দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

জমি নিয়ে বিরোধ: নওগাঁয় একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা, উঠানেই পাশাপাশি কবর

জমি নিয়ে বিরোধ: নওগাঁয় একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা, উঠানেই পাশাপাশি কবর

সম্পত্তি বিরোধে মামা-মামি ও দুই শিশুকে হত্যা, আদালতে ভাগনের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি

৩০ লাখ দাবি থেকে ৮ লাখে সমঝোতা, অপহরণের ১০ ঘণ্টা পর ফিরলেন ইউপি সদস্য রুস্তম আলী

যশোরে প্রায় ২ কোটি টাকার স্বর্ণসহ ভারতীয় নাগরিক আটক

প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়ে নরসিংদীতে চক্রের চার সদস্য আটক

টাকার চেয়ে জ্ঞান বড়—দেশবন্ধু রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের বার্তা

ধামইরহাটে সাংবাদিকের ওপর হামলা, থানায় মামলা দায়ের

১–৭ মে জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ: সাংবাদিকদের ১৪ দফা দাবিতে দেশজুড়ে কর্মসূচি

প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়ে নরসিংদীতে চক্রের চার সদস্য আটক

প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়ে নরসিংদীতে চক্রের চার সদস্য আটক
-ছবি: সংগৃহীত

নরসিংদীতে হানিট্র্যাপের মাধ্যমে এক সিঙ্গাপুর প্রবাসীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ তদন্তের পর নরসিংদী মডেল থানা পুলিশ এই চক্রের সদস্যদের আটক করতে সক্ষম হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জানুয়ারি বিকেলে নরসিংদীর ভেলানগর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে সিঙ্গাপুর প্রবাসী রঞ্জিত দত্তকে অপহরণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরিকল্পিতভাবে একটি নারীকে ব্যবহার করে তাকে ফাঁদে ফেলা হয়। পরে ৫ থেকে ৬ জনের একটি দল তাকে জোর করে একটি অটোরিকশায় তুলে পূর্ব ভেলানগরের একটি নির্জন ভবনে নিয়ে যায়।

সম্পূর্ণ  নিউজটি না পড়ে শুনুনঃ 

Md Saddam Hosain · নরসিংদীতে হানিট্র্যাপে প্রবাসী অপহরণ, নারীসহ চারজন গ্রেপ্তার

সেখানে কয়েক ঘণ্টা ধরে তাকে আটকে রাখা হয়। অপহরণকারীরা তাকে মারধর করে এবং প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা আদায় করে। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাড়িতে ফিরে পুরো ঘটনা পরিবারের সদস্যদের জানালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীর স্ত্রী সুস্মিতা রায় নরসিংদী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং একটি বিশেষ দল তদন্তে নামে।

তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন নাজমা ওরফে ইয়াসমিন (২৬), মো. সালাউদ্দিন (৩৫), মো. নুরুজ্জামান সবুজ (৩৮) এবং সোহেল বাবু (২৮)। পুলিশ বলছে, এদের মধ্যে নারী সদস্য নাজমা মূলত প্রবাসীকে টার্গেট করে যোগাযোগ তৈরি করেন এবং পরে তাকে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়ার ভূমিকা পালন করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, হানিট্র্যাপ বা প্রলোভনের ফাঁদ ব্যবহার করে অপরাধ করার প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে কিছু এলাকায় বেড়েছে। বিশেষ করে বিদেশফেরত বা প্রবাসীদের টার্গেট করে এই ধরনের চক্র সক্রিয় হয়ে উঠছে। কারণ, তারা মনে করে প্রবাসীদের কাছে টাকা থাকে এবং পরিবারের লোকজন দ্রুত অর্থ জোগাড় করতে পারে।


বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় গত কয়েক বছরে হানিট্র্যাপের মাধ্যমে চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইল এবং অপহরণের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পরিচয় গড়ে তুলে পরে ফাঁদে ফেলা হয়। তবে এবার সরাসরি মাঠপর্যায়ে এমন একটি অপহরণের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অপরাধে সাধারণত একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করে। একজন পরিচয় তৈরি করে, অন্যরা অপহরণে অংশ নেয় এবং পরে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে। অনেক ভুক্তভোগী সামাজিক মান-সম্মানের ভয়ে অভিযোগও করেন না, যার কারণে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

নরসিংদী জেলা পুলিশ বলছে, এই ধরনের অপরাধ দমনে তারা আরও কঠোর নজরদারি চালাবে। বিশেষ করে শহরের নির্জন ভবন, ভাড়া বাসা ও সন্দেহভাজন স্থানগুলোতে নজর বাড়ানো হবে। পাশাপাশি প্রবাসী ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এ ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় পুলিশের প্রতি তাদের আস্থা বেড়েছে। তারা মনে করছেন, এমন অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও মানুষ একই ফাঁদে পড়তে পারতেন।


পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের বাইরে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে এই চক্রের অন্য সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

নরসিংদীর এই ঘটনা শুধু একটি অপহরণের মামলা নয়, বরং নতুন ধরনের অপরাধচক্রের একটি সতর্ক সংকেত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে এমন অপরাধ অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬


প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়ে নরসিংদীতে চক্রের চার সদস্য আটক

প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

নরসিংদীতে হানিট্র্যাপের মাধ্যমে এক সিঙ্গাপুর প্রবাসীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ তদন্তের পর নরসিংদী মডেল থানা পুলিশ এই চক্রের সদস্যদের আটক করতে সক্ষম হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জানুয়ারি বিকেলে নরসিংদীর ভেলানগর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে সিঙ্গাপুর প্রবাসী রঞ্জিত দত্তকে অপহরণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরিকল্পিতভাবে একটি নারীকে ব্যবহার করে তাকে ফাঁদে ফেলা হয়। পরে ৫ থেকে ৬ জনের একটি দল তাকে জোর করে একটি অটোরিকশায় তুলে পূর্ব ভেলানগরের একটি নির্জন ভবনে নিয়ে যায়।

সম্পূর্ণ  নিউজটি না পড়ে শুনুনঃ 

Md Saddam Hosain · নরসিংদীতে হানিট্র্যাপে প্রবাসী অপহরণ, নারীসহ চারজন গ্রেপ্তার

সেখানে কয়েক ঘণ্টা ধরে তাকে আটকে রাখা হয়। অপহরণকারীরা তাকে মারধর করে এবং প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা আদায় করে। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাড়িতে ফিরে পুরো ঘটনা পরিবারের সদস্যদের জানালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীর স্ত্রী সুস্মিতা রায় নরসিংদী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং একটি বিশেষ দল তদন্তে নামে।

তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন নাজমা ওরফে ইয়াসমিন (২৬), মো. সালাউদ্দিন (৩৫), মো. নুরুজ্জামান সবুজ (৩৮) এবং সোহেল বাবু (২৮)। পুলিশ বলছে, এদের মধ্যে নারী সদস্য নাজমা মূলত প্রবাসীকে টার্গেট করে যোগাযোগ তৈরি করেন এবং পরে তাকে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়ার ভূমিকা পালন করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, হানিট্র্যাপ বা প্রলোভনের ফাঁদ ব্যবহার করে অপরাধ করার প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে কিছু এলাকায় বেড়েছে। বিশেষ করে বিদেশফেরত বা প্রবাসীদের টার্গেট করে এই ধরনের চক্র সক্রিয় হয়ে উঠছে। কারণ, তারা মনে করে প্রবাসীদের কাছে টাকা থাকে এবং পরিবারের লোকজন দ্রুত অর্থ জোগাড় করতে পারে।


বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় গত কয়েক বছরে হানিট্র্যাপের মাধ্যমে চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইল এবং অপহরণের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পরিচয় গড়ে তুলে পরে ফাঁদে ফেলা হয়। তবে এবার সরাসরি মাঠপর্যায়ে এমন একটি অপহরণের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অপরাধে সাধারণত একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করে। একজন পরিচয় তৈরি করে, অন্যরা অপহরণে অংশ নেয় এবং পরে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে। অনেক ভুক্তভোগী সামাজিক মান-সম্মানের ভয়ে অভিযোগও করেন না, যার কারণে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

নরসিংদী জেলা পুলিশ বলছে, এই ধরনের অপরাধ দমনে তারা আরও কঠোর নজরদারি চালাবে। বিশেষ করে শহরের নির্জন ভবন, ভাড়া বাসা ও সন্দেহভাজন স্থানগুলোতে নজর বাড়ানো হবে। পাশাপাশি প্রবাসী ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এ ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় পুলিশের প্রতি তাদের আস্থা বেড়েছে। তারা মনে করছেন, এমন অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও মানুষ একই ফাঁদে পড়তে পারতেন।


পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের বাইরে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে এই চক্রের অন্য সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

নরসিংদীর এই ঘটনা শুধু একটি অপহরণের মামলা নয়, বরং নতুন ধরনের অপরাধচক্রের একটি সতর্ক সংকেত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে এমন অপরাধ অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর