যশোরের বেনাপোলের বড় আঁচড়া গ্রামের একটি ধান ক্ষেত থেকে ইউনুছ হোসেন (৪৮) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে স্থানীয়রা মাঠে কাজ করতে গিয়ে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। নিহত ইউনুছ স্থানীয় ছোট আঁচড়া গ্রামের মোস্তাব আলীর ছেলে এবং পেশায় তিনি আমদানিকৃত পণ্যবাহী গাড়িতে স্কট হিসেবে কাজ করতেন। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং মানুষের মনে দানা বাঁধছে নানা রহস্য।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর আগের দিন বুধবার দুপুরের দিকে দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে ইউনুছকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরদিন সকালে যখন তার মরদেহ ধান ক্ষেতে পাওয়া যায়, ততক্ষণে খবরটি পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা ভিড় জমায় ঘটনাস্থলে এবং বিষয়টি নিয়ে এলাকায় শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন।
নিহতের ভাই ইউসুফ জানান, তার ভাই ইউনুছ একজন সহজ-সরল মানুষ ছিলেন। কারো সঙ্গে তার কোনো বিরোধ ছিল না। তবে ইউসুফের প্রাক্তন স্ত্রী তাসলিমার সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল অনেক দিনের। ইউসুফ অভিযোগ করেন, তাসলিমার সাথে ইউনুছের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছিল। এরপর তাসলিমা অন্যত্র বিয়ে করে পাঁচ বছর সংসারও করেছে। কিন্তু সম্প্রতি সে আবার ফিরে এসে ইউনুছের সাথেই থাকছিল। এই পুনরায় সংসার শুরুর পর থেকেই তাদের মধ্যে অস্বস্তি ছিল। নিহতের পরিবারের দাবি, তাসলিমা এই হত্যার পেছনে জড়িত থাকতে পারে। তারা এই ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করেছেন।
বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি আশরাফ হোসেন বলেন, “আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছি। তবে এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় এটি কারা করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি এবং অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
বেনাপোল সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ার কারণে এখানে চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রবণতা দীর্ঘদিনের। সীমান্ত কেন্দ্রিক বিভিন্ন সিন্ডিকেট ও ব্যক্তিগত শত্রুতার জের ধরে প্রায়ই এমন বিচ্ছিন্ন মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকে। অতীতেও এই এলাকায় মাদক ও চোরাচালানকে কেন্দ্র করে বহুবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর থাকলেও গভীর রাত বা জনশূন্য মাঠকে ব্যবহার করে অপরাধীরা তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য একটি বড় দুশ্চিন্তার বিষয়।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ এবং যে পদ্ধতিতে ইউনুছকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা থেকেই বোঝা যায় এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা হতে পারে। স্কট হিসেবে কাজ করার সুবাদে হয়তো অন্য কোনো ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত শত্রুতাও এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। তবে সব কিছু নির্ভর করছে পুলিশের তদন্তের ওপর। স্থানীয়রা মনে করছেন, যেহেতু পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে, তাই প্রকৃত খুনিরা অচিরেই আইনের আওতায় আসবে।
একজন মানুষের এভাবে ধান ক্ষেতে লাশ হওয়াটা পুরো এলাকার মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। বিশেষ করে পরিবারের দাবিগুলো যদি সত্যি হয়, তবে এটি আরও একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডির উদাহরণ হয়ে থাকবে। সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে যেমন তৎপর হতে হবে, তেমনি অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। আমরা আশা করি, তদন্ত শেষে ইউনুছ হত্যার রহস্য দ্রুত উন্মোচিত হবে এবং দোষীরা উপযুক্ত শাস্তি পাবে।

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬
যশোরের বেনাপোলের বড় আঁচড়া গ্রামের একটি ধান ক্ষেত থেকে ইউনুছ হোসেন (৪৮) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে স্থানীয়রা মাঠে কাজ করতে গিয়ে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। নিহত ইউনুছ স্থানীয় ছোট আঁচড়া গ্রামের মোস্তাব আলীর ছেলে এবং পেশায় তিনি আমদানিকৃত পণ্যবাহী গাড়িতে স্কট হিসেবে কাজ করতেন। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং মানুষের মনে দানা বাঁধছে নানা রহস্য।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর আগের দিন বুধবার দুপুরের দিকে দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে ইউনুছকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরদিন সকালে যখন তার মরদেহ ধান ক্ষেতে পাওয়া যায়, ততক্ষণে খবরটি পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা ভিড় জমায় ঘটনাস্থলে এবং বিষয়টি নিয়ে এলাকায় শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন।
নিহতের ভাই ইউসুফ জানান, তার ভাই ইউনুছ একজন সহজ-সরল মানুষ ছিলেন। কারো সঙ্গে তার কোনো বিরোধ ছিল না। তবে ইউসুফের প্রাক্তন স্ত্রী তাসলিমার সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল অনেক দিনের। ইউসুফ অভিযোগ করেন, তাসলিমার সাথে ইউনুছের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছিল। এরপর তাসলিমা অন্যত্র বিয়ে করে পাঁচ বছর সংসারও করেছে। কিন্তু সম্প্রতি সে আবার ফিরে এসে ইউনুছের সাথেই থাকছিল। এই পুনরায় সংসার শুরুর পর থেকেই তাদের মধ্যে অস্বস্তি ছিল। নিহতের পরিবারের দাবি, তাসলিমা এই হত্যার পেছনে জড়িত থাকতে পারে। তারা এই ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করেছেন।
বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি আশরাফ হোসেন বলেন, “আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছি। তবে এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় এটি কারা করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি এবং অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
বেনাপোল সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ার কারণে এখানে চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রবণতা দীর্ঘদিনের। সীমান্ত কেন্দ্রিক বিভিন্ন সিন্ডিকেট ও ব্যক্তিগত শত্রুতার জের ধরে প্রায়ই এমন বিচ্ছিন্ন মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকে। অতীতেও এই এলাকায় মাদক ও চোরাচালানকে কেন্দ্র করে বহুবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর থাকলেও গভীর রাত বা জনশূন্য মাঠকে ব্যবহার করে অপরাধীরা তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য একটি বড় দুশ্চিন্তার বিষয়।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ এবং যে পদ্ধতিতে ইউনুছকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা থেকেই বোঝা যায় এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা হতে পারে। স্কট হিসেবে কাজ করার সুবাদে হয়তো অন্য কোনো ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত শত্রুতাও এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। তবে সব কিছু নির্ভর করছে পুলিশের তদন্তের ওপর। স্থানীয়রা মনে করছেন, যেহেতু পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে, তাই প্রকৃত খুনিরা অচিরেই আইনের আওতায় আসবে।
একজন মানুষের এভাবে ধান ক্ষেতে লাশ হওয়াটা পুরো এলাকার মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। বিশেষ করে পরিবারের দাবিগুলো যদি সত্যি হয়, তবে এটি আরও একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডির উদাহরণ হয়ে থাকবে। সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে যেমন তৎপর হতে হবে, তেমনি অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। আমরা আশা করি, তদন্ত শেষে ইউনুছ হত্যার রহস্য দ্রুত উন্মোচিত হবে এবং দোষীরা উপযুক্ত শাস্তি পাবে।

আপনার মতামত লিখুন