কক্সবাজারের উখিয়ায় র্যাবের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। শুক্রবার ভোরে পরিচালিত এ অভিযানে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হলেও অভিযুক্ত কারবারিদের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, অন্ধকার ও দুর্গম পরিবেশের সুযোগ নিয়ে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়।
র্যাব-১৫ সূত্রে জানা গেছে, উখিয়ার সীমান্তঘেঁষা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি চক্র ইয়াবার বড় চালান মজুত ও সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছিল—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান
র্যাব জানায়, সম্প্রতি গোয়েন্দা নজরদারিতে উঠে আসে যে উখিয়া থানার পালংখালী ইউনিয়নের পূর্ব ফারির বিল এলাকার একটি বাঁশঝাড়ে কয়েকজন ব্যক্তি ইয়াবার বড় চালান নিয়ে অবস্থান করছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই স্থানটি মাদক পাচার ও লেনদেনের জন্য অস্থায়ী গোপন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
এ তথ্য যাচাইয়ের পর শুক্রবার (৮ মে ২০২৬) ভোর আনুমানিক ৪টা ১৫ মিনিটে র্যাব-১৫, সিপিসি-২ এর একটি আভিযানিক দল সেখানে সাঁড়াশি অভিযান চালায়। ভোরের অন্ধকারে চারদিক ঘিরে ফেলে অভিযান শুরু করা হলে মাদক কারবারিরা র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় বলে জানানো হয়েছে।
বাঁশঝাড়ে পড়ে ছিল ইয়াবার চালান
অভিযান শেষে পুরো এলাকা তল্লাশি করে একটি পরিত্যক্ত স্থানে বিশেষভাবে মোড়ানো অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে গণনা করে দেখা যায়, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার পিস।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ইয়াবাগুলো বিভিন্ন প্যাকেটে ভাগ করা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের প্রস্তুতি চলছিল। যদিও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিকে আটক করা যায়নি, তবে সংশ্লিষ্টদের শনাক্তে কাজ চলছে।
সীমান্তঘেঁষা এলাকায় বাড়ছে মাদক আতঙ্ক
কক্সবাজারের উখিয়া দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্ট ব্যবহার করে ইয়াবা দেশের ভেতরে প্রবেশ করছে—এমন অভিযোগ বহুদিনের। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালালেও চক্রগুলো বারবার নতুন কৌশলে সক্রিয় হয়ে উঠছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গভীর রাত বা ভোরের দিকে অপরিচিত লোকজনের চলাচল মাঝে মধ্যেই চোখে পড়ে। তবে ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চান না। তাদের মতে, মাদকের বিস্তার তরুণ সমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “রাতের বেলা কিছু এলাকায় সাধারণ মানুষ চলাচল করতেও ভয় পায়। মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান হলেও পুরো নেটওয়ার্ক ধরা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”
প্রশাসনের বক্তব্য
র্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া ইয়াবা ও অন্যান্য আলামত জব্দ তালিকার মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়ায় গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক ব্যক্তিদের শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তাদের দাবি, সীমান্তপথে মাদক পাচার ঠেকাতে নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট চক্রের সঙ্গে কারা জড়িত এবং কোথা থেকে চালানটি আনা হয়েছিল—সেসব বিষয়ও তদন্তাধীন রয়েছে।
উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ
বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু অভিযান চালিয়ে ইয়াবা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। সীমান্ত নিরাপত্তা, স্থানীয় সচেতনতা এবং মাদক কারবারে জড়িত নেটওয়ার্ক ভাঙার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে মাদকের বিস্তার সামাজিক অস্থিরতা, অপরাধপ্রবণতা এবং পারিবারিক সংকট বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান ইতিবাচক হলেও পাচারকারীদের অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক শক্তি ভেঙে না দিলে পরিস্থিতির স্থায়ী পরিবর্তন আসবে না। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নজরদারি প্রযুক্তি বাড়ানো এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তদন্ত চলছে, গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে র্যাব বলছে, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত চক্র শনাক্তে কাজ চলছে। পলাতকদের ধরতে বিভিন্ন স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয়দের আশা, শুধু মাদক জব্দ নয়—এই চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে পারলে সীমান্ত এলাকায় মাদকের বিস্তার কিছুটা হলেও কমবে।

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
কক্সবাজারের উখিয়ায় র্যাবের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। শুক্রবার ভোরে পরিচালিত এ অভিযানে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হলেও অভিযুক্ত কারবারিদের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, অন্ধকার ও দুর্গম পরিবেশের সুযোগ নিয়ে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়।
র্যাব-১৫ সূত্রে জানা গেছে, উখিয়ার সীমান্তঘেঁষা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি চক্র ইয়াবার বড় চালান মজুত ও সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছিল—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান
র্যাব জানায়, সম্প্রতি গোয়েন্দা নজরদারিতে উঠে আসে যে উখিয়া থানার পালংখালী ইউনিয়নের পূর্ব ফারির বিল এলাকার একটি বাঁশঝাড়ে কয়েকজন ব্যক্তি ইয়াবার বড় চালান নিয়ে অবস্থান করছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই স্থানটি মাদক পাচার ও লেনদেনের জন্য অস্থায়ী গোপন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
এ তথ্য যাচাইয়ের পর শুক্রবার (৮ মে ২০২৬) ভোর আনুমানিক ৪টা ১৫ মিনিটে র্যাব-১৫, সিপিসি-২ এর একটি আভিযানিক দল সেখানে সাঁড়াশি অভিযান চালায়। ভোরের অন্ধকারে চারদিক ঘিরে ফেলে অভিযান শুরু করা হলে মাদক কারবারিরা র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় বলে জানানো হয়েছে।
বাঁশঝাড়ে পড়ে ছিল ইয়াবার চালান
অভিযান শেষে পুরো এলাকা তল্লাশি করে একটি পরিত্যক্ত স্থানে বিশেষভাবে মোড়ানো অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে গণনা করে দেখা যায়, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার পিস।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ইয়াবাগুলো বিভিন্ন প্যাকেটে ভাগ করা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের প্রস্তুতি চলছিল। যদিও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিকে আটক করা যায়নি, তবে সংশ্লিষ্টদের শনাক্তে কাজ চলছে।
সীমান্তঘেঁষা এলাকায় বাড়ছে মাদক আতঙ্ক
কক্সবাজারের উখিয়া দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্ট ব্যবহার করে ইয়াবা দেশের ভেতরে প্রবেশ করছে—এমন অভিযোগ বহুদিনের। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালালেও চক্রগুলো বারবার নতুন কৌশলে সক্রিয় হয়ে উঠছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গভীর রাত বা ভোরের দিকে অপরিচিত লোকজনের চলাচল মাঝে মধ্যেই চোখে পড়ে। তবে ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চান না। তাদের মতে, মাদকের বিস্তার তরুণ সমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “রাতের বেলা কিছু এলাকায় সাধারণ মানুষ চলাচল করতেও ভয় পায়। মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান হলেও পুরো নেটওয়ার্ক ধরা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”
প্রশাসনের বক্তব্য
র্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া ইয়াবা ও অন্যান্য আলামত জব্দ তালিকার মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়ায় গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক ব্যক্তিদের শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তাদের দাবি, সীমান্তপথে মাদক পাচার ঠেকাতে নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট চক্রের সঙ্গে কারা জড়িত এবং কোথা থেকে চালানটি আনা হয়েছিল—সেসব বিষয়ও তদন্তাধীন রয়েছে।
উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ
বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু অভিযান চালিয়ে ইয়াবা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। সীমান্ত নিরাপত্তা, স্থানীয় সচেতনতা এবং মাদক কারবারে জড়িত নেটওয়ার্ক ভাঙার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে মাদকের বিস্তার সামাজিক অস্থিরতা, অপরাধপ্রবণতা এবং পারিবারিক সংকট বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান ইতিবাচক হলেও পাচারকারীদের অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক শক্তি ভেঙে না দিলে পরিস্থিতির স্থায়ী পরিবর্তন আসবে না। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নজরদারি প্রযুক্তি বাড়ানো এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তদন্ত চলছে, গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে র্যাব বলছে, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত চক্র শনাক্তে কাজ চলছে। পলাতকদের ধরতে বিভিন্ন স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয়দের আশা, শুধু মাদক জব্দ নয়—এই চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে পারলে সীমান্ত এলাকায় মাদকের বিস্তার কিছুটা হলেও কমবে।

আপনার মতামত লিখুন