নেত্রকোনার পূর্বধলায় সকালবেলার ব্যস্ত সময়ে ঘটে গেল মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। বাস ও সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও তিনজন। এই দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
শনিবার (২ মে) সকাল ৮টার দিকে নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি মহাসড়কের ইলাশপুর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর থেকে ময়মনসিংহগামী ‘আল্লাহ দান’ পরিবহনের একটি বাস দ্রুতগতিতে শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি মহাসড়ক দিয়ে আসছিল। একই সময় বিপরীত দিক থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশা আসছিল। ইলাশপুর এলাকায় পৌঁছালে দুই যানবাহনের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষটি ছিল বেশ জোরালো। এতে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই আয়নাল হক (৫৭) নামে এক যাত্রী মারা যান। তিনি পূর্বধলা উপজেলার দক্ষিণ কালডোয়ার গ্রামের বাসিন্দা।
ঘটনার পরপরই আশপাশের মানুষ ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে পূর্বধলা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় অজ্ঞাতনামা (প্রায় ৫০ বছর বয়সী) আরও একজন পুরুষ মারা যান। তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দুর্ঘটনায় আহত তিনজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন—
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা মাঝারি ধরনের গুরুতর এবং একজন শঙ্কামুক্ত হলেও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলের পাশে থাকা এক স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“বাসটা অনেক দ্রুতগতিতে আসছিল বলে মনে হয়েছে। সিএনজিটা সাইড নেওয়ার চেষ্টা করছিল, কিন্তু সময় পায়নি। মুহূর্তের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যায়।”
আরেকজন বলেন,
“এই রাস্তায় প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। গতি নিয়ন্ত্রণ না করলে এই সমস্যা থামবে না।”
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান,
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং নিহত একজনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া আরেকজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান,
“দুর্ঘটনার পর বাসটির চালক পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। তাকে শনাক্ত ও আটক করতে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
এই দুর্ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি মহাসড়কটি উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হলেও এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ,
এসব কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন,
“প্রতিদিনই এই রাস্তায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো জরুরি।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন দুর্ঘটনা কমাতে কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি—
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে—
এই দুর্ঘটনাও একই ধরনের কারণের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
নেত্রকোনার পূর্বধলায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা শুধু দুইটি প্রাণহানির ঘটনা নয়, বরং এটি আমাদের সড়ক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার একটি প্রতিফলন। প্রতিটি দুর্ঘটনার পর কিছুদিন আলোচনা হলেও স্থায়ী সমাধান এখনো অধরাই রয়ে গেছে।
নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে হলে চালক, যাত্রী ও প্রশাসন—সব পক্ষকেই দায়িত্বশীল হতে হবে। অন্যথায় এমন দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতেই থাকবে, আর হারাতে হবে আরও মূল্যবান প্রাণ।

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬
নেত্রকোনার পূর্বধলায় সকালবেলার ব্যস্ত সময়ে ঘটে গেল মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। বাস ও সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও তিনজন। এই দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
শনিবার (২ মে) সকাল ৮টার দিকে নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি মহাসড়কের ইলাশপুর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর থেকে ময়মনসিংহগামী ‘আল্লাহ দান’ পরিবহনের একটি বাস দ্রুতগতিতে শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি মহাসড়ক দিয়ে আসছিল। একই সময় বিপরীত দিক থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশা আসছিল। ইলাশপুর এলাকায় পৌঁছালে দুই যানবাহনের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষটি ছিল বেশ জোরালো। এতে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই আয়নাল হক (৫৭) নামে এক যাত্রী মারা যান। তিনি পূর্বধলা উপজেলার দক্ষিণ কালডোয়ার গ্রামের বাসিন্দা।
ঘটনার পরপরই আশপাশের মানুষ ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে পূর্বধলা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় অজ্ঞাতনামা (প্রায় ৫০ বছর বয়সী) আরও একজন পুরুষ মারা যান। তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দুর্ঘটনায় আহত তিনজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন—
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা মাঝারি ধরনের গুরুতর এবং একজন শঙ্কামুক্ত হলেও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলের পাশে থাকা এক স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“বাসটা অনেক দ্রুতগতিতে আসছিল বলে মনে হয়েছে। সিএনজিটা সাইড নেওয়ার চেষ্টা করছিল, কিন্তু সময় পায়নি। মুহূর্তের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যায়।”
আরেকজন বলেন,
“এই রাস্তায় প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। গতি নিয়ন্ত্রণ না করলে এই সমস্যা থামবে না।”
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান,
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং নিহত একজনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া আরেকজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান,
“দুর্ঘটনার পর বাসটির চালক পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। তাকে শনাক্ত ও আটক করতে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
এই দুর্ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি মহাসড়কটি উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হলেও এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ,
এসব কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন,
“প্রতিদিনই এই রাস্তায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো জরুরি।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন দুর্ঘটনা কমাতে কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি—
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে—
এই দুর্ঘটনাও একই ধরনের কারণের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
নেত্রকোনার পূর্বধলায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা শুধু দুইটি প্রাণহানির ঘটনা নয়, বরং এটি আমাদের সড়ক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার একটি প্রতিফলন। প্রতিটি দুর্ঘটনার পর কিছুদিন আলোচনা হলেও স্থায়ী সমাধান এখনো অধরাই রয়ে গেছে।
নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে হলে চালক, যাত্রী ও প্রশাসন—সব পক্ষকেই দায়িত্বশীল হতে হবে। অন্যথায় এমন দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতেই থাকবে, আর হারাতে হবে আরও মূল্যবান প্রাণ।

আপনার মতামত লিখুন