দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

দুই গোলে পিছিয়েও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, ইতালিয়ান কাপের ফাইনালে ইন্টার মিলান

দুই গোলে পিছিয়েও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, ইতালিয়ান কাপের ফাইনালে ইন্টার মিলান

ডোরিয়েল্টনের চার গোল, সৌরভের হ্যাটট্রিকে প্লে-অফে বসুন্ধরা কিংস ও মোহামেডান

২০২৬ বিশ্বকাপেই ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ স্বপ্ন পূরণের সুযোগ দেখছেন কাফু

দিল্লির আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন আফগান পেসার শাপুর জাদরান

শের-ই-বাংলায় নাহিদের ঝড়: দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৯৮ রানেই অলআউট নিউজিল্যান্ড

টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, সিরিজ বাঁচাতে আজ কঠিন লড়াই

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায়, মিরপুরে রুবেলকে সম্মাননা দেবে বিসিবি

সরকারি ক্রীড়া ভাতার তালিকায় আরও ১৭১ খেলোয়াড়, মোট সংখ্যা এখন ৩০০

দুই গোলে পিছিয়েও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, ইতালিয়ান কাপের ফাইনালে ইন্টার মিলান

দুই গোলে পিছিয়েও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, ইতালিয়ান কাপের ফাইনালে ইন্টার মিলান
-ছবি: সংগৃহীত

দুই গোলে পিছিয়েও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, ইতালিয়ান কাপের ফাইনালে ইন্টার মিলান

দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ইতালিয়ান কাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে Inter Milan। ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে দুর্দান্ত লড়াই করে ৩–২ গোলের জয় তুলে নেয় দলটি।

সেমিফাইনালের প্রথম লেগে গোলশূন্য ড্র হওয়ায় দ্বিতীয় লেগে জয় ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না ইন্টার মিলানের সামনে। সেই চাপ নিয়েই মাঠে নামে তারা। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেললেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিতে পারেনি দলটি।

ম্যাচের ৩২ মিনিটে প্রথম ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। পাল্টা আক্রমণে গোল করে এগিয়ে যায় Como 1907। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত গোল শোধ করতে পারেনি ইন্টার। ফলে বিরতিতে যেতে হয় পিছিয়ে থেকেই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে ইন্টার মিলানের জন্য। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে কোমো দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করে। তখন গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের মাঝেও কিছুটা হতাশা দেখা যায়। অনেকেই মনে করেছিলেন, এখানেই হয়তো শেষ হয়ে যাচ্ছে ইন্টার মিলানের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন।

তবে ম্যাচের মোড় ঘুরতে শুরু করে ৬৯ মিনিটে। একটি দারুণ আক্রমণ থেকে গোল করে ব্যবধান কমায় ইন্টার। সেই গোলের পরই দলটি যেন নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পায়। খেলোয়াড়দের চলাফেরা, পাসিং এবং আক্রমণে নতুন গতি দেখা যায়।

এরপর ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত আসে ৮৬ মিনিটে। তুর্কি মিডফিল্ডার Hakan Çalhanoğlu টানা দুটি দুর্দান্ত গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। তার এই জোড়া গোলেই আবার ম্যাচে প্রাণ ফিরে আসে। সমর্থকদের উল্লাসে তখন পুরো স্টেডিয়াম যেন কেঁপে ওঠে।

সমতা ফেরার পর ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে যাবে—এমনটাই মনে হচ্ছিল। কিন্তু নাটক তখনও বাকি ছিল। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ঠিক এক মিনিট আগে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন Petar Sučić। এই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই মাঠজুড়ে শুরু হয় উৎসবের আমেজ। খেলোয়াড়দের সঙ্গে সমর্থকরাও উদযাপনে মেতে ওঠেন। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও এমন প্রত্যাবর্তন যে কোনো দলের জন্যই বিশেষ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়।

উল্লেখ্য, ইতালিয়ান কাপ ইতালির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ঘরোয়া ফুটবল প্রতিযোগিতা। প্রতি মৌসুমে শীর্ষ ক্লাবগুলো এখানে অংশ নেয় এবং শিরোপা জয়ের লড়াই বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়। এই টুর্নামেন্টে ভালো ফল করা ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অন্যদিকে ইন্টার মিলান ইতালির ঐতিহ্যবাহী ও সফল ক্লাবগুলোর একটি। সিরি আ এবং ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় তাদের দীর্ঘদিনের সাফল্যের ইতিহাস রয়েছে। সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতেও দলটি ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়ে আসছে, যা তাদের বর্তমান আত্মবিশ্বাসের বড় উৎস।

সব মিলিয়ে কোমোর বিপক্ষে এই নাটকীয় জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতার গল্প নয়—এটি ছিল দৃঢ় মনোবল, দলগত সমন্বয় এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। এখন ফাইনালের মঞ্চে চোখ ইন্টার মিলানের সমর্থকদের। তারা আশা করছেন, এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই দলটি শিরোপাও ঘরে তুলবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬


দুই গোলে পিছিয়েও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, ইতালিয়ান কাপের ফাইনালে ইন্টার মিলান

প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দুই গোলে পিছিয়েও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, ইতালিয়ান কাপের ফাইনালে ইন্টার মিলান

দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ইতালিয়ান কাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে Inter Milan। ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে দুর্দান্ত লড়াই করে ৩–২ গোলের জয় তুলে নেয় দলটি।

সেমিফাইনালের প্রথম লেগে গোলশূন্য ড্র হওয়ায় দ্বিতীয় লেগে জয় ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না ইন্টার মিলানের সামনে। সেই চাপ নিয়েই মাঠে নামে তারা। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেললেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিতে পারেনি দলটি।

ম্যাচের ৩২ মিনিটে প্রথম ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। পাল্টা আক্রমণে গোল করে এগিয়ে যায় Como 1907। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত গোল শোধ করতে পারেনি ইন্টার। ফলে বিরতিতে যেতে হয় পিছিয়ে থেকেই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে ইন্টার মিলানের জন্য। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে কোমো দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করে। তখন গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের মাঝেও কিছুটা হতাশা দেখা যায়। অনেকেই মনে করেছিলেন, এখানেই হয়তো শেষ হয়ে যাচ্ছে ইন্টার মিলানের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন।

তবে ম্যাচের মোড় ঘুরতে শুরু করে ৬৯ মিনিটে। একটি দারুণ আক্রমণ থেকে গোল করে ব্যবধান কমায় ইন্টার। সেই গোলের পরই দলটি যেন নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পায়। খেলোয়াড়দের চলাফেরা, পাসিং এবং আক্রমণে নতুন গতি দেখা যায়।

এরপর ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত আসে ৮৬ মিনিটে। তুর্কি মিডফিল্ডার Hakan Çalhanoğlu টানা দুটি দুর্দান্ত গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। তার এই জোড়া গোলেই আবার ম্যাচে প্রাণ ফিরে আসে। সমর্থকদের উল্লাসে তখন পুরো স্টেডিয়াম যেন কেঁপে ওঠে।

সমতা ফেরার পর ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে যাবে—এমনটাই মনে হচ্ছিল। কিন্তু নাটক তখনও বাকি ছিল। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ঠিক এক মিনিট আগে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন Petar Sučić। এই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই মাঠজুড়ে শুরু হয় উৎসবের আমেজ। খেলোয়াড়দের সঙ্গে সমর্থকরাও উদযাপনে মেতে ওঠেন। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও এমন প্রত্যাবর্তন যে কোনো দলের জন্যই বিশেষ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়।

উল্লেখ্য, ইতালিয়ান কাপ ইতালির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ঘরোয়া ফুটবল প্রতিযোগিতা। প্রতি মৌসুমে শীর্ষ ক্লাবগুলো এখানে অংশ নেয় এবং শিরোপা জয়ের লড়াই বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়। এই টুর্নামেন্টে ভালো ফল করা ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অন্যদিকে ইন্টার মিলান ইতালির ঐতিহ্যবাহী ও সফল ক্লাবগুলোর একটি। সিরি আ এবং ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় তাদের দীর্ঘদিনের সাফল্যের ইতিহাস রয়েছে। সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতেও দলটি ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়ে আসছে, যা তাদের বর্তমান আত্মবিশ্বাসের বড় উৎস।

সব মিলিয়ে কোমোর বিপক্ষে এই নাটকীয় জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতার গল্প নয়—এটি ছিল দৃঢ় মনোবল, দলগত সমন্বয় এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। এখন ফাইনালের মঞ্চে চোখ ইন্টার মিলানের সমর্থকদের। তারা আশা করছেন, এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই দলটি শিরোপাও ঘরে তুলবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর