পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে চলতি বছরের যাত্রা শুরু হতেই বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। মাত্র প্রথম চার দিনের মধ্যেই ২৩ হাজার ৩৭২ জন বাংলাদেশি হাজি পবিত্র মক্কা-মদিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা সম্পন্ন করেছেন। একই সঙ্গে হজযাত্রার সময় এখন পর্যন্ত একজন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
হজ বুলেটিন অনুযায়ী, ধাপে ধাপে ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়সূচি মেনে কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
বাংলাদেশ হজ অফিসের পরিচালক লোকমান হোসেন জানান, বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত মোট ৫৮টি ফ্লাইটে হজযাত্রীরা সৌদি আরবের জেদ্দায় পৌঁছেছেন।
প্রথম ফ্লাইটটি যাত্রা শুরু করে গত ১৮ এপ্রিল, যখন ৪১৮ জন হজযাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সৌদি আরবের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। সেই থেকেই ধারাবাহিকভাবে চলছে হজ ফ্লাইট।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এবারের হজ ব্যবস্থাপনায় তিনটি এয়ারলাইনস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে—
এখন পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৮ হাজারের বেশি, সৌদি এয়ারলাইনস প্রায় একই সংখ্যক এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ৬ হাজারের বেশি হজযাত্রী পরিবহন করেছে।
চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০ থেকে ৭৯ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের অনুমতি পেয়েছেন।
এর মধ্যে—
এছাড়া এখনো ৫৪ হাজারের বেশি হজযাত্রী পর্যায়ক্রমে সৌদি আরবে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
এবারের হজ মৌসুমে এখন পর্যন্ত একজন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
মৃত ব্যক্তির নাম নইম উদ্দীন মন্ডল (৭৫), তিনি জয়পুরহাট সদর উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। সৌদি আরবে অবস্থানকালেই তিনি ইন্তেকাল করেন বলে হজ বুলেটিনে জানানো হয়েছে।
প্রতি বছরই হজ মৌসুমে বয়স ও শারীরিক জটিলতার কারণে কিছু হাজির অসুস্থতা বা মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, তাই স্বাস্থ্য সচেতনতা ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এবার হজ কার্যক্রমে মোট ৬৬০টি বেসরকারি এজেন্সি কাজ করছে। এর মধ্যে ৩০টি প্রধান ও ৬৩০টি সমন্বয়কারী এজেন্সি হজযাত্রীদের ভিসা, আবাসন ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করছে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও হজ অফিস পুরো কার্যক্রম তদারকি করছে যাতে কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই হাজিরা ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
হজ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, হজযাত্রী পরিবহন চলবে আগামী ২১ মে পর্যন্ত। এরপর ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো মুসল্লি সৌদি আরবে সমবেত হন। এই সমাবেশ ইসলামের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় আয়োজন হিসেবে পরিচিত, যেখানে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
হজযাত্রার প্রথম কয়েকদিনেই বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশির সৌদি আরবে পৌঁছানো যেমন আশার খবর, তেমনি একজন হাজির মৃত্যু শোকের বার্তা নিয়ে এসেছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত থাকলে বাকী হজযাত্রীরাও ধাপে ধাপে নিরাপদে সৌদি আরবে পৌঁছাতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

রোববার, ০৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬
পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে চলতি বছরের যাত্রা শুরু হতেই বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। মাত্র প্রথম চার দিনের মধ্যেই ২৩ হাজার ৩৭২ জন বাংলাদেশি হাজি পবিত্র মক্কা-মদিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা সম্পন্ন করেছেন। একই সঙ্গে হজযাত্রার সময় এখন পর্যন্ত একজন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
হজ বুলেটিন অনুযায়ী, ধাপে ধাপে ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়সূচি মেনে কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
বাংলাদেশ হজ অফিসের পরিচালক লোকমান হোসেন জানান, বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত মোট ৫৮টি ফ্লাইটে হজযাত্রীরা সৌদি আরবের জেদ্দায় পৌঁছেছেন।
প্রথম ফ্লাইটটি যাত্রা শুরু করে গত ১৮ এপ্রিল, যখন ৪১৮ জন হজযাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সৌদি আরবের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। সেই থেকেই ধারাবাহিকভাবে চলছে হজ ফ্লাইট।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এবারের হজ ব্যবস্থাপনায় তিনটি এয়ারলাইনস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে—
এখন পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৮ হাজারের বেশি, সৌদি এয়ারলাইনস প্রায় একই সংখ্যক এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ৬ হাজারের বেশি হজযাত্রী পরিবহন করেছে।
চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০ থেকে ৭৯ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের অনুমতি পেয়েছেন।
এর মধ্যে—
এছাড়া এখনো ৫৪ হাজারের বেশি হজযাত্রী পর্যায়ক্রমে সৌদি আরবে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
এবারের হজ মৌসুমে এখন পর্যন্ত একজন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
মৃত ব্যক্তির নাম নইম উদ্দীন মন্ডল (৭৫), তিনি জয়পুরহাট সদর উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। সৌদি আরবে অবস্থানকালেই তিনি ইন্তেকাল করেন বলে হজ বুলেটিনে জানানো হয়েছে।
প্রতি বছরই হজ মৌসুমে বয়স ও শারীরিক জটিলতার কারণে কিছু হাজির অসুস্থতা বা মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, তাই স্বাস্থ্য সচেতনতা ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এবার হজ কার্যক্রমে মোট ৬৬০টি বেসরকারি এজেন্সি কাজ করছে। এর মধ্যে ৩০টি প্রধান ও ৬৩০টি সমন্বয়কারী এজেন্সি হজযাত্রীদের ভিসা, আবাসন ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করছে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও হজ অফিস পুরো কার্যক্রম তদারকি করছে যাতে কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই হাজিরা ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
হজ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, হজযাত্রী পরিবহন চলবে আগামী ২১ মে পর্যন্ত। এরপর ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো মুসল্লি সৌদি আরবে সমবেত হন। এই সমাবেশ ইসলামের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় আয়োজন হিসেবে পরিচিত, যেখানে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
হজযাত্রার প্রথম কয়েকদিনেই বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশির সৌদি আরবে পৌঁছানো যেমন আশার খবর, তেমনি একজন হাজির মৃত্যু শোকের বার্তা নিয়ে এসেছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত থাকলে বাকী হজযাত্রীরাও ধাপে ধাপে নিরাপদে সৌদি আরবে পৌঁছাতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন