দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

"নদীতে নেই আগের সেই ঝাঁক, ছোট হচ্ছে ইলিশের আকারও".

জমি বিরোধে রণক্ষেত্র জাউয়াবাজার, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আহত এমপিসহ অর্ধশতাধিক".

উখিয়ায় ভোররাতের অভিযানে আড়াই লাখ ইয়াবা উদ্ধার, পালিয়ে গেল কারবারিরা

কলমাকান্দায় ৬ বছরের শিশুর অর্ধ মরদেহ উদ্ধার

দেশে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে — নওগাঁর অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল

পতিসরে রবীন্দ্রজয়ন্তীর উৎসব: কবিগুরুর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীতে সাজছে আত্রাই

টেকনাফে র‌্যাবের অভিযানে ১৩ হাজার ৮০০ ইয়াবাসহ যুবক আটক, জব্দ মোটরসাইকেল

নারিকেল গাছের ফল তোলাকে কেন্দ্র করে লালমোহনে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ১, আটক ৪

সীমান্তঘেঁষা এলাকায় বিশেষ অভিযানে মাদকের বড় চালান উদ্ধার, তদন্তে র‌্যাব

টেকনাফে র‌্যাবের অভিযানে ১৩ হাজার ৮০০ ইয়াবাসহ যুবক আটক, জব্দ মোটরসাইকেল

টেকনাফে র‌্যাবের অভিযানে ১৩ হাজার ৮০০ ইয়াবাসহ যুবক আটক, জব্দ মোটরসাইকেল

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে ১৩ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক যুবককে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১৫। অভিযানের সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।

র‌্যাব জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচার ঠেকাতে চলমান নজরদারির অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


হোয়াইক্যংয়ের কানজর পাড়ায় অভিযান

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৬ মে) বিকেল আনুমানিক ৪টা ৫০ মিনিটে র‌্যাব-১৫ এর একটি আভিযানিক দল হোয়াইক্যং ইউনিয়ন-এর কানজর পাড়া এলাকায় অভিযান চালায়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আভিযানিক দল জনৈক হুমায়ুন রশিদের বাড়ির উঠানের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় র‌্যাব সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন ব্যক্তি দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া দিয়ে হুমায়ুন রশিদ (২১) নামে এক যুবককে আটক করা হয়।

র‌্যাবের দাবি, আটক ব্যক্তির আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে তল্লাশি করা হয় এবং পরে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।



দেহ তল্লাশিতে উদ্ধার বিপুল ইয়াবা

আটকের পর হুমায়ুন রশিদের দেহ তল্লাশি এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে ১৩ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

এ সময় একটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়, যা মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আটক হুমায়ুন রশিদ কানজর পাড়া এলাকার মৃত খাইরুল বশরের ছেলে বলে জানা গেছে।


দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারে জড়িত থাকার দাবি

র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি স্বীকার করেছেন যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করতেন।

তবে এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে সক্রিয় একটি চক্র এখনও মাদক পাচারে জড়িত রয়েছে।


সীমান্তজুড়ে বাড়ছে মাদক নিয়ে উদ্বেগ

টেকনাফ দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অন্যতম মাদকপ্রবণ সীমান্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ইয়াবা পাচারের রুট হিসেবে এই অঞ্চল বারবার আলোচনায় এসেছে।

স্থানীয়দের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের পরও কিছু চক্র গোপনে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সীমান্তের দুর্গম এলাকা ও নৌপথ ব্যবহার করে ইয়াবা দেশের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অভিযান নয়—মাদকবিরোধী সচেতনতা, বিকল্প কর্মসংস্থান এবং সীমান্ত নজরদারি আরও জোরদার করা না গেলে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।



থানায় হস্তান্তর, চলছে আইনগত প্রক্রিয়া

র‌্যাব জানিয়েছে, আটক আসামি এবং উদ্ধারকৃত ইয়াবাসহ জব্দ মোটরসাইকেল পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


উপসংহার

টেকনাফে র‌্যাবের এই অভিযান আবারও প্রমাণ করেছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। একের পর এক অভিযানে ইয়াবার চালান উদ্ধার হলেও পাচারচক্র পুরোপুরি থেমে নেই।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন স্থানীয়দের প্রত্যাশা—অভিযানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক উদ্যোগও জোরদার করা হবে।

বিষয় : টেকনাফ ইয়াবা উদ্ধার র‌্যাব অভিযান কক্সবাজার মাদক কারবার ইয়াবাসহ আটক

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬


টেকনাফে র‌্যাবের অভিযানে ১৩ হাজার ৮০০ ইয়াবাসহ যুবক আটক, জব্দ মোটরসাইকেল

প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে ১৩ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক যুবককে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১৫। অভিযানের সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।

র‌্যাব জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচার ঠেকাতে চলমান নজরদারির অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


হোয়াইক্যংয়ের কানজর পাড়ায় অভিযান

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৬ মে) বিকেল আনুমানিক ৪টা ৫০ মিনিটে র‌্যাব-১৫ এর একটি আভিযানিক দল হোয়াইক্যং ইউনিয়ন-এর কানজর পাড়া এলাকায় অভিযান চালায়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আভিযানিক দল জনৈক হুমায়ুন রশিদের বাড়ির উঠানের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় র‌্যাব সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন ব্যক্তি দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া দিয়ে হুমায়ুন রশিদ (২১) নামে এক যুবককে আটক করা হয়।

র‌্যাবের দাবি, আটক ব্যক্তির আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে তল্লাশি করা হয় এবং পরে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।



দেহ তল্লাশিতে উদ্ধার বিপুল ইয়াবা

আটকের পর হুমায়ুন রশিদের দেহ তল্লাশি এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে ১৩ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

এ সময় একটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়, যা মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আটক হুমায়ুন রশিদ কানজর পাড়া এলাকার মৃত খাইরুল বশরের ছেলে বলে জানা গেছে।


দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারে জড়িত থাকার দাবি

র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি স্বীকার করেছেন যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করতেন।

তবে এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে সক্রিয় একটি চক্র এখনও মাদক পাচারে জড়িত রয়েছে।


সীমান্তজুড়ে বাড়ছে মাদক নিয়ে উদ্বেগ

টেকনাফ দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অন্যতম মাদকপ্রবণ সীমান্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ইয়াবা পাচারের রুট হিসেবে এই অঞ্চল বারবার আলোচনায় এসেছে।

স্থানীয়দের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের পরও কিছু চক্র গোপনে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সীমান্তের দুর্গম এলাকা ও নৌপথ ব্যবহার করে ইয়াবা দেশের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অভিযান নয়—মাদকবিরোধী সচেতনতা, বিকল্প কর্মসংস্থান এবং সীমান্ত নজরদারি আরও জোরদার করা না গেলে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।



থানায় হস্তান্তর, চলছে আইনগত প্রক্রিয়া

র‌্যাব জানিয়েছে, আটক আসামি এবং উদ্ধারকৃত ইয়াবাসহ জব্দ মোটরসাইকেল পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


উপসংহার

টেকনাফে র‌্যাবের এই অভিযান আবারও প্রমাণ করেছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। একের পর এক অভিযানে ইয়াবার চালান উদ্ধার হলেও পাচারচক্র পুরোপুরি থেমে নেই।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন স্থানীয়দের প্রত্যাশা—অভিযানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক উদ্যোগও জোরদার করা হবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর