জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের কণ্ঠ রুদ্ধ না করে তাদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। গাজীপুরে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতাই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি, আর সেটি অক্ষুণ্ণ না থাকলে সংসদের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
রোববার (৪ মে) দুপুরে গাজীপুরের ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ড. মঈন খান এসব কথা বলেন। তিনি মন্তব্য করেন, একটি কার্যকর সংসদ কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে চলে না; সেখানে বিরোধী দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মতামত প্রকাশের সুযোগ থাকা জরুরি।
তার ভাষায়, “সংসদে সুস্থ বিতর্ক হতে হবে। পৃথিবীর সব মানুষ একইভাবে চিন্তা করবে—এটা বাস্তবসম্মত নয়। ভিন্ন মতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই গণতন্ত্র এগিয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, সংসদে আবেগতাড়িত বক্তব্য নয়, বরং যুক্তি ও বাস্তবতার ভিত্তিতে আলোচনা হওয়া উচিত। এতে জনগণের প্রত্যাশা প্রতিফলিত হয় এবং নীতিনির্ধারণে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
ড. মঈন খান দাবি করেন, একদলীয় শাসনব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। তার মতে, বিরোধী কণ্ঠকে দমিয়ে রাখলে সংসদ কেবল আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশও মনে করেন, কার্যকর সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলেন, বিরোধী দলের প্রশ্ন, সমালোচনা ও প্রস্তাব সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভারসাম্য তৈরি করে।
অনুষ্ঠানে ড. মঈন খান নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, চিকিৎসা পেশা শুধু দক্ষতার নয়, মানবিকতারও একটি বড় ক্ষেত্র। তিনি শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন চিকিৎসক হওয়ার আহ্বান জানান।
ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এ এস এম ইকবাল হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান মুনিরা আজিম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ মুবিন খান। বক্তারা নতুন শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক গুণাবলি অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, চলতি শিক্ষাবর্ষে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ১৩০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ভারত, নেপাল ও কাশ্মীরসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ৫৫ জন বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক বলেন, এমন অনুষ্ঠানে জাতীয় রাজনীতি ও গণতন্ত্রের বিষয় উঠে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, “শিক্ষার্থীরা যদি শুরু থেকেই ভিন্ন মতকে সম্মান করতে শেখে, তাহলে তারা ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।”
আরেক শিক্ষার্থী জানান, “চিকিৎসক হিসেবে আমাদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্র নিয়ে সচেতন হওয়াও জরুরি।”
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংসদে বিরোধী দলের কার্যকর অংশগ্রহণ নিয়ে প্রায়ই আলোচনা হয়। বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠেছে যে, বিরোধী দলের বক্তব্য উপস্থাপনে বাধা সৃষ্টি করা হয় বা তাদের সময় সীমিত করে দেওয়া হয়। যদিও এসব অভিযোগ নিয়ে সরকারি পক্ষ থেকে ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে উন্মুক্ত আলোচনা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্রের মৌলিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। তারা বলেন, সুস্থ বিতর্কের মাধ্যমে নীতি ও আইন আরও কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য হয়।
সংসদীয় কার্যক্রমে ভারসাম্য রক্ষায় স্পিকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংসদের কার্যপ্রণালী এমনভাবে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন, যাতে সব পক্ষের মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যেই বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও
পারস্পরিক সহনশীলতা ও সংলাপের সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি।
বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সংসদে মতপ্রকাশে বাধার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংসদ একটি দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে সব মতের প্রতিফলন না থাকলে তা কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। ড. আবদুল মঈন খানের বক্তব্য সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে আসে—গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে হলে ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতেই হবে।

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের কণ্ঠ রুদ্ধ না করে তাদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। গাজীপুরে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতাই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি, আর সেটি অক্ষুণ্ণ না থাকলে সংসদের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
রোববার (৪ মে) দুপুরে গাজীপুরের ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ড. মঈন খান এসব কথা বলেন। তিনি মন্তব্য করেন, একটি কার্যকর সংসদ কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে চলে না; সেখানে বিরোধী দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মতামত প্রকাশের সুযোগ থাকা জরুরি।
তার ভাষায়, “সংসদে সুস্থ বিতর্ক হতে হবে। পৃথিবীর সব মানুষ একইভাবে চিন্তা করবে—এটা বাস্তবসম্মত নয়। ভিন্ন মতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই গণতন্ত্র এগিয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, সংসদে আবেগতাড়িত বক্তব্য নয়, বরং যুক্তি ও বাস্তবতার ভিত্তিতে আলোচনা হওয়া উচিত। এতে জনগণের প্রত্যাশা প্রতিফলিত হয় এবং নীতিনির্ধারণে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
ড. মঈন খান দাবি করেন, একদলীয় শাসনব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। তার মতে, বিরোধী কণ্ঠকে দমিয়ে রাখলে সংসদ কেবল আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশও মনে করেন, কার্যকর সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলেন, বিরোধী দলের প্রশ্ন, সমালোচনা ও প্রস্তাব সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভারসাম্য তৈরি করে।
অনুষ্ঠানে ড. মঈন খান নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, চিকিৎসা পেশা শুধু দক্ষতার নয়, মানবিকতারও একটি বড় ক্ষেত্র। তিনি শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন চিকিৎসক হওয়ার আহ্বান জানান।
ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এ এস এম ইকবাল হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান মুনিরা আজিম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ মুবিন খান। বক্তারা নতুন শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক গুণাবলি অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, চলতি শিক্ষাবর্ষে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ১৩০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ভারত, নেপাল ও কাশ্মীরসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ৫৫ জন বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক বলেন, এমন অনুষ্ঠানে জাতীয় রাজনীতি ও গণতন্ত্রের বিষয় উঠে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, “শিক্ষার্থীরা যদি শুরু থেকেই ভিন্ন মতকে সম্মান করতে শেখে, তাহলে তারা ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।”
আরেক শিক্ষার্থী জানান, “চিকিৎসক হিসেবে আমাদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্র নিয়ে সচেতন হওয়াও জরুরি।”
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংসদে বিরোধী দলের কার্যকর অংশগ্রহণ নিয়ে প্রায়ই আলোচনা হয়। বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠেছে যে, বিরোধী দলের বক্তব্য উপস্থাপনে বাধা সৃষ্টি করা হয় বা তাদের সময় সীমিত করে দেওয়া হয়। যদিও এসব অভিযোগ নিয়ে সরকারি পক্ষ থেকে ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে উন্মুক্ত আলোচনা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্রের মৌলিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। তারা বলেন, সুস্থ বিতর্কের মাধ্যমে নীতি ও আইন আরও কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য হয়।
সংসদীয় কার্যক্রমে ভারসাম্য রক্ষায় স্পিকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংসদের কার্যপ্রণালী এমনভাবে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন, যাতে সব পক্ষের মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যেই বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও
পারস্পরিক সহনশীলতা ও সংলাপের সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি।
বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সংসদে মতপ্রকাশে বাধার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংসদ একটি দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে সব মতের প্রতিফলন না থাকলে তা কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। ড. আবদুল মঈন খানের বক্তব্য সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে আসে—গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে হলে ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতেই হবে।

আপনার মতামত লিখুন