সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের গ্যালারি ভরে ছিল শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাসে। আর সেই উচ্ছ্বাসের মাঝেই এক আবেগঘন বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—“তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।” খেলাধুলা আর শিক্ষার সমন্বয়ে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলো ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি।
শনিবার বিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শত শত শিক্ষার্থী ও কিশোর-কিশোরীর সামনে তিনি বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে দেশের তরুণ প্রজন্ম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে পারবে।
তার ভাষায়,
“তোমরা প্রত্যেকে একজন করে বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা করতে হবে। যে খেলোয়াড় হতে চায়, তাকে খেলোয়াড় হতে দিতে হবে—রাষ্ট্র সেই সুযোগ তৈরি করবে।”
শিশুদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, গ্যালারিতে বসে থাকা তারাই প্রকৃত প্রধান অতিথি, কারণ তারাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।
এই কর্মসূচির পেছনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রায় সাড়ে চার বছর আগে লন্ডনে এক বৈঠকে এ উদ্যোগের সূচনা হয়। সে সময় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক-এর সঙ্গে আলোচনা করে শিশু-কিশোরদের নিয়ে একটি জাতীয় ক্রীড়া প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’-র আদলে এবার ক্রীড়াঙ্গনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান কিশোর-কিশোরীদের খুঁজে বের করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এ ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা অংশ নিতে পারছে। আয়োজকদের তথ্যমতে, ইতোমধ্যে ১ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি প্রতিযোগী নিবন্ধন করেছে।
পুরো আয়োজনকে প্রশাসনিকভাবে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে—ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেটসহ দেশের প্রধান বিভাগগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
একজন প্রতিযোগী সর্বোচ্চ দুটি ইভেন্টে অংশ নিতে পারবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেন,
“এই কর্মসূচি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দক্ষ খেলোয়াড় গড়ে তোলার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। উপজেলা থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রতিভা বাছাইয়ের মাধ্যমে দেশ আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় পাবে।”
তিনি আরও জানান, ১৩ থেকে ২২ মের মধ্যে আঞ্চলিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে শুধু খেলাধুলা নয়, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির দিকেও গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন,
“তোমাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে ডাক্তার, প্রকৌশলী, আইনজীবী, এমনকি প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি তৈরি হবে।”
এই বক্তব্যে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আশাবাদী মনোভাব লক্ষ্য করা যায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“এ ধরনের উদ্যোগ গ্রাম-গঞ্জের বাচ্চাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তারা সুযোগ পেলে অনেক দূর যেতে পারবে।”
একজন শিক্ষার্থী জানায়,
“আমরা খেলাধুলা করতে চাই, কিন্তু সব সময় সুযোগ পাই না। এই আয়োজন আমাদের জন্য বড় সুযোগ।”
বিশ্লেষকদের মতে, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ দেশের ক্রীড়া খাতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ পর্যায়ে প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও অনেকেই সঠিক প্ল্যাটফর্ম পায় না। এই উদ্যোগ সেই ঘাটতি পূরণে সহায়ক হতে পারে।
এছাড়া, শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ায় তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এই বৃহৎ আয়োজন সফল করতে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সুষ্ঠু বাছাই প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আয়োজকরা জানিয়েছেন, স্বচ্ছতা বজায় রেখে প্রতিযোগিতা পরিচালনার চেষ্টা করা হবে।
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলার একটি জাতীয় উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে যেমন আশাবাদের সুর ছিল, তেমনি এই আয়োজন বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়া ও মানবসম্পদ উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।
তবে এর সফলতা নির্ভর করবে সুষ্ঠু বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর। যদি এই উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে চালু রাখা যায়, তবে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন তারকার উত্থান দেখা যেতে পারে।

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬
সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের গ্যালারি ভরে ছিল শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাসে। আর সেই উচ্ছ্বাসের মাঝেই এক আবেগঘন বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—“তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।” খেলাধুলা আর শিক্ষার সমন্বয়ে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলো ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি।
শনিবার বিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শত শত শিক্ষার্থী ও কিশোর-কিশোরীর সামনে তিনি বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে দেশের তরুণ প্রজন্ম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে পারবে।
তার ভাষায়,
“তোমরা প্রত্যেকে একজন করে বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা করতে হবে। যে খেলোয়াড় হতে চায়, তাকে খেলোয়াড় হতে দিতে হবে—রাষ্ট্র সেই সুযোগ তৈরি করবে।”
শিশুদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, গ্যালারিতে বসে থাকা তারাই প্রকৃত প্রধান অতিথি, কারণ তারাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।
এই কর্মসূচির পেছনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রায় সাড়ে চার বছর আগে লন্ডনে এক বৈঠকে এ উদ্যোগের সূচনা হয়। সে সময় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক-এর সঙ্গে আলোচনা করে শিশু-কিশোরদের নিয়ে একটি জাতীয় ক্রীড়া প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’-র আদলে এবার ক্রীড়াঙ্গনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান কিশোর-কিশোরীদের খুঁজে বের করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এ ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা অংশ নিতে পারছে। আয়োজকদের তথ্যমতে, ইতোমধ্যে ১ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি প্রতিযোগী নিবন্ধন করেছে।
পুরো আয়োজনকে প্রশাসনিকভাবে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে—ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেটসহ দেশের প্রধান বিভাগগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
একজন প্রতিযোগী সর্বোচ্চ দুটি ইভেন্টে অংশ নিতে পারবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেন,
“এই কর্মসূচি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দক্ষ খেলোয়াড় গড়ে তোলার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। উপজেলা থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রতিভা বাছাইয়ের মাধ্যমে দেশ আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় পাবে।”
তিনি আরও জানান, ১৩ থেকে ২২ মের মধ্যে আঞ্চলিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে শুধু খেলাধুলা নয়, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির দিকেও গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন,
“তোমাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে ডাক্তার, প্রকৌশলী, আইনজীবী, এমনকি প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি তৈরি হবে।”
এই বক্তব্যে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আশাবাদী মনোভাব লক্ষ্য করা যায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“এ ধরনের উদ্যোগ গ্রাম-গঞ্জের বাচ্চাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তারা সুযোগ পেলে অনেক দূর যেতে পারবে।”
একজন শিক্ষার্থী জানায়,
“আমরা খেলাধুলা করতে চাই, কিন্তু সব সময় সুযোগ পাই না। এই আয়োজন আমাদের জন্য বড় সুযোগ।”
বিশ্লেষকদের মতে, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ দেশের ক্রীড়া খাতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ পর্যায়ে প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও অনেকেই সঠিক প্ল্যাটফর্ম পায় না। এই উদ্যোগ সেই ঘাটতি পূরণে সহায়ক হতে পারে।
এছাড়া, শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ায় তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এই বৃহৎ আয়োজন সফল করতে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সুষ্ঠু বাছাই প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আয়োজকরা জানিয়েছেন, স্বচ্ছতা বজায় রেখে প্রতিযোগিতা পরিচালনার চেষ্টা করা হবে।
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলার একটি জাতীয় উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে যেমন আশাবাদের সুর ছিল, তেমনি এই আয়োজন বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়া ও মানবসম্পদ উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।
তবে এর সফলতা নির্ভর করবে সুষ্ঠু বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর। যদি এই উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে চালু রাখা যায়, তবে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন তারকার উত্থান দেখা যেতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন