দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান Dhaka Metropolitan Police-এর কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনের নাম নিশ্চিতভাবে পাওয়া না গেলেও সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে তারা সতর্ক রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি সতর্কতামূলক বার্তা পাওয়ার পর থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ওই বার্তায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়। এর পরই বিভিন্ন ইউনিটকে অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থানে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মুনশী শাহাবুদ্দীন জানান, সিটিটিসির সাইবার ইন্টেলিজেন্স টিম বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি বলেন, “আমরা প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করছি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি।”
ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের কিছু সদস্য জাতীয় সংসদ ভবনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করতে পারে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার থেকে বিভিন্ন ইউনিটে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং শুক্রবার রাতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়।
সম্প্রতি ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের তথ্য সামনে এসেছে, যিনি একটি উগ্রবাদী-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্তে তার সঙ্গে চাকরিচ্যুত দুই সেনাসদস্যের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। বিষয়টি এখন গভীরভাবে তদন্তাধীন।
বাংলাদেশে অতীতে বড় ধরনের জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ২০১৬ সালের Holey Artisan Bakery attack অন্যতম।
এরপর থেকে দেশের জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয় এবং অনেক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া হয়। বর্তমানে সাইবার পর্যবেক্ষণ ও গোয়েন্দা নজরদারিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো বড় হামলার পরিবর্তে ছোট ও গোপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।
তারা মনে করেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে আগাম গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান পরিস্থিতিতে—
এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে। কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কার্যকলাপ দেখলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে বলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, সম্ভাব্য হুমকির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট হামলার ঘটনা না ঘটলেও আগাম সতর্কতা হিসেবে নেওয়া পদক্ষেপগুলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান Dhaka Metropolitan Police-এর কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনের নাম নিশ্চিতভাবে পাওয়া না গেলেও সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে তারা সতর্ক রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি সতর্কতামূলক বার্তা পাওয়ার পর থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ওই বার্তায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়। এর পরই বিভিন্ন ইউনিটকে অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থানে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মুনশী শাহাবুদ্দীন জানান, সিটিটিসির সাইবার ইন্টেলিজেন্স টিম বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি বলেন, “আমরা প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করছি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি।”
ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের কিছু সদস্য জাতীয় সংসদ ভবনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করতে পারে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার থেকে বিভিন্ন ইউনিটে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং শুক্রবার রাতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়।
সম্প্রতি ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের তথ্য সামনে এসেছে, যিনি একটি উগ্রবাদী-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্তে তার সঙ্গে চাকরিচ্যুত দুই সেনাসদস্যের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। বিষয়টি এখন গভীরভাবে তদন্তাধীন।
বাংলাদেশে অতীতে বড় ধরনের জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ২০১৬ সালের Holey Artisan Bakery attack অন্যতম।
এরপর থেকে দেশের জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয় এবং অনেক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া হয়। বর্তমানে সাইবার পর্যবেক্ষণ ও গোয়েন্দা নজরদারিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো বড় হামলার পরিবর্তে ছোট ও গোপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।
তারা মনে করেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে আগাম গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান পরিস্থিতিতে—
এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে। কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কার্যকলাপ দেখলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে বলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, সম্ভাব্য হুমকির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট হামলার ঘটনা না ঘটলেও আগাম সতর্কতা হিসেবে নেওয়া পদক্ষেপগুলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন