দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বে বছরে জনপ্রতি ১৩২ কেজি খাবার নষ্ট, শীর্ষে মালদ্বীপ

বিশ্বে বছরে জনপ্রতি ১৩২ কেজি খাবার নষ্ট, শীর্ষে মালদ্বীপ

ব্ল্যাক আইভরি ও কোপি লুওয়াক: মল থেকে তৈরি বিশ্বের দামি কফির রহস্য

রাতে ফল খেলে কি শরীরের ক্ষতি হয়? কোন ফল এড়িয়ে চলবেন, জানুন সঠিক সময়

রাতে ফল খেলে কি শরীরের ক্ষতি হয়? কোন ফল এড়িয়ে চলবেন, জানুন সঠিক সময়

মুরগির পেটে পাওয়া ডিম খাওয়া যাবে? রান্নার আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি

অবহেলার প্রতিশোধে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড: চোখ বেঁধে চেয়ারে বেঁধে প্রেমিককে পুড়িয়ে মারলেন তরুণী

আশুলিয়ায় বাস–মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ১৭ বছরের কিশোর নিহত, আহত ১—ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে শোক

পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপে বাড়ছে আত্মহত্যা: এক বছরে ১৩ হাজারের বেশি মৃত্যু, উদ্বেগে দেশ

অবহেলার প্রতিশোধে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড: চোখ বেঁধে চেয়ারে বেঁধে প্রেমিককে পুড়িয়ে মারলেন তরুণী

অবহেলার প্রতিশোধে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড: চোখ বেঁধে চেয়ারে বেঁধে প্রেমিককে পুড়িয়ে মারলেন তরুণী
-ছবি: সংগৃহীত

ভারতের বেঙ্গালুরুতে প্রেম নিবেদনের কথা বলে বাড়িতে ডেকে এনে প্রেমিককে চেয়ারে বেঁধে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক তরুণীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঘটে যাওয়া এই নির্মম ঘটনায় অভিযুক্ত তরুণী প্রেরণাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত যুবকের নাম কিরণ। তিনি এবং অভিযুক্ত প্রেরণা একই এলাকার একটি টেলিকম দোকানে কাজ করতেন। প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে কিছুদিন ধরে তাদের সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। প্রেরণার অভিযোগ ছিল, কিরণ তাকে অবহেলা করছেন এবং বিয়ের বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না। এই ক্ষোভ থেকেই তিনি ভয়াবহ প্রতিশোধের পরিকল্পনা করেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।

ঘটনার দিন প্রেরণা বাড়িতে একা ছিলেন। তিনি কিরণকে ফোন করে জানান, তিনি একটি বিশেষ ও ভিন্নধর্মী উপায়ে প্রেম নিবেদন করতে চান। প্রেরণার কথায় বিশ্বাস করে কিরণ তার বাড়িতে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর প্রেরণা প্রথমে তার চোখে কাপড় বেঁধে দেন। এরপর একটি চেয়ারের সঙ্গে তার হাত-পা শক্ত করে বেঁধে ফেলেন।

কিরণ শুরুতে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালেও প্রেরণা তাকে আশ্বস্ত করেন যে এটি একটি “সারপ্রাইজ” এবং বিদেশে এমনভাবে প্রেম নিবেদন করা হয়। এতে সন্দেহ না করে কিরণ অপেক্ষা করতে থাকেন।

পুলিশ জানায়, এরপরই ঘটে ভয়াবহ ঘটনা। হাত-পা বাঁধা অবস্থায় থাকা কিরণের শরীরে প্রেরণা দাহ্য তরল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। আগুনে পুড়ে ছটফট করার সময়ও তিনি কোনো সাহায্য করেননি। বরং পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ভিডিও করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে প্রতিবেশীরা ধোঁয়া দেখতে পেয়ে বিষয়টি টের পান।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত অবস্থায় কিরণকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে তদন্তকারী দল।

বেঙ্গালুরুর ডেপুটি পুলিশ কমিশনার ডি. এল. নাগেশ সংবাদমাধ্যমকে জানান, অভিযুক্ত প্রেরণাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন যে প্রেমিকের অবহেলার প্রতিশোধ নিতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। বর্তমানে ঘটনার আরও বিস্তারিত তদন্ত চলছে 

পুলিশ বলছে, মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ এই মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, বেঙ্গালুরু ভারতের একটি বড় প্রযুক্তিনির্ভর শহর হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যক্তিগত সম্পর্কের দ্বন্দ্ব থেকে সহিংসতার ঘটনা সেখানে কয়েকবার আলোচনায় এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পর্কের টানাপোড়েন বা মানসিক চাপ অনেক সময় ভয়াবহ অপরাধে রূপ নিতে পারে, যা সময়মতো কাউন্সেলিং বা পারিবারিক সহায়তা পেলে এড়ানো সম্ভব।

এই ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের সমস্যা কখনোই এমন ভয়াবহ পরিণতির দিকে যেতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

সম্পর্কের ভাঙন বা মানসিক কষ্ট থেকে জন্ম নেওয়া এই নির্মম হত্যাকাণ্ড আবারও মনে করিয়ে দিল—রাগ বা প্রতিশোধের সিদ্ধান্ত মুহূর্তেই একটি জীবন কেড়ে নিতে পারে, আর তার প্রভাব পড়ে বহু মানুষের জীবনে দীর্ঘদিন ধরে।

বিষয় : প্রতিশোধে প্রেমিককে পুড়িয়ে মারলেন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬


অবহেলার প্রতিশোধে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড: চোখ বেঁধে চেয়ারে বেঁধে প্রেমিককে পুড়িয়ে মারলেন তরুণী

প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ভারতের বেঙ্গালুরুতে প্রেম নিবেদনের কথা বলে বাড়িতে ডেকে এনে প্রেমিককে চেয়ারে বেঁধে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক তরুণীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঘটে যাওয়া এই নির্মম ঘটনায় অভিযুক্ত তরুণী প্রেরণাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত যুবকের নাম কিরণ। তিনি এবং অভিযুক্ত প্রেরণা একই এলাকার একটি টেলিকম দোকানে কাজ করতেন। প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে কিছুদিন ধরে তাদের সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। প্রেরণার অভিযোগ ছিল, কিরণ তাকে অবহেলা করছেন এবং বিয়ের বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না। এই ক্ষোভ থেকেই তিনি ভয়াবহ প্রতিশোধের পরিকল্পনা করেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।

ঘটনার দিন প্রেরণা বাড়িতে একা ছিলেন। তিনি কিরণকে ফোন করে জানান, তিনি একটি বিশেষ ও ভিন্নধর্মী উপায়ে প্রেম নিবেদন করতে চান। প্রেরণার কথায় বিশ্বাস করে কিরণ তার বাড়িতে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর প্রেরণা প্রথমে তার চোখে কাপড় বেঁধে দেন। এরপর একটি চেয়ারের সঙ্গে তার হাত-পা শক্ত করে বেঁধে ফেলেন।

কিরণ শুরুতে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালেও প্রেরণা তাকে আশ্বস্ত করেন যে এটি একটি “সারপ্রাইজ” এবং বিদেশে এমনভাবে প্রেম নিবেদন করা হয়। এতে সন্দেহ না করে কিরণ অপেক্ষা করতে থাকেন।

পুলিশ জানায়, এরপরই ঘটে ভয়াবহ ঘটনা। হাত-পা বাঁধা অবস্থায় থাকা কিরণের শরীরে প্রেরণা দাহ্য তরল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। আগুনে পুড়ে ছটফট করার সময়ও তিনি কোনো সাহায্য করেননি। বরং পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ভিডিও করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে প্রতিবেশীরা ধোঁয়া দেখতে পেয়ে বিষয়টি টের পান।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত অবস্থায় কিরণকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে তদন্তকারী দল।

বেঙ্গালুরুর ডেপুটি পুলিশ কমিশনার ডি. এল. নাগেশ সংবাদমাধ্যমকে জানান, অভিযুক্ত প্রেরণাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন যে প্রেমিকের অবহেলার প্রতিশোধ নিতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। বর্তমানে ঘটনার আরও বিস্তারিত তদন্ত চলছে 

পুলিশ বলছে, মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ এই মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, বেঙ্গালুরু ভারতের একটি বড় প্রযুক্তিনির্ভর শহর হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যক্তিগত সম্পর্কের দ্বন্দ্ব থেকে সহিংসতার ঘটনা সেখানে কয়েকবার আলোচনায় এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পর্কের টানাপোড়েন বা মানসিক চাপ অনেক সময় ভয়াবহ অপরাধে রূপ নিতে পারে, যা সময়মতো কাউন্সেলিং বা পারিবারিক সহায়তা পেলে এড়ানো সম্ভব।

এই ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের সমস্যা কখনোই এমন ভয়াবহ পরিণতির দিকে যেতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

সম্পর্কের ভাঙন বা মানসিক কষ্ট থেকে জন্ম নেওয়া এই নির্মম হত্যাকাণ্ড আবারও মনে করিয়ে দিল—রাগ বা প্রতিশোধের সিদ্ধান্ত মুহূর্তেই একটি জীবন কেড়ে নিতে পারে, আর তার প্রভাব পড়ে বহু মানুষের জীবনে দীর্ঘদিন ধরে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর