নওগাঁর বদলগাছীতে কৃষির আধুনিকায়ন ও কৃষকদের আর্থসামাজিক উন্নয়নকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হলো ‘পার্টনার কংগ্রেস’। প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ও বাজারমুখী উৎপাদনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) দুপুরে বদলগাছী উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সহযোগিতা করে বিশ্বব্যাংক, ইউএনডিপি এবং আইএফএডি। কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিক কৃষি চর্চা প্রসারে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান ছনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ উদ্দিন, বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন এবং উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জাকির হোসেন চৌধুরী।
এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি ও উপকারভোগী কৃষকরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকদের তথ্যমতে, প্রায় ৭০ জন কৃষক এই কংগ্রেসে উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, বদলগাছীর উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে কৃষি উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।
প্রধান অতিথি ফজলে হুদা বাবুল বলেন, “কৃষিকে আধুনিক ও বাণিজ্যিক খাতে রূপান্তর করতে হলে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এতে উৎপাদন বাড়বে, পাশাপাশি কৃষকের আয়ও বৃদ্ধি পাবে।”
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, উন্নত জাতের বীজ, সঠিক সেচ ব্যবস্থা এবং আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বহুগুণে বাড়ানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘পার্টনার’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো কৃষিকে বাণিজ্যিকীকরণ, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের কাছে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত জাতের ফসল এবং বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত তথ্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এতে কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন বলে দাবি করা হয়।
একজন কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “আমরা চাই কৃষকরা শুধু উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ না থেকে বাজার ব্যবস্থাপনা ও মূল্য সংযোজনেও যুক্ত হোক। এতে তাদের আয় বাড়বে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।”
কংগ্রেসে অংশ নেওয়া কয়েকজন কৃষক জানান, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে তারা ভবিষ্যতে নতুন পদ্ধতি প্রয়োগে উৎসাহিত হচ্ছেন।
একজন অংশগ্রহণকারী কৃষক বলেন, “আগে আমরা অনেক কিছু জানতাম না। এখন প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ পেয়ে বুঝতে পারছি কীভাবে কম খরচে বেশি উৎপাদন করা যায়।”
আরেকজন কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বাজারে ফসল বিক্রির সময় অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। যদি প্রকল্পের মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থাপনায় সহায়তা পাওয়া যায়, তাহলে আমরা আরও লাভবান হতে পারব।”
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে উন্নত ফসলের প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন নতুন জাতের ফসল ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি তুলে ধরা হয়। প্রদর্শনী ঘিরে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই ধরনের প্রদর্শনী কৃষকদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করে এবং নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে উৎসাহিত করে।
বিশ্লেষকদের মতে, বদলগাছীর মতো কৃষিপ্রধান এলাকায় আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষি খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। তবে এর জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।
একজন স্থানীয় পর্যবেক্ষক বলেন, “প্রকল্পভিত্তিক উদ্যোগ ভালো, কিন্তু তা দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখতে হলে নিয়মিত তদারকি ও বাস্তবায়ন জরুরি।”
উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কৃষকদের সহায়তায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ সেবা জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তারা আশা করছেন, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় বদলগাছীতে কৃষির আধুনিকায়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
তবে এই উদ্যোগের বাস্তব সুফল পেতে হলে ধারাবাহিকতা, সমন্বয় এবং কৃষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে বদলগাছী কৃষিখাতে একটি সফল মডেল হয়ে উঠতে পারে।

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬
নওগাঁর বদলগাছীতে কৃষির আধুনিকায়ন ও কৃষকদের আর্থসামাজিক উন্নয়নকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হলো ‘পার্টনার কংগ্রেস’। প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ও বাজারমুখী উৎপাদনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) দুপুরে বদলগাছী উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সহযোগিতা করে বিশ্বব্যাংক, ইউএনডিপি এবং আইএফএডি। কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিক কৃষি চর্চা প্রসারে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান ছনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ উদ্দিন, বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন এবং উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জাকির হোসেন চৌধুরী।
এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি ও উপকারভোগী কৃষকরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকদের তথ্যমতে, প্রায় ৭০ জন কৃষক এই কংগ্রেসে উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, বদলগাছীর উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে কৃষি উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।
প্রধান অতিথি ফজলে হুদা বাবুল বলেন, “কৃষিকে আধুনিক ও বাণিজ্যিক খাতে রূপান্তর করতে হলে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এতে উৎপাদন বাড়বে, পাশাপাশি কৃষকের আয়ও বৃদ্ধি পাবে।”
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, উন্নত জাতের বীজ, সঠিক সেচ ব্যবস্থা এবং আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বহুগুণে বাড়ানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘পার্টনার’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো কৃষিকে বাণিজ্যিকীকরণ, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের কাছে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত জাতের ফসল এবং বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত তথ্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এতে কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন বলে দাবি করা হয়।
একজন কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “আমরা চাই কৃষকরা শুধু উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ না থেকে বাজার ব্যবস্থাপনা ও মূল্য সংযোজনেও যুক্ত হোক। এতে তাদের আয় বাড়বে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।”
কংগ্রেসে অংশ নেওয়া কয়েকজন কৃষক জানান, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে তারা ভবিষ্যতে নতুন পদ্ধতি প্রয়োগে উৎসাহিত হচ্ছেন।
একজন অংশগ্রহণকারী কৃষক বলেন, “আগে আমরা অনেক কিছু জানতাম না। এখন প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ পেয়ে বুঝতে পারছি কীভাবে কম খরচে বেশি উৎপাদন করা যায়।”
আরেকজন কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বাজারে ফসল বিক্রির সময় অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। যদি প্রকল্পের মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থাপনায় সহায়তা পাওয়া যায়, তাহলে আমরা আরও লাভবান হতে পারব।”
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে উন্নত ফসলের প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন নতুন জাতের ফসল ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি তুলে ধরা হয়। প্রদর্শনী ঘিরে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই ধরনের প্রদর্শনী কৃষকদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করে এবং নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে উৎসাহিত করে।
বিশ্লেষকদের মতে, বদলগাছীর মতো কৃষিপ্রধান এলাকায় আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষি খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। তবে এর জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।
একজন স্থানীয় পর্যবেক্ষক বলেন, “প্রকল্পভিত্তিক উদ্যোগ ভালো, কিন্তু তা দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখতে হলে নিয়মিত তদারকি ও বাস্তবায়ন জরুরি।”
উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কৃষকদের সহায়তায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ সেবা জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তারা আশা করছেন, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় বদলগাছীতে কৃষির আধুনিকায়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
তবে এই উদ্যোগের বাস্তব সুফল পেতে হলে ধারাবাহিকতা, সমন্বয় এবং কৃষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে বদলগাছী কৃষিখাতে একটি সফল মডেল হয়ে উঠতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন