দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে দিনাজপুরে মহিলা পরিষদের বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভা

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে দিনাজপুরে মহিলা পরিষদের বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভা

খুলনা বিভাগে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান, ১১ প্রতিষ্ঠানকে ৮২ হাজার টাকা জরিমানা

নাটোর সদর হাসপাতালে শিশুর মাকে ধর্ষণের অভিযোগ, তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা; ভিডিও ধারণেরও অভিযোগ

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের নেপথ্যে কী? পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠন, দলীয় দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ

মান্দার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশ সুপার, আটক দুই; প্রকৃত জড়িতদের খুঁজছে পুলিশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দোকানের জায়গা নিয়ে সংঘর্ষ, ২০ জন আহত; গ্রেপ্তার ৫

শেরপুরে একই মাদরাসার তিন শিশুসহ পাঁচজন নিখোঁজ, উৎকণ্ঠায় পরিবার; তদন্তে পুলিশ

কটিয়াদীতে বাবার মৃত্যুতে ঢোল-বাঁশি বাজানোর কাণ্ড: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড়, ক্ষমা চাইলেন সন্তান

নওগাঁর সাপাহারে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সহিংস হামলা, বৃদ্ধা মা-মেয়ে গুরুতর আহত

নওগাঁর সাপাহারে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সহিংস হামলা, বৃদ্ধা মা-মেয়ে গুরুতর আহত
নওগাঁর সাপাহারে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সহিংস হামলার পর এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক।

নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় দীর্ঘদিনের জমিজমা বিরোধ এবার ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। জমির মালিকানা নিয়ে চলমান দ্বন্দ্বের জেরে এক বৃদ্ধা মা ও তার মেয়েকে মারধর করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। আহতদের মধ্যে বৃদ্ধা মজিদা বিবির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘিরে পুরো শিরন্টি ইউনিয়নে উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা ও উদ্বেগ।


দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকে সহিংসতার বিস্ফোরণ

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার শিরন্টি ইউনিয়নের খঞ্জনপুর এলাকায় প্রায় ১৭ শতাংশ পৈত্রিক জমি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

বিরোধের একদিকে রয়েছেন ফয়সাল আহম্মেদ ফিলু, অপরদিকে আব্দুস সালামের পরিবার। দুই পক্ষই ওই জমির মালিকানা দাবি করে আসছিল।

ভুক্তভোগীদের দাবি, তারা প্রায় ৩০ বছর ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি প্রতিপক্ষ ওই জমিতে জোর করে ঘর নির্মাণের চেষ্টা শুরু করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।


কাজ শুরুর পর থেকেই বাড়ে উত্তেজনা

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ এপ্রিল প্রতিপক্ষ প্রথমবার জমিতে কাজ শুরু করলে আব্দুস সালামের পরিবার বাধা দেয়। সেই সময়ও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ওঠে।

এর ধারাবাহিকতায় গত ২৮ এপ্রিল সকালে আবারও ওই জমিতে কাজ শুরু করা হলে নতুন করে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে বলে জানা গেছে।

ঘটনার সময় আব্দুস সালামের মেয়ে সালমা খাতুন ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।


“লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা” অভিযোগ

ভুক্তভোগী সালমা খাতুন অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। তার দাবি, তাকে মাছ ধরার খোঁচা দিয়ে আঘাত করা হয়, এতে তার হাতের আঙুল কেটে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি আহত হন।

তিনি আরও বলেন, মাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে বৃদ্ধা মজিদা বিবিকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার ডান পায়ের হাঁটু ভেঙে যায় এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বৃদ্ধার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।


“আমরা ন্যায্য বিচার চাই”—ভুক্তভোগীর দাবি

আহত সালমা খাতুন বলেন, তারা তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে বলে তার অভিযোগ।

তিনি বলেন, “আমার মা এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”


অভিযুক্তের পাল্টা দাবি

অন্যদিকে প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল আহম্মেদ ফিলু অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তারা নিজেদের জমিতে কাজ করছিলেন এবং প্রতিপক্ষ এসে বাধা দেয়।

তার ভাষায়, কোনো হামলা বা মারধরের ঘটনা ঘটেনি। আহত হওয়ার দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে তিনি দাবি করেন।


থানায় অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সাপাহার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, মামলা হলে তা গ্রহণ করা হবে।


জমি বিরোধে সহিংসতা কেন বাড়ছে?

স্থানীয়দের মতে, পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে স্পষ্ট কাগজপত্রের অভাব এবং দীর্ঘদিনের দখল-বিরোধ অনেক সময় বড় সংঘর্ষে রূপ নেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামাঞ্চলে জমি নিয়ে বিরোধের দ্রুত ও নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি না হলে তা প্রায়ই সহিংসতায় পরিণত হয়।

এ ধরনের ঘটনায় শুধু আইনশৃঙ্খলা নয়, সামাজিক সমঝোতার ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।


এলাকায় আতঙ্ক, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

ঘটনার পর থেকে শিরন্টি ইউনিয়ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অনেকেই বলছেন, এমন ঘটনা বারবার ঘটলে এলাকায় সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে।


উপসংহার

নওগাঁর সাপাহারে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই সহিংস ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সম্পত্তি বিরোধ কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

এখন সবার নজর প্রশাসনের তদন্তের দিকে। স্থানীয়রা দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


নওগাঁর সাপাহারে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সহিংস হামলা, বৃদ্ধা মা-মেয়ে গুরুতর আহত

প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় দীর্ঘদিনের জমিজমা বিরোধ এবার ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। জমির মালিকানা নিয়ে চলমান দ্বন্দ্বের জেরে এক বৃদ্ধা মা ও তার মেয়েকে মারধর করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। আহতদের মধ্যে বৃদ্ধা মজিদা বিবির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘিরে পুরো শিরন্টি ইউনিয়নে উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা ও উদ্বেগ।


দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকে সহিংসতার বিস্ফোরণ

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার শিরন্টি ইউনিয়নের খঞ্জনপুর এলাকায় প্রায় ১৭ শতাংশ পৈত্রিক জমি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

বিরোধের একদিকে রয়েছেন ফয়সাল আহম্মেদ ফিলু, অপরদিকে আব্দুস সালামের পরিবার। দুই পক্ষই ওই জমির মালিকানা দাবি করে আসছিল।

ভুক্তভোগীদের দাবি, তারা প্রায় ৩০ বছর ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি প্রতিপক্ষ ওই জমিতে জোর করে ঘর নির্মাণের চেষ্টা শুরু করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।


কাজ শুরুর পর থেকেই বাড়ে উত্তেজনা

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ এপ্রিল প্রতিপক্ষ প্রথমবার জমিতে কাজ শুরু করলে আব্দুস সালামের পরিবার বাধা দেয়। সেই সময়ও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ওঠে।

এর ধারাবাহিকতায় গত ২৮ এপ্রিল সকালে আবারও ওই জমিতে কাজ শুরু করা হলে নতুন করে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে বলে জানা গেছে।

ঘটনার সময় আব্দুস সালামের মেয়ে সালমা খাতুন ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।


“লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা” অভিযোগ

ভুক্তভোগী সালমা খাতুন অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। তার দাবি, তাকে মাছ ধরার খোঁচা দিয়ে আঘাত করা হয়, এতে তার হাতের আঙুল কেটে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি আহত হন।

তিনি আরও বলেন, মাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে বৃদ্ধা মজিদা বিবিকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার ডান পায়ের হাঁটু ভেঙে যায় এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বৃদ্ধার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।


“আমরা ন্যায্য বিচার চাই”—ভুক্তভোগীর দাবি

আহত সালমা খাতুন বলেন, তারা তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে বলে তার অভিযোগ।

তিনি বলেন, “আমার মা এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”


অভিযুক্তের পাল্টা দাবি

অন্যদিকে প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল আহম্মেদ ফিলু অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তারা নিজেদের জমিতে কাজ করছিলেন এবং প্রতিপক্ষ এসে বাধা দেয়।

তার ভাষায়, কোনো হামলা বা মারধরের ঘটনা ঘটেনি। আহত হওয়ার দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে তিনি দাবি করেন।


থানায় অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সাপাহার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, মামলা হলে তা গ্রহণ করা হবে।


জমি বিরোধে সহিংসতা কেন বাড়ছে?

স্থানীয়দের মতে, পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে স্পষ্ট কাগজপত্রের অভাব এবং দীর্ঘদিনের দখল-বিরোধ অনেক সময় বড় সংঘর্ষে রূপ নেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামাঞ্চলে জমি নিয়ে বিরোধের দ্রুত ও নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি না হলে তা প্রায়ই সহিংসতায় পরিণত হয়।

এ ধরনের ঘটনায় শুধু আইনশৃঙ্খলা নয়, সামাজিক সমঝোতার ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।


এলাকায় আতঙ্ক, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

ঘটনার পর থেকে শিরন্টি ইউনিয়ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অনেকেই বলছেন, এমন ঘটনা বারবার ঘটলে এলাকায় সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে।


উপসংহার

নওগাঁর সাপাহারে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই সহিংস ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সম্পত্তি বিরোধ কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

এখন সবার নজর প্রশাসনের তদন্তের দিকে। স্থানীয়রা দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর