বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে বিপণন, প্রযুক্তি ও সুস্থ জীবনধারার নতুন দিগন্ত নিয়ে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘হেলথ অ্যান্ড ওয়েল বিয়িং মার্কেটিং ফেস্ট ৩.০’। স্বাস্থ্যসেবা ও ওয়েলনেস খাতের ভবিষ্যৎ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার এবং পরিবর্তিত ভোক্তা আচরণ নিয়ে দিনব্যাপী এই আয়োজন ঘিরে ছিল ব্যাপক আগ্রহ।
গত শনিবার (৯ মে) ঢাকার Renaissance Dhaka Gulshan Hotel-এর গ্র্যান্ড বলরুমে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘Healthier World through Smarter Marketing’। আয়োজকদের দাবি, স্বাস্থ্য ও ওয়েলবিয়িং খাতে সচেতনতা, ব্যবসা ও প্রযুক্তিকে একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার লক্ষ্যেই এবারের আয়োজন সাজানো হয়।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা খাত দ্রুত বদলে যাচ্ছে। মানুষ এখন শুধু অসুস্থ হলে চিকিৎসা নিচ্ছে না, বরং আগেভাগেই সুস্থ থাকার জন্য সচেতন হচ্ছে। ফলে স্বাস্থ্য ও ওয়েলনেস এখন একটি লাইফস্টাইলভিত্তিক খাতে পরিণত হয়েছে।
ব্র্যান্ড প্র্যাকটিশনার্স বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি, ব্যবসা ও বিপণন খাতের তিন শতাধিক পেশাজীবী অংশ নেন। বিভিন্ন সেশনে ৩৮ জন আলোচক স্বাস্থ্যখাতের ভবিষ্যৎ, বিপণনের নতুন ধারা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে মতামত দেন।
আলোচনায় উঠে আসে, স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে শুধু চিকিৎসা নয়, সঠিক বার্তা পৌঁছানোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ডিজিটাল যুগে মানুষের আচরণ, তথ্য গ্রহণের ধরণ এবং জীবনযাপনের অভ্যাস বদলে যাওয়ায় স্বাস্থ্যখাতেও বিপণনের নতুন কৌশল প্রয়োজন হচ্ছে।
সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটাল পার্টনারসের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান Ifti Islam-এর মূল বক্তব্য। তিনি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
তার মতে, ভবিষ্যতে এআই শুধু প্রযুক্তিগত সহায়তাই দেবে না, বরং রোগ নির্ণয়, তথ্য বিশ্লেষণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করেন, এআইয়ের ব্যবহার বাড়লেও মানবিক সম্পর্ক, রোগীর আস্থা এবং চিকিৎসকের অভিজ্ঞতার বিকল্প কখনোই পুরোপুরি তৈরি হবে না। তাই প্রযুক্তি ও মানবিকতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
‘মার্কেট এক্সপ্লোরেশন’, ‘উইনিং দ্য ওয়েলনেস মার্কেট’ এবং ‘এজেন্সি ইন্টারঅ্যাকশন’ শীর্ষক সেশনগুলোতে বক্তারা পরিবর্তিত ভোক্তা আচরণ ও ওয়েলনেস খাতের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
বক্তাদের মধ্যে ছিলেন Marilyn Ahmed, Andalib Mahmud, Shazia Omar, Jamil Rahman এবং আরও অনেকে।
আলোচনায় উঠে আসে, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা এখন আর শুধু জিম বা ডায়েটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মানসিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি, নিরাপদ খাদ্য, শারীরিক সক্রিয়তা এবং ব্যক্তিগত যত্ন—সব মিলিয়ে ওয়েলনেস এখন একটি বিস্তৃত শিল্পখাতে পরিণত হয়েছে।
সঞ্চালক মইনুর রহমান তুহিন সংবেদনশীল স্বাস্থ্যসেবা খাতে দায়িত্বশীল বার্তা প্রচারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রচারণায় বিভ্রান্তিকর তথ্য বা অতিরঞ্জিত দাবি মানুষের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
বিভিন্ন সেশনে স্বাস্থ্যসেবার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্বপন কুমার পাল পুষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরেন। অন্যদিকে Dr. Ahmed Arman Siddiki ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘সুখী’র মাধ্যমে কানেক্টেড কেয়ার নিয়ে কথা বলেন।
নিরাপদ খাদ্য নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন খাস ফুডের কো-ফাউন্ডার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক Habibul Mostafa। তিনি বলেন, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ও সচেতনতা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বক্তব্য দেন অধ্যাপক Dr. Anupom Hossain, Dr. Rubaiyat Ferdous এবং Ardra Kurien। তারা বলেন, চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব বাড়ানো গেলে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ কমানো সম্ভব।
‘হেলথ অ্যান্ড ওয়েল বিইং প্র্যাকটিশনার্স’ সেশনে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন আয়রনম্যান Mohammad Shamsuzzaman Arafat, পর্বতারোহী M A Mohit এবং গোল্ডস জিমের জিএম Anisul Islam Bobby
তারা বলেন, সুস্থ জীবনযাপনে শুধু শরীরচর্চা নয়, মানসিক দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন অভ্যাসও বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে ইতিবাচক জীবনধারার চর্চা জরুরি।
ইউনাইটেড গ্রুপের হেলথকেয়ার ডিভিশনের সিইও Mohammad Faizur Rahman বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি আস্থার সম্পর্ক তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, মানুষ এখন শুধু চিকিৎসা নয়, মানসম্মত অভিজ্ঞতাও চায়।
টাইটেল স্পন্সর ব্লেন্ডারস চয়েসের পক্ষ থেকে ইস্পাহানি টি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার Omar Hannan বলেন, সুস্থ জীবনধারা গড়ে তুলতে সচেতনতা এবং দৈনন্দিন ইতিবাচক অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সমাপনী বক্তব্যে আয়োজক প্রতিষ্ঠান ব্র্যান্ড প্র্যাকটিশনার্স বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক Mirza Md. Ilias বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে বিপণনের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। তিনি আগামী বছর আরও বড় পরিসরে এই আয়োজন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত এখন শুধু হাসপাতাল বা ওষুধনির্ভর কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ওয়েলনেস ব্র্যান্ড, পুষ্টি, মানসিক স্বাস্থ্য এবং প্রতিরোধমূলক সেবাকে ঘিরে নতুন একটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে।
তবে এই খাতে দায়িত্বশীল বিপণন, সঠিক তথ্য প্রচার এবং ভোক্তার আস্থা ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। কারণ স্বাস্থ্য নিয়ে ভুল তথ্য বা অতিরঞ্জিত প্রচারণা মানুষের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।
আয়োজকদের ভাষ্য, স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের সঙ্গে তাল মেলাতে এমন আয়োজন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে বিপণন, প্রযুক্তি ও সুস্থ জীবনধারার নতুন দিগন্ত নিয়ে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘হেলথ অ্যান্ড ওয়েল বিয়িং মার্কেটিং ফেস্ট ৩.০’। স্বাস্থ্যসেবা ও ওয়েলনেস খাতের ভবিষ্যৎ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার এবং পরিবর্তিত ভোক্তা আচরণ নিয়ে দিনব্যাপী এই আয়োজন ঘিরে ছিল ব্যাপক আগ্রহ।
গত শনিবার (৯ মে) ঢাকার Renaissance Dhaka Gulshan Hotel-এর গ্র্যান্ড বলরুমে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘Healthier World through Smarter Marketing’। আয়োজকদের দাবি, স্বাস্থ্য ও ওয়েলবিয়িং খাতে সচেতনতা, ব্যবসা ও প্রযুক্তিকে একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার লক্ষ্যেই এবারের আয়োজন সাজানো হয়।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা খাত দ্রুত বদলে যাচ্ছে। মানুষ এখন শুধু অসুস্থ হলে চিকিৎসা নিচ্ছে না, বরং আগেভাগেই সুস্থ থাকার জন্য সচেতন হচ্ছে। ফলে স্বাস্থ্য ও ওয়েলনেস এখন একটি লাইফস্টাইলভিত্তিক খাতে পরিণত হয়েছে।
ব্র্যান্ড প্র্যাকটিশনার্স বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি, ব্যবসা ও বিপণন খাতের তিন শতাধিক পেশাজীবী অংশ নেন। বিভিন্ন সেশনে ৩৮ জন আলোচক স্বাস্থ্যখাতের ভবিষ্যৎ, বিপণনের নতুন ধারা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে মতামত দেন।
আলোচনায় উঠে আসে, স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে শুধু চিকিৎসা নয়, সঠিক বার্তা পৌঁছানোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ডিজিটাল যুগে মানুষের আচরণ, তথ্য গ্রহণের ধরণ এবং জীবনযাপনের অভ্যাস বদলে যাওয়ায় স্বাস্থ্যখাতেও বিপণনের নতুন কৌশল প্রয়োজন হচ্ছে।
সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটাল পার্টনারসের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান Ifti Islam-এর মূল বক্তব্য। তিনি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
তার মতে, ভবিষ্যতে এআই শুধু প্রযুক্তিগত সহায়তাই দেবে না, বরং রোগ নির্ণয়, তথ্য বিশ্লেষণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করেন, এআইয়ের ব্যবহার বাড়লেও মানবিক সম্পর্ক, রোগীর আস্থা এবং চিকিৎসকের অভিজ্ঞতার বিকল্প কখনোই পুরোপুরি তৈরি হবে না। তাই প্রযুক্তি ও মানবিকতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
‘মার্কেট এক্সপ্লোরেশন’, ‘উইনিং দ্য ওয়েলনেস মার্কেট’ এবং ‘এজেন্সি ইন্টারঅ্যাকশন’ শীর্ষক সেশনগুলোতে বক্তারা পরিবর্তিত ভোক্তা আচরণ ও ওয়েলনেস খাতের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
বক্তাদের মধ্যে ছিলেন Marilyn Ahmed, Andalib Mahmud, Shazia Omar, Jamil Rahman এবং আরও অনেকে।
আলোচনায় উঠে আসে, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা এখন আর শুধু জিম বা ডায়েটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মানসিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি, নিরাপদ খাদ্য, শারীরিক সক্রিয়তা এবং ব্যক্তিগত যত্ন—সব মিলিয়ে ওয়েলনেস এখন একটি বিস্তৃত শিল্পখাতে পরিণত হয়েছে।
সঞ্চালক মইনুর রহমান তুহিন সংবেদনশীল স্বাস্থ্যসেবা খাতে দায়িত্বশীল বার্তা প্রচারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রচারণায় বিভ্রান্তিকর তথ্য বা অতিরঞ্জিত দাবি মানুষের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
বিভিন্ন সেশনে স্বাস্থ্যসেবার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্বপন কুমার পাল পুষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরেন। অন্যদিকে Dr. Ahmed Arman Siddiki ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘সুখী’র মাধ্যমে কানেক্টেড কেয়ার নিয়ে কথা বলেন।
নিরাপদ খাদ্য নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন খাস ফুডের কো-ফাউন্ডার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক Habibul Mostafa। তিনি বলেন, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ও সচেতনতা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বক্তব্য দেন অধ্যাপক Dr. Anupom Hossain, Dr. Rubaiyat Ferdous এবং Ardra Kurien। তারা বলেন, চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব বাড়ানো গেলে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ কমানো সম্ভব।
‘হেলথ অ্যান্ড ওয়েল বিইং প্র্যাকটিশনার্স’ সেশনে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন আয়রনম্যান Mohammad Shamsuzzaman Arafat, পর্বতারোহী M A Mohit এবং গোল্ডস জিমের জিএম Anisul Islam Bobby
তারা বলেন, সুস্থ জীবনযাপনে শুধু শরীরচর্চা নয়, মানসিক দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা এবং দৈনন্দিন অভ্যাসও বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে ইতিবাচক জীবনধারার চর্চা জরুরি।
ইউনাইটেড গ্রুপের হেলথকেয়ার ডিভিশনের সিইও Mohammad Faizur Rahman বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি আস্থার সম্পর্ক তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, মানুষ এখন শুধু চিকিৎসা নয়, মানসম্মত অভিজ্ঞতাও চায়।
টাইটেল স্পন্সর ব্লেন্ডারস চয়েসের পক্ষ থেকে ইস্পাহানি টি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার Omar Hannan বলেন, সুস্থ জীবনধারা গড়ে তুলতে সচেতনতা এবং দৈনন্দিন ইতিবাচক অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সমাপনী বক্তব্যে আয়োজক প্রতিষ্ঠান ব্র্যান্ড প্র্যাকটিশনার্স বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক Mirza Md. Ilias বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে বিপণনের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। তিনি আগামী বছর আরও বড় পরিসরে এই আয়োজন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত এখন শুধু হাসপাতাল বা ওষুধনির্ভর কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ওয়েলনেস ব্র্যান্ড, পুষ্টি, মানসিক স্বাস্থ্য এবং প্রতিরোধমূলক সেবাকে ঘিরে নতুন একটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে।
তবে এই খাতে দায়িত্বশীল বিপণন, সঠিক তথ্য প্রচার এবং ভোক্তার আস্থা ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। কারণ স্বাস্থ্য নিয়ে ভুল তথ্য বা অতিরঞ্জিত প্রচারণা মানুষের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।
আয়োজকদের ভাষ্য, স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের সঙ্গে তাল মেলাতে এমন আয়োজন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

আপনার মতামত লিখুন