দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : রোববার, ১০ মে ২০২৬

আত্মকর্মসংস্থানে নতুন আশা: গাইবান্ধায় নারীদের মাঝে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ

আত্মকর্মসংস্থানে নতুন আশা: গাইবান্ধায় নারীদের মাঝে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ

ডিমের দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী, চাপে নিম্ন আয়ের পরিবার; বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন বিতর্ক

কুতুবদিয়ায় নোঙর ‘এমটি নিনেমিয়া’: এক লাখ টন ক্রুডে জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তির আশা

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় পতন: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, ডলারের শক্তি ও সুদের চাপে দামে ধস

চীন-ভারত থেকে ৫৩ হাজার টন ডিজেল: চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ল আরও দুই জাহাজ, সরবরাহে স্বস্তির আশা

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা ইস্যুতে উত্তাপ: প্রতিমন্ত্রীর তোপের মুখে সিডিএ চেয়ারম্যান, গঠিত সমন্বয় কমিটি

রাজধানীর উচ্ছেদ হকারদের জন্য স্থায়ী সমাধান চান প্রধানমন্ত্রী

ক্ষতিতেও ১% টার্নওভার কর: ছোট উদ্যোক্তাদের চাপ, রপ্তানিতে অর্ডার কমার শঙ্কা

আত্মকর্মসংস্থানে নতুন আশা: গাইবান্ধায় নারীদের মাঝে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ

আত্মকর্মসংস্থানে নতুন আশা: গাইবান্ধায় নারীদের মাঝে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ
-ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধায় আত্মকর্মসংস্থান কর্মসূচি ও যৌতুকবিরোধী সামাজিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের মাঝে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। আয়বর্ধক ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সেলাই মেশিন, সনদপত্র ও প্রাথমিক মূলধন তুলে দেয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কর্মীরহাত’। আয়োজকদের দাবি, এই উদ্যোগ নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার পথ আরও সহজ করবে।

বৃহস্পতিবার গাইবান্ধা শহরে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, প্রশিক্ষণার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও অংশ নেন।

চার মাসের প্রশিক্ষণের পর হাতে সেলাই মেশিন

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, যৌতুকবিরোধী প্রকল্পের আওতায় বিবাহযোগ্য ও স্বামী পরিত্যক্ত নারীদের জন্য চার মাসব্যাপী সেলাই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে একটি করে সেলাই মেশিন দেওয়া হয়, যাতে তারা ঘরে বসেই আয়মুখী কাজে যুক্ত হতে পারেন।


সংগঠনটির দাবি, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়া নয়; বরং নারীদের অর্থনৈতিকভাবে দাঁড়িয়ে যেতে সহায়তা করা। অনেক নারী পরিবার ও সমাজের নানা বাধার কারণে কাজের সুযোগ পান না। তাদের জন্য ঘরে বসে আয় করার একটি বাস্তব সুযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নারীদের দক্ষ করে তুলতে পারলে যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। কারণ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী নারীরা পরিবার ও সমাজে অধিক মর্যাদা পান।

প্রবাসীদের সহযোগিতায় চলছে প্রকল্প

আয়োজকরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসীদের সংগঠন ‘ফোরাম ৮৬’-এর সহযোগিতায় গত চার বছর ধরে এই সেলাই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বছরে দুটি ব্যাচে মোট ৪০ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রতিটি ব্যাচে থাকেন ২০ জন প্রশিক্ষণার্থী।

প্রশিক্ষণ শেষ করার পর শুধু সেলাই মেশিনই নয়, অংশগ্রহণকারীদের হাতে দেওয়া হয় সনদপত্র ও কিছু প্রাথমিক মূলধনও। এতে করে তারা ছোট পরিসরে কাজ শুরু করতে পারেন।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থী বলেন, আগে তারা সংসারের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল ছিলেন। এখন নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয় করার আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ স্থানীয়ভাবে ছোটখাটো অর্ডারের কাজও শুরু করেছেন বলে জানান।

সামাজিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও কর্মীরহাতের সহ-সভাপতি এটিএম ফরহাদ হোসেন বিজু। এ সময় আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাবু, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. ফজলুর করিম, সহ-সভাপতি রকিবুল হক চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর কবির বাদল, সদস্য জাহিদুল হক লিটন এবং প্রশিক্ষণার্থী লিজু আক্তার ও সুরাইয়া আক্তার সিনথিয়া।


বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ইমাম হাসিম ও গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সভাপতি অমিতাভ দাশ হিমুন।

বক্তারা বলেন, শুধু প্রশিক্ষণ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীরা যাতে বাস্তবে আয়মুখী কাজে যুক্ত হতে পারেন, সে দিকেও নজর দিতে হবে। বাজারসুবিধা, ক্ষুদ্রঋণ ও স্থানীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে এসব উদ্যোগ আরও কার্যকর হবে বলে মত দেন তারা।

“সমাজসেবামূলক কাজ আরও বাড়াতে হবে”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক বলেন, ‘কর্মীরহাত’ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নানা মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। স্বাস্থ্যসেবা, বন্যাত্রাণ, পুনর্বাসন, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং বিনামূল্যে হুইলচেয়ার দেওয়ার মতো কাজের কারণে সংগঠনটি স্থানীয়ভাবে পরিচিতি পেয়েছে।

তিনি বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়াতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নারীদের কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি সংগঠনটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।

যৌতুকবিরোধী উদ্যোগে নতুন বার্তা

স্থানীয়দের মতে, যৌতুক এখনও দেশের অনেক অঞ্চলে সামাজিক চাপ হিসেবে রয়ে গেছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারে মেয়েদের বিয়েকে কেন্দ্র করে আর্থিক সংকট তৈরি হয়। এমন বাস্তবতায় নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের উদ্যোগ ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে।

সমাজ বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ দিয়ে যৌতুক পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন। নারীদের শিক্ষা, দক্ষতা ও আয়মুখী কাজে সম্পৃক্ততা বাড়াতে পারলে সামাজিক অবস্থানের পরিবর্তন আসে। এতে পরিবারেও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ে।


তবে এ ধরনের প্রকল্প আরও বিস্তৃত পরিসরে নেওয়ার দাবি উঠেছে। কারণ গ্রামাঞ্চলে এখনও অনেক নারী অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল অবস্থায় রয়েছেন। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের জন্য বাজারসংযোগ ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে উদ্যোগগুলো আরও টেকসই হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দীর্ঘ পথচলার সংগঠন

আয়োজকরা জানান, ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘কর্মীরহাত’ গাইবান্ধার অন্যতম পুরোনো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। গত এক যুগ ধরে সংগঠনটি চিকিৎসাসেবা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পাশাপাশি যৌতুকবিরোধী কর্মসূচির আওতায় নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতেও নারী উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ অব্যাহত থাকবে। নতুন করে আরও কিছু প্রশিক্ষণভিত্তিক প্রকল্প চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয় : গাইবান্ধা সেলাই মেশিন বিতরণ যৌতুকবিরোধী কর্মসূচি আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্প

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ১০ মে ২০২৬


আত্মকর্মসংস্থানে নতুন আশা: গাইবান্ধায় নারীদের মাঝে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ

প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬

featured Image

গাইবান্ধায় আত্মকর্মসংস্থান কর্মসূচি ও যৌতুকবিরোধী সামাজিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের মাঝে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। আয়বর্ধক ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সেলাই মেশিন, সনদপত্র ও প্রাথমিক মূলধন তুলে দেয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কর্মীরহাত’। আয়োজকদের দাবি, এই উদ্যোগ নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার পথ আরও সহজ করবে।

বৃহস্পতিবার গাইবান্ধা শহরে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, প্রশিক্ষণার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও অংশ নেন।

চার মাসের প্রশিক্ষণের পর হাতে সেলাই মেশিন

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, যৌতুকবিরোধী প্রকল্পের আওতায় বিবাহযোগ্য ও স্বামী পরিত্যক্ত নারীদের জন্য চার মাসব্যাপী সেলাই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে একটি করে সেলাই মেশিন দেওয়া হয়, যাতে তারা ঘরে বসেই আয়মুখী কাজে যুক্ত হতে পারেন।


সংগঠনটির দাবি, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়া নয়; বরং নারীদের অর্থনৈতিকভাবে দাঁড়িয়ে যেতে সহায়তা করা। অনেক নারী পরিবার ও সমাজের নানা বাধার কারণে কাজের সুযোগ পান না। তাদের জন্য ঘরে বসে আয় করার একটি বাস্তব সুযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নারীদের দক্ষ করে তুলতে পারলে যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। কারণ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী নারীরা পরিবার ও সমাজে অধিক মর্যাদা পান।

প্রবাসীদের সহযোগিতায় চলছে প্রকল্প

আয়োজকরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসীদের সংগঠন ‘ফোরাম ৮৬’-এর সহযোগিতায় গত চার বছর ধরে এই সেলাই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বছরে দুটি ব্যাচে মোট ৪০ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রতিটি ব্যাচে থাকেন ২০ জন প্রশিক্ষণার্থী।

প্রশিক্ষণ শেষ করার পর শুধু সেলাই মেশিনই নয়, অংশগ্রহণকারীদের হাতে দেওয়া হয় সনদপত্র ও কিছু প্রাথমিক মূলধনও। এতে করে তারা ছোট পরিসরে কাজ শুরু করতে পারেন।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থী বলেন, আগে তারা সংসারের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল ছিলেন। এখন নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয় করার আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ স্থানীয়ভাবে ছোটখাটো অর্ডারের কাজও শুরু করেছেন বলে জানান।

সামাজিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও কর্মীরহাতের সহ-সভাপতি এটিএম ফরহাদ হোসেন বিজু। এ সময় আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাবু, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. ফজলুর করিম, সহ-সভাপতি রকিবুল হক চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর কবির বাদল, সদস্য জাহিদুল হক লিটন এবং প্রশিক্ষণার্থী লিজু আক্তার ও সুরাইয়া আক্তার সিনথিয়া।


বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ইমাম হাসিম ও গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সভাপতি অমিতাভ দাশ হিমুন।

বক্তারা বলেন, শুধু প্রশিক্ষণ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীরা যাতে বাস্তবে আয়মুখী কাজে যুক্ত হতে পারেন, সে দিকেও নজর দিতে হবে। বাজারসুবিধা, ক্ষুদ্রঋণ ও স্থানীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে এসব উদ্যোগ আরও কার্যকর হবে বলে মত দেন তারা।

“সমাজসেবামূলক কাজ আরও বাড়াতে হবে”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক বলেন, ‘কর্মীরহাত’ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নানা মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। স্বাস্থ্যসেবা, বন্যাত্রাণ, পুনর্বাসন, শীতবস্ত্র বিতরণ এবং বিনামূল্যে হুইলচেয়ার দেওয়ার মতো কাজের কারণে সংগঠনটি স্থানীয়ভাবে পরিচিতি পেয়েছে।

তিনি বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়াতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নারীদের কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি সংগঠনটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।

যৌতুকবিরোধী উদ্যোগে নতুন বার্তা

স্থানীয়দের মতে, যৌতুক এখনও দেশের অনেক অঞ্চলে সামাজিক চাপ হিসেবে রয়ে গেছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারে মেয়েদের বিয়েকে কেন্দ্র করে আর্থিক সংকট তৈরি হয়। এমন বাস্তবতায় নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের উদ্যোগ ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে।

সমাজ বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ দিয়ে যৌতুক পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন। নারীদের শিক্ষা, দক্ষতা ও আয়মুখী কাজে সম্পৃক্ততা বাড়াতে পারলে সামাজিক অবস্থানের পরিবর্তন আসে। এতে পরিবারেও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ে।


তবে এ ধরনের প্রকল্প আরও বিস্তৃত পরিসরে নেওয়ার দাবি উঠেছে। কারণ গ্রামাঞ্চলে এখনও অনেক নারী অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল অবস্থায় রয়েছেন। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের জন্য বাজারসংযোগ ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে উদ্যোগগুলো আরও টেকসই হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দীর্ঘ পথচলার সংগঠন

আয়োজকরা জানান, ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘কর্মীরহাত’ গাইবান্ধার অন্যতম পুরোনো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। গত এক যুগ ধরে সংগঠনটি চিকিৎসাসেবা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পাশাপাশি যৌতুকবিরোধী কর্মসূচির আওতায় নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতেও নারী উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ অব্যাহত থাকবে। নতুন করে আরও কিছু প্রশিক্ষণভিত্তিক প্রকল্প চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর