দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

ছয়দিন পর পানির নিচ থেকে ভেসে উঠলো রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু

ছয়দিন পর পানির নিচ থেকে ভেসে উঠলো রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু

বগুড়ায় বিকল ট্রাক মেরামতের সময় চাপা পড়ে ৩ জনের মৃত্যু

প্রবাসীর স্বর্ণ ছিনতাই, বিমানবন্দর ছাত্রদলের সভাপতি-সম্পাদকসহ গ্রেফতার ৩

নলছিটিতে মুরগিবাহী পিকআপ গাছে ধাক্কা, হেলপার নিহত; আহত ৩

গাজীপুরে ঝুটের গোডাউনে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট

রংপুরে শিক্ষকসহ পরিবারের ৪ জন হত্যা: থানা থেকে ডিবিতে তদন্তভার

নারায়ণগঞ্জে তৈরি বিয়ের গাউন যাচ্ছে ইউরোপ–আমেরিকায়, বছরে রপ্তানি ৫০ লাখ ডলারের বেশি

শেরপুরে নিখোঁজের ১৪ ঘণ্টা পর পুকুরে মিলল দুই শিশুর মরদেহ

কিস্তির টাকার চাপ, অন্তঃসত্ত্বা নারীর ওপর হামলার অভিযোগ কলাপাড়ায়

কিস্তির টাকার চাপ, অন্তঃসত্ত্বা নারীর ওপর হামলার অভিযোগ কলাপাড়ায়
-ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পারায় চার মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং এনজিও কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটে শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের গন্ডামারী গ্রামে। আহত নারী খাইরুন বেগম (৩৫) বর্তমানে কলাপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি হাসপাতালের শয্যা থেকে জানান, তার স্বামী নজির মোল্লা গত বছরের ডিসেম্বরে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে কুয়েতে পাড়ি জমান। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় নেওয়া এই ঋণই এখন তাদের জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

খাইরুন বেগমের দাবি, বিদেশে গিয়ে নানা সংকট, বিশেষ করে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তার স্বামী নিয়মিত টাকা পাঠাতে পারেননি। ফলে তিনি কিস্তি পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার দুপুরে স্থানীয় একটি এনজিও সংস্থা কোডেকের ধানখালী শাখার ব্যবস্থাপক মনিরসহ আরও দুই নারী কর্মী তাদের বাড়িতে যান।

তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময় ঘরে কোনো টাকা না থাকায় কিস্তি দিতে না পারলে কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা তাকে চুল ধরে টানাহেঁচড়া করেন, কিল-ঘুষি মারেন এবং তার তলপেটে লাথি দেন। খাইরুন বলেন, “আমি অনেক বলেছি যে আমার স্বামী টাকা পাঠাতে পারছে না, কিন্তু তারা কিছুই শুনেনি।”

এ ঘটনার পরপরই পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। গুরুতর অবস্থায় দ্রুত তাকে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। তবে তার গর্ভের সন্তানের বিষয়ে চিকিৎসকরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খাইরুন বেগম ইতোমধ্যে দুই কিস্তিতে দুই হাজার টাকা পরিশোধ করেছিলেন। এখনও তার কাছে ৩৮ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। তবে এই বকেয়া আদায়ের পদ্ধতি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত এনজিও সংস্থা কোডেক সম্পর্কে জানা যায়, এটি একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, যারা সাধারণত ক্ষুদ্রঋণ প্রদানসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থিক সহায়তায় তারা কাজ করে থাকে। তবে মাঝে মাঝে কিছু ক্ষেত্রে কিস্তি আদায়কে কেন্দ্র করে চাপ প্রয়োগ বা অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ উঠেছে, যা সংস্থাগুলোর ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

স্থানীয়দের দাবি, অতীতে এই এলাকায় ঋণের কিস্তি নিয়ে চাপ প্রয়োগের ঘটনা ঘটলেও এতটা সহিংসতার অভিযোগ এই প্রথম। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এনজিও কর্মকর্তাদের বক্তব্য এখনো জানা যায়নি। তবে এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ বলে মনে করছেন সচেতন মহল। বিশেষ করে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীর ওপর হামলার অভিযোগ সমাজে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সবশেষে বলা যায়, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম দরিদ্র মানুষের জন্য সহায়ক হলেও এর বাস্তব প্রয়োগে মানবিকতা ও সংবেদনশীলতা অত্যন্ত জরুরি। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয় : কিস্তির অন্তঃসত্ত্বা অভিযোগ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কিস্তির টাকার চাপ, অন্তঃসত্ত্বা নারীর ওপর হামলার অভিযোগ কলাপাড়ায়

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পারায় চার মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং এনজিও কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটে শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের গন্ডামারী গ্রামে। আহত নারী খাইরুন বেগম (৩৫) বর্তমানে কলাপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি হাসপাতালের শয্যা থেকে জানান, তার স্বামী নজির মোল্লা গত বছরের ডিসেম্বরে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে কুয়েতে পাড়ি জমান। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় নেওয়া এই ঋণই এখন তাদের জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

খাইরুন বেগমের দাবি, বিদেশে গিয়ে নানা সংকট, বিশেষ করে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তার স্বামী নিয়মিত টাকা পাঠাতে পারেননি। ফলে তিনি কিস্তি পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার দুপুরে স্থানীয় একটি এনজিও সংস্থা কোডেকের ধানখালী শাখার ব্যবস্থাপক মনিরসহ আরও দুই নারী কর্মী তাদের বাড়িতে যান।

তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময় ঘরে কোনো টাকা না থাকায় কিস্তি দিতে না পারলে কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা তাকে চুল ধরে টানাহেঁচড়া করেন, কিল-ঘুষি মারেন এবং তার তলপেটে লাথি দেন। খাইরুন বলেন, “আমি অনেক বলেছি যে আমার স্বামী টাকা পাঠাতে পারছে না, কিন্তু তারা কিছুই শুনেনি।”

এ ঘটনার পরপরই পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। গুরুতর অবস্থায় দ্রুত তাকে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। তবে তার গর্ভের সন্তানের বিষয়ে চিকিৎসকরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খাইরুন বেগম ইতোমধ্যে দুই কিস্তিতে দুই হাজার টাকা পরিশোধ করেছিলেন। এখনও তার কাছে ৩৮ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। তবে এই বকেয়া আদায়ের পদ্ধতি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত এনজিও সংস্থা কোডেক সম্পর্কে জানা যায়, এটি একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, যারা সাধারণত ক্ষুদ্রঋণ প্রদানসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থিক সহায়তায় তারা কাজ করে থাকে। তবে মাঝে মাঝে কিছু ক্ষেত্রে কিস্তি আদায়কে কেন্দ্র করে চাপ প্রয়োগ বা অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ উঠেছে, যা সংস্থাগুলোর ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

স্থানীয়দের দাবি, অতীতে এই এলাকায় ঋণের কিস্তি নিয়ে চাপ প্রয়োগের ঘটনা ঘটলেও এতটা সহিংসতার অভিযোগ এই প্রথম। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এনজিও কর্মকর্তাদের বক্তব্য এখনো জানা যায়নি। তবে এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ বলে মনে করছেন সচেতন মহল। বিশেষ করে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীর ওপর হামলার অভিযোগ সমাজে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সবশেষে বলা যায়, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম দরিদ্র মানুষের জন্য সহায়ক হলেও এর বাস্তব প্রয়োগে মানবিকতা ও সংবেদনশীলতা অত্যন্ত জরুরি। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর