ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হামিম সরদার (১৭) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যার দিকে ঢাকা–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেনে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে পরে হাসপাতালে মারা যান তিনি।
নিহত হামিম ভাঙ্গা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হাসামদিয়া গ্রামের বাসিন্দা হাসান সরদারের ছেলে। তিনি ভাঙ্গা সরকারি কে এম কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি ছাত্রদলের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবেও পরিচিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে হামিম মোটরসাইকেল চালিয়ে মালিগ্রাম এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ঢাকা–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেনের বামনকান্দা এলাকায় পৌঁছালে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষটি এতটাই জোরালো ছিল যে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হামিমের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়। তার সহপাঠী ও বন্ধুদের অনেকেই হাসপাতালে ছুটে যান। তাদের অনেকেই জানান, হামিম খুবই শান্ত স্বভাবের এবং সবার সঙ্গে মিশুক ছিলেন। তার এমন হঠাৎ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ বলেন, ঢাকা–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেনে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর আলো স্বল্পতা, দ্রুতগতির যানবাহন এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
এলাকাবাসীর মতে, সার্ভিস লেনে মোটরসাইকেল ও ধীরগতির যানবাহন একসঙ্গে চলার কারণে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তারা মনে করেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা কমাতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
উল্লেখ্য, ঢাকা–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে চালু হওয়ার পর এ পথ দিয়ে যান চলাচল অনেক বেড়েছে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলেও সার্ভিস লেনে নিরাপত্তা নিয়ে মাঝে মধ্যেই উদ্বেগ দেখা যায়। বিশেষ করে তরুণ মোটরসাইকেল চালকদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
এদিকে হামিমের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক নেমে এসেছে। তার পরিবার ও স্বজনরা এ দুর্ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এলাকাবাসী ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের আরও কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।
একটি সম্ভাবনাময় তরুণ প্রাণের এমন আকস্মিক মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার জন্যই বড় ক্ষতি। সচেতনতা ও নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে হয়তো এমন অনেক দুর্ঘটনা আগেই রোধ করা সম্ভব।
বিষয় : ফরিদপুর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হামিম সরদার (১৭) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যার দিকে ঢাকা–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেনে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে পরে হাসপাতালে মারা যান তিনি।
নিহত হামিম ভাঙ্গা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হাসামদিয়া গ্রামের বাসিন্দা হাসান সরদারের ছেলে। তিনি ভাঙ্গা সরকারি কে এম কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি ছাত্রদলের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবেও পরিচিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে হামিম মোটরসাইকেল চালিয়ে মালিগ্রাম এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ঢাকা–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেনের বামনকান্দা এলাকায় পৌঁছালে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষটি এতটাই জোরালো ছিল যে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হামিমের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়। তার সহপাঠী ও বন্ধুদের অনেকেই হাসপাতালে ছুটে যান। তাদের অনেকেই জানান, হামিম খুবই শান্ত স্বভাবের এবং সবার সঙ্গে মিশুক ছিলেন। তার এমন হঠাৎ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ বলেন, ঢাকা–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেনে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর আলো স্বল্পতা, দ্রুতগতির যানবাহন এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
এলাকাবাসীর মতে, সার্ভিস লেনে মোটরসাইকেল ও ধীরগতির যানবাহন একসঙ্গে চলার কারণে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তারা মনে করেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা কমাতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
উল্লেখ্য, ঢাকা–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে চালু হওয়ার পর এ পথ দিয়ে যান চলাচল অনেক বেড়েছে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলেও সার্ভিস লেনে নিরাপত্তা নিয়ে মাঝে মধ্যেই উদ্বেগ দেখা যায়। বিশেষ করে তরুণ মোটরসাইকেল চালকদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
এদিকে হামিমের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক নেমে এসেছে। তার পরিবার ও স্বজনরা এ দুর্ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এলাকাবাসী ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের আরও কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।
একটি সম্ভাবনাময় তরুণ প্রাণের এমন আকস্মিক মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার জন্যই বড় ক্ষতি। সচেতনতা ও নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে হয়তো এমন অনেক দুর্ঘটনা আগেই রোধ করা সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন