দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

খুলনায় ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ১৬ প্রতিষ্ঠানে জরিমানা, আদায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা

খুলনায় ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ১৬ প্রতিষ্ঠানে জরিমানা, আদায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা

যশোর সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ১১ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

লাইফ সাপোর্টে’ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি, ট্রাম্পের কড়া বার্তায় বাড়ছে উত্তেজনা

যশোরে ডিএনসির অভিযানে পিস্তল, গুলি ও গাঁজাসহ যুবদল নেতা আটক

গোগা সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ভারতীয় সিরাপসহ যুবক আটক

নওগাঁর মান্দায় ২০ বোতল ফেন্সিডিলসহ যুবক আটক, মাদক বিক্রির অভিযোগ

অনেক কষ্টের বিনিময়ে ক্ষমতায় এসেছি’, নেতাকর্মীদের সতর্ক করলেন বিমানমন্ত্রী

লালমাইয়ে ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা: উত্তাল যুক্তিখোলা, বিচার চেয়ে মহাসড়ক অবরোধ

যশোর সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ১১ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

যশোর সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ১১ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ
যশোর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে জব্দ হওয়া চোরাচালানি পণ্য

যশোর সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১১ লাখ টাকার বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অভিযানে ভারতীয় শাড়ি, চা-পাতা ও বিপুল পরিমাণ কসমেটিকস সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) সীমান্তবর্তী এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করে।


বিশেষ টহলদলের অভিযানে উদ্ধার

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা হচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে যশোর ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ টহলদল সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ায়।

পরে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় ৬৬টি শাড়ি, ৯ কেজি চা-পাতা এবং ২০৯টি বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস সামগ্রী জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১১ লাখ ২১ হাজার ৫০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।



সীমান্তে সক্রিয় চোরাচালান চক্র

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, যশোর সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ভারতীয় শাড়ি, প্রসাধনী, মাদক ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য অবৈধভাবে দেশে আনার চেষ্টা প্রায়ই দেখা যায়।

বিজিবির দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে। তারা সীমান্তের বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে পণ্য পাচারের চেষ্টা করে থাকে।

স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, রাতের অন্ধকার কিংবা নির্জন সীমান্তপথকে কাজে লাগিয়ে চোরাকারবারিরা সক্রিয় থাকার চেষ্টা করে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে বিজিবির নজরদারি জোরদার হওয়ায় বেশ কয়েকটি চালান জব্দ হয়েছে।


বিজিবির বক্তব্য

যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষ পরিকল্পনার আওতায় সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য ও বিভিন্ন ধরনের অবৈধ পণ্য জব্দ করা সম্ভব হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সীমান্তকে নিরাপদ রাখতে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পণ্য প্রবেশ দেশের অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারায়, একই সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েন।

বিশেষ করে বিদেশি কসমেটিকস ও পোশাক অবৈধভাবে বাজারে প্রবেশ করলে বৈধ আমদানিকারক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া চোরাচালানের সঙ্গে অনেক সময় মাদক ও অন্যান্য অপরাধচক্রের সংযোগ থাকার অভিযোগও রয়েছে। ফলে বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক নয়, আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।


স্থানীয়দের প্রত্যাশা

সীমান্ত এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, নিয়মিত অভিযান চালানো হলে চোরাচালান অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাদের মতে, সীমান্তজুড়ে আরও আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা বাড়ানো প্রয়োজন।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “চোরাচালান বন্ধ না হলে সীমান্ত এলাকায় অপরাধ পুরোপুরি কমবে না। নিয়মিত অভিযান থাকলে অপরাধীরা ভয় পাবে।”

তবে কেউ কেউ মনে করছেন, শুধু অভিযান নয়—চোরাচালানের পেছনে থাকা মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনাও জরুরি।



তদন্ত ও পরবর্তী ব্যবস্থা

বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া পণ্যগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব পণ্যের সঙ্গে জড়িত চক্র শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্তে চোরাচালান পুরোপুরি বন্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিষয় : বিজিবি অভিযান যশোর সীমান্ত চোরাচালান পণ্য জব্দ ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬


যশোর সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ১১ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬

featured Image

যশোর সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১১ লাখ টাকার বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অভিযানে ভারতীয় শাড়ি, চা-পাতা ও বিপুল পরিমাণ কসমেটিকস সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) সীমান্তবর্তী এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করে।


বিশেষ টহলদলের অভিযানে উদ্ধার

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা হচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে যশোর ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ টহলদল সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ায়।

পরে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় ৬৬টি শাড়ি, ৯ কেজি চা-পাতা এবং ২০৯টি বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস সামগ্রী জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১১ লাখ ২১ হাজার ৫০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।



সীমান্তে সক্রিয় চোরাচালান চক্র

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, যশোর সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ভারতীয় শাড়ি, প্রসাধনী, মাদক ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য অবৈধভাবে দেশে আনার চেষ্টা প্রায়ই দেখা যায়।

বিজিবির দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে। তারা সীমান্তের বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে পণ্য পাচারের চেষ্টা করে থাকে।

স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, রাতের অন্ধকার কিংবা নির্জন সীমান্তপথকে কাজে লাগিয়ে চোরাকারবারিরা সক্রিয় থাকার চেষ্টা করে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে বিজিবির নজরদারি জোরদার হওয়ায় বেশ কয়েকটি চালান জব্দ হয়েছে।


বিজিবির বক্তব্য

যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষ পরিকল্পনার আওতায় সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য ও বিভিন্ন ধরনের অবৈধ পণ্য জব্দ করা সম্ভব হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সীমান্তকে নিরাপদ রাখতে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পণ্য প্রবেশ দেশের অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারায়, একই সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েন।

বিশেষ করে বিদেশি কসমেটিকস ও পোশাক অবৈধভাবে বাজারে প্রবেশ করলে বৈধ আমদানিকারক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া চোরাচালানের সঙ্গে অনেক সময় মাদক ও অন্যান্য অপরাধচক্রের সংযোগ থাকার অভিযোগও রয়েছে। ফলে বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক নয়, আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।


স্থানীয়দের প্রত্যাশা

সীমান্ত এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, নিয়মিত অভিযান চালানো হলে চোরাচালান অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাদের মতে, সীমান্তজুড়ে আরও আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা বাড়ানো প্রয়োজন।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “চোরাচালান বন্ধ না হলে সীমান্ত এলাকায় অপরাধ পুরোপুরি কমবে না। নিয়মিত অভিযান থাকলে অপরাধীরা ভয় পাবে।”

তবে কেউ কেউ মনে করছেন, শুধু অভিযান নয়—চোরাচালানের পেছনে থাকা মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনাও জরুরি।



তদন্ত ও পরবর্তী ব্যবস্থা

বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া পণ্যগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব পণ্যের সঙ্গে জড়িত চক্র শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্তে চোরাচালান পুরোপুরি বন্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর