গাইবান্ধায় জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকার সংকট এখন জনস্বাস্থ্য উদ্বেগে রূপ নিয়েছে। জেলার একমাত্র জেনারেল হাসপাতালে নিয়মিত ভ্যাকসিন না থাকায় রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। এরই মধ্যে মাত্র ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনজনের মৃত্যু হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো জেলায়। আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর অভিযোগ, সময়মতো টিকা না পাওয়ায় চিকিৎসা শুরু বিলম্বিত হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালের কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে টাকা ছাড়া টিকা না দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
মঙ্গলবার গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা নিতে আসা কয়েকজন রোগী দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন। হাসপাতালের ডগবাইট কক্ষটি তখন তালাবদ্ধ ছিল। পরে দায়িত্বে থাকা একজন কর্মী এসে জানিয়ে দেন, হাসপাতালে কোনো ভ্যাকসিন নেই। বাধ্য হয়ে রোগীদের বাইরে থেকে চড়া দামে টিকা কিনতে হয়।
পলাশবাড়ী উপজেলার সাবদিন গ্রামের বাসিন্দা মো. বিশাল তালুকদার বলেন, আগের দিন একটি বিড়াল তাঁকে আঁচড় দেয়। পরে তিনি সরকারি হাসপাতালে টিকা নিতে এলেও সেখানে কোনো ভ্যাকসিন পাননি।
আরেক রোগী সুন্দরগঞ্জের তাসপিয়া অভিযোগ করে বলেন, সরকারি হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসাসামগ্রীও পাওয়া যায় না। এমন অবস্থায় জলাতঙ্কের মতো প্রাণঘাতী রোগের চিকিৎসা নিয়ে মানুষের মধ্যে আস্থা কমে যাচ্ছে।
ববিতা খাতুন নামের এক নারী বলেন, “অনেক খরচ করে হাসপাতালে এলাম। এসে শুনি টিকা নাই। তাহলে মানুষ যাবে কোথায়?”
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত চার মাসে ১ হাজার ৫১৭ জনকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০০ জন সরকারি ভ্যাকসিন পেয়েছেন। বাকি রোগীদের বাইরের ফার্মেসি থেকে টিকা কিনে এনে হাসপাতালে প্রয়োগ করতে হয়েছে।
জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নে একটি বেওয়ারিশ পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত হন কয়েকজন। তাদের মধ্যে রাজমিস্ত্রি শ্রী রতনেশ্বর কুমার গুরুতর আহত হন গত ২২ এপ্রিল। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কোনো ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি। পরে জেলা জেনারেল হাসপাতালেও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
স্বজনদের দাবি, এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছোটাছুটি করতে করতে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় নষ্ট হয়ে যায়। পরে অনেক চেষ্টার পর বাইরে থেকে উচ্চমূল্যে একটি ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু ততক্ষণে অবস্থার অবনতি ঘটে। ৮ মে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এর আগে একই কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত আরও দুজন মারা যান। তারা হলেন কঞ্চিবাড়ি এলাকার নন্দ রানী (৫৫) ও ফুলু মিয়া। স্থানীয়দের ভাষ্য, এই তিন মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৩ জন। তাদের মধ্যে আফরোজা বেগম নামে একজনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
আক্রান্তদের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, জলাতঙ্কের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে টিকা না থাকায় রোগীদের বাইরে ঘুরতে হচ্ছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হচ্ছে এবং রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, “মানুষ হাসপাতালে যায় জীবন বাঁচাতে। কিন্তু টিকা না পেয়ে ফিরে আসে। এখন সবাই আতঙ্কে আছে।”
কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য তাজরুল ইসলাম বলেন, আগেও তাঁর এলাকায় জলাতঙ্কে মৃত্যু হয়েছে। সময়মতো ভ্যাকসিন পেলে অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব ছিল বলে তিনি মনে করেন।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের কিছু কর্মকর্তা ও সরবরাহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগসাজশে ওষুধ ও ভ্যাকসিন সংকট তৈরি হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি টিকা পর্যাপ্তভাবে সরবরাহ না করে রোগীদের বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করা হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের ডগবাইট ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আজকেই ভ্যাকসিন শেষ হয়েছে। দুই-তিন দিনের মধ্যে আবার আসতে পারে।”
টাকার বিনিময়ে টিকা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “মানুষ অনেক কিছুই বলে। সব কথার উত্তর দেওয়া সম্ভব না।”
অন্যদিকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. শহীদুল্লাহ বলেন, পুরো বিষয়টি তাঁর জানা নেই। পরে খোঁজ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দিবাকর বসাক জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগে থেকে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন ছিল না। তবে চলতি মাসে কিছু অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, সাধারণত জেলা হাসপাতালগুলোতেই জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়। ফলে উপজেলা পর্যায়ে রোগীরা অনেক সময় প্রাথমিক সেবা থেকেও বঞ্চিত হন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলাতঙ্ক এমন একটি রোগ, যার লক্ষণ প্রকাশের পর মৃত্যুঝুঁকি প্রায় শতভাগ। তাই কুকুর, বিড়াল বা বন্য প্রাণীর কামড়ের পর যত দ্রুত সম্ভব টিকা নেওয়া জরুরি। কিন্তু জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে টিকার ঘাটতি থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
গাইবান্ধার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো শুধু একটি জেলার সংকট নয়, বরং দেশের প্রান্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতার দিকও সামনে আনছে। সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় টিকা না থাকলে দরিদ্র মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ে। কারণ অনেকের পক্ষেই বাইরে থেকে ব্যয়বহুল টিকা কেনা সম্ভব হয় না।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু তদন্তের আশ্বাস নয়—হাসপাতালে নিয়মিত ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে।
এখনও আতঙ্ক কাটেনি সুন্দরগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায়। নতুন করে কেউ আক্রান্ত হলে সময়মতো চিকিৎসা পাবেন কি না, সেই প্রশ্নই ঘুরছে সাধারণ মানুষের মনে।

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬
গাইবান্ধায় জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকার সংকট এখন জনস্বাস্থ্য উদ্বেগে রূপ নিয়েছে। জেলার একমাত্র জেনারেল হাসপাতালে নিয়মিত ভ্যাকসিন না থাকায় রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। এরই মধ্যে মাত্র ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনজনের মৃত্যু হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো জেলায়। আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর অভিযোগ, সময়মতো টিকা না পাওয়ায় চিকিৎসা শুরু বিলম্বিত হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালের কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে টাকা ছাড়া টিকা না দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
মঙ্গলবার গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা নিতে আসা কয়েকজন রোগী দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন। হাসপাতালের ডগবাইট কক্ষটি তখন তালাবদ্ধ ছিল। পরে দায়িত্বে থাকা একজন কর্মী এসে জানিয়ে দেন, হাসপাতালে কোনো ভ্যাকসিন নেই। বাধ্য হয়ে রোগীদের বাইরে থেকে চড়া দামে টিকা কিনতে হয়।
পলাশবাড়ী উপজেলার সাবদিন গ্রামের বাসিন্দা মো. বিশাল তালুকদার বলেন, আগের দিন একটি বিড়াল তাঁকে আঁচড় দেয়। পরে তিনি সরকারি হাসপাতালে টিকা নিতে এলেও সেখানে কোনো ভ্যাকসিন পাননি।
আরেক রোগী সুন্দরগঞ্জের তাসপিয়া অভিযোগ করে বলেন, সরকারি হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসাসামগ্রীও পাওয়া যায় না। এমন অবস্থায় জলাতঙ্কের মতো প্রাণঘাতী রোগের চিকিৎসা নিয়ে মানুষের মধ্যে আস্থা কমে যাচ্ছে।
ববিতা খাতুন নামের এক নারী বলেন, “অনেক খরচ করে হাসপাতালে এলাম। এসে শুনি টিকা নাই। তাহলে মানুষ যাবে কোথায়?”
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত চার মাসে ১ হাজার ৫১৭ জনকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০০ জন সরকারি ভ্যাকসিন পেয়েছেন। বাকি রোগীদের বাইরের ফার্মেসি থেকে টিকা কিনে এনে হাসপাতালে প্রয়োগ করতে হয়েছে।
জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নে একটি বেওয়ারিশ পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত হন কয়েকজন। তাদের মধ্যে রাজমিস্ত্রি শ্রী রতনেশ্বর কুমার গুরুতর আহত হন গত ২২ এপ্রিল। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কোনো ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি। পরে জেলা জেনারেল হাসপাতালেও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
স্বজনদের দাবি, এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছোটাছুটি করতে করতে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় নষ্ট হয়ে যায়। পরে অনেক চেষ্টার পর বাইরে থেকে উচ্চমূল্যে একটি ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু ততক্ষণে অবস্থার অবনতি ঘটে। ৮ মে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এর আগে একই কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত আরও দুজন মারা যান। তারা হলেন কঞ্চিবাড়ি এলাকার নন্দ রানী (৫৫) ও ফুলু মিয়া। স্থানীয়দের ভাষ্য, এই তিন মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৩ জন। তাদের মধ্যে আফরোজা বেগম নামে একজনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
আক্রান্তদের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, জলাতঙ্কের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে টিকা না থাকায় রোগীদের বাইরে ঘুরতে হচ্ছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হচ্ছে এবং রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, “মানুষ হাসপাতালে যায় জীবন বাঁচাতে। কিন্তু টিকা না পেয়ে ফিরে আসে। এখন সবাই আতঙ্কে আছে।”
কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য তাজরুল ইসলাম বলেন, আগেও তাঁর এলাকায় জলাতঙ্কে মৃত্যু হয়েছে। সময়মতো ভ্যাকসিন পেলে অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব ছিল বলে তিনি মনে করেন।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের কিছু কর্মকর্তা ও সরবরাহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগসাজশে ওষুধ ও ভ্যাকসিন সংকট তৈরি হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি টিকা পর্যাপ্তভাবে সরবরাহ না করে রোগীদের বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করা হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের ডগবাইট ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আজকেই ভ্যাকসিন শেষ হয়েছে। দুই-তিন দিনের মধ্যে আবার আসতে পারে।”
টাকার বিনিময়ে টিকা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “মানুষ অনেক কিছুই বলে। সব কথার উত্তর দেওয়া সম্ভব না।”
অন্যদিকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. শহীদুল্লাহ বলেন, পুরো বিষয়টি তাঁর জানা নেই। পরে খোঁজ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দিবাকর বসাক জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগে থেকে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন ছিল না। তবে চলতি মাসে কিছু অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, সাধারণত জেলা হাসপাতালগুলোতেই জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়। ফলে উপজেলা পর্যায়ে রোগীরা অনেক সময় প্রাথমিক সেবা থেকেও বঞ্চিত হন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলাতঙ্ক এমন একটি রোগ, যার লক্ষণ প্রকাশের পর মৃত্যুঝুঁকি প্রায় শতভাগ। তাই কুকুর, বিড়াল বা বন্য প্রাণীর কামড়ের পর যত দ্রুত সম্ভব টিকা নেওয়া জরুরি। কিন্তু জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে টিকার ঘাটতি থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
গাইবান্ধার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো শুধু একটি জেলার সংকট নয়, বরং দেশের প্রান্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতার দিকও সামনে আনছে। সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় টিকা না থাকলে দরিদ্র মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ে। কারণ অনেকের পক্ষেই বাইরে থেকে ব্যয়বহুল টিকা কেনা সম্ভব হয় না।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু তদন্তের আশ্বাস নয়—হাসপাতালে নিয়মিত ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে।
এখনও আতঙ্ক কাটেনি সুন্দরগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায়। নতুন করে কেউ আক্রান্ত হলে সময়মতো চিকিৎসা পাবেন কি না, সেই প্রশ্নই ঘুরছে সাধারণ মানুষের মনে।

আপনার মতামত লিখুন