিশু গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছাচ্ছে।

আইসোলেশন ওয়ার্ডে বাড়ছে চাপ

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বাড়ছে বলে জানা গেছে। প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় শয্যা ব্যবস্থাপনা নিয়েও চাপ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও হাসপাতাল প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।


কিছু অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, শিশুদের নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় চাপ তৈরি হলেও চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

একজন অভিভাবক বলেন, “ছোট বাচ্চাদের কষ্ট দেখে ভয় লাগছে। অনেকেই দূরের জেলা থেকে আসছে। সবাই আতঙ্কের মধ্যে আছে।”

হাম নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা না নিলে শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে পড়ে। অপুষ্টি বা আগে থেকেই দুর্বল শিশুদের ক্ষেত্রে জটিলতা আরও বাড়তে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন সময়ের প্রচারণায় শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও অনেক এলাকায় এখনও টিকা গ্রহণে অনীহা বা অসচেতনতার অভিযোগ রয়েছে। ফলে সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা বাড়ালেই হবে না, পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রমও জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করা জরুরি।

সামাজিক প্রভাবও বাড়ছে

হামের সংক্রমণ বাড়ায় শুধু হাসপাতাল নয়, পরিবারগুলোও মানসিক চাপে পড়ছে। অনেক বাবা-মা শিশুদের নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। স্কুলপড়ুয়া শিশুদের পরিবারেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, গুজব বা ভুল তথ্যের কারণে টিকা নিয়ে ভয় তৈরি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সংক্রামক রোগ নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়লেও টিকাদানে অনিয়ম বা দেরি এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। তাই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবার—সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।


এখন কী পরিস্থিতি

বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং নতুন রোগী সামলাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় অভিভাবকদের উদ্বেগও বাড়ছে। চিকিৎসকরা জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর