প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
নওগাঁর সাপাহারে জমি বিরোধে মা-মেয়েকে পিটিয়ে জখম, বৃদ্ধার পা ভাঙা
মোঃ মমিন আলী, জেলা প্রতিনিধি ||
নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ এবার সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধা মা ও তার মেয়েকে মারধর করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। আহতদের মধ্যে বৃদ্ধা মজিদা বিবির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শিরন্টি ইউনিয়নে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই এলাকার একটি পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বহুদিন ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। প্রায় ১৭ শতাংশ জমি নিয়ে এই বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে খঞ্জনপুর গ্রামের মৃত সোলাইমান আলীর ছেলে ফয়সাল আহম্মেদ ফিলু ও একই এলাকার আব্দুস সালামের পরিবার।ভুক্তভোগীদের দাবি, তারা প্রায় ৩০ বছর ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন। তবে প্রতিপক্ষ কয়েকদিন আগে সেখানে জোর করে ঘর নির্মাণের চেষ্টা শুরু করে। গত ১৩ এপ্রিল প্রথমবার তারা জমিতে কাজ শুরু করলে বাধা দেন আব্দুস সালামের পরিবার। সেই সময়ও উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ওঠে।এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ এপ্রিল সকালে আবারও ওই জমিতে কাজ শুরু করেন অভিযুক্তরা। খবর পেয়ে আব্দুস সালামের মেয়ে সালমা খাতুন ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দেন। তখনই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। সালমা খাতুন জানান, প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।তার অভিযোগ, তাকে লক্ষ্য করে মাছ ধরার খোঁচা দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার বাম হাতের আঙুল কেটে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত হন। এ সময় মাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন বৃদ্ধা মজিদা বিবি। তখন তাকে লক্ষ্য করে লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হলে তা তার মাথায় না লেগে ডান পায়ের হাঁটুতে লাগে। এতে তার পা ভেঙে যায় এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত মা-মেয়েকে উদ্ধার করে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসকরা বৃদ্ধা মজিদা বিবির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।আহত সালমা খাতুন বলেন, তারা তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষা করতে গিয়ে এমন হামলার শিকার হয়েছেন। তার ভাষায়, প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং তার বৃদ্ধা মায়ের অবস্থা এখন খুবই খারাপ। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।অন্যদিকে, প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল আহম্মেদ ফিলু অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তারা নিজেদের জমিতে কাজ করছিলেন এবং প্রতিপক্ষ এসে বাধা দেয়। তার মতে, কোনো ধরনের মারধরের ঘটনা ঘটেনি এবং আহতদের দাবিও সঠিক নয়।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সালমা খাতুন সাপাহার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগীরা মামলা করতে চাইলে তা গ্রহণ করা হবে।এ ধরনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নওগাঁসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই দেখা যায়। বিশেষ করে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে স্পষ্ট কাগজপত্র না থাকা বা জমির সীমানা নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে অনেক সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, এসব বিরোধ মীমাংসায় গ্রাম্য সালিশ বা আইনি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা সহিংসতায় গড়ায়।শিরন্টি ইউনিয়ন এলাকাতেও আগে জমি নিয়ে ছোটখাটো বিরোধের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান। তবে সাম্প্রতিক এই হামলার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটে।
বর্তমানে আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানা গেছে। এলাকাবাসী এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।সবকিছু মিলিয়ে, এই ঘটনাটি আবারও দেখাল যে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ সময়মতো সমাধান না হলে তা সহজেই সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা দ্রুত বের করে এনে আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। সংশ্লিষ্টদের মতে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হলেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং এলাকায় স্থিতিশীলতা ফিরবে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর