দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

এলডিসি উত্তরণ পেছানোর সিদ্ধান্ত এ মাসেই, ২০২৭ সালের মধ্যে ১০ দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির লক্ষ্য

এলডিসি উত্তরণ পেছানোর সিদ্ধান্ত এ মাসেই, ২০২৭ সালের মধ্যে ১০ দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির লক্ষ্য

ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ৫ কোটি টাকার স্বর্ণ জব্দ

স্থাপনা নির্মাণে প্রকৃতি সংরক্ষণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জাপানে কাজের নতুন সুযোগ বাংলাদেশিদের, নিয়োগ শুরু ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল

এআই ক্যামেরায় শনাক্তে মোটরসাইকেলের সামনেও নম্বর প্লেট বাধ্যতামূলক, সময়সীমা ১৫ নভেম্বর

ডব্লিউএইচওর পদে নিয়োগে সিভিতে মিথ্যা তথ্যের অভিযোগ, পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতি, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বে জোর সরকারের

সেনাবাহিনীর ৭ ইউনিটকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সরকারি সিদ্ধান্ত ছাড়া বাসভাড়া বাড়ানো যাবে না: কঠোর অবস্থানে পরিবহন মালিক সমিতি

সরকারি সিদ্ধান্ত ছাড়া বাসভাড়া বাড়ানো যাবে না: কঠোর অবস্থানে পরিবহন মালিক সমিতি
-ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পরও আপাতত দেশের কোনো রুটে বাসভাড়া বাড়ানো যাবে না বলে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। সরকারি সিদ্ধান্ত ছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কে নিয়ম ভঙ্গ হিসেবে গণ্য করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এই ঘোষণার পর যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও পরিবহন খাতের ব্যয় চাপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


মালিক সমিতির আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা

বুধবার (২২ এপ্রিল) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে দেশের সব পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের এই নির্দেশনা কঠোরভাবে মানার আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভাড়া সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত বর্তমান নির্ধারিত ভাড়াই কার্যকর থাকবে। কোনো পরিবহন প্রতিষ্ঠান বা শ্রমিক অতিরিক্ত ভাড়া নিতে পারবে না।

যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি

মালিক সমিতির এই অবস্থানের কারণে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। কারণ জ্বালানির দাম বাড়ার পর অনেক সময় বিভিন্ন রুটে হঠাৎ করে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ ওঠে।

এবার আগেভাগেই স্পষ্ট নির্দেশনা আসায় অনিয়ম ঠেকানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন যাত্রীরা।

জ্বালানি ও ডলার সংকটে বাড়ছে খরচ

তবে একই সঙ্গে পরিবহন খাতের বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টিও উঠে এসেছে মালিক সমিতির বিবৃতিতে।

সেখানে বলা হয়, লিটারপ্রতি ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাস পরিচালনার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। পাশাপাশি ডলারের দাম বাড়ায় যন্ত্রাংশ আমদানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত খরচও বেড়েছে।

পরিবহন মালিকদের মতে, টায়ার, ব্যাটারি, ইঞ্জিন তেল, ব্রেক সিস্টেমসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

ভাড়া সমন্বয়ের দাবি

এই পরিস্থিতিতে মালিক সমিতি সরকারের কাছে দ্রুত বাস্তবসম্মত ভাড়া সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে ভাড়া অপরিবর্তিত থাকলে পরিবহন খাতে আর্থিক চাপ বাড়বে এবং সেবার মানেও প্রভাব পড়তে পারে।

তারা মনে করেন, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত না নিলে অনেক পরিবহন প্রতিষ্ঠান ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

ভাড়া নির্ধারণে সরকারের ভূমিকা

বাংলাদেশে বাসভাড়া নির্ধারণ করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সাধারণত জ্বালানির দাম পরিবর্তনের ভিত্তিতে সরকার ভাড়া সমন্বয় করে থাকে।

এর আগেও একাধিকবার জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পর বাসভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার, যাতে পরিবহন খাতের পরিচালন ব্যয় কিছুটা ভারসাম্যে থাকে।


অতীত অভিজ্ঞতা ও অনিয়ম

অতীতে দেখা গেছে, ভাড়া সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই কিছু এলাকায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এবার সেই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতেই আগাম সতর্ক অবস্থান নিয়েছে মালিক সমিতি।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন খাতে স্বাভাবিকভাবেই চাপ তৈরি হয়। তবে হঠাৎ করে ভাড়া বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ পড়ে।

তাদের মতে, ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার, মালিক ও যাত্রী—সব পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

উপসংহার

সব মিলিয়ে মালিক সমিতির নির্দেশনার ফলে আপাতত বাসভাড়া অপরিবর্তিত থাকছে, যা সাধারণ যাত্রীদের জন্য স্বস্তির খবর।

তবে জ্বালানি ও পরিচালন ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে সরকার শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এখন পরিবহন খাত ও সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।


বিষয় : বাসভাড়া বাংলাদেশ ২০২৬ ডিজেল দাম বাড়লে ভাড়া সিদ্ধান্ত বিআরটিএ বাসভাড়া নীতি পরিবহন মালিক সমিতি নির্দেশনা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


সরকারি সিদ্ধান্ত ছাড়া বাসভাড়া বাড়ানো যাবে না: কঠোর অবস্থানে পরিবহন মালিক সমিতি

প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পরও আপাতত দেশের কোনো রুটে বাসভাড়া বাড়ানো যাবে না বলে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। সরকারি সিদ্ধান্ত ছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কে নিয়ম ভঙ্গ হিসেবে গণ্য করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এই ঘোষণার পর যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও পরিবহন খাতের ব্যয় চাপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


মালিক সমিতির আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা

বুধবার (২২ এপ্রিল) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে দেশের সব পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের এই নির্দেশনা কঠোরভাবে মানার আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভাড়া সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত বর্তমান নির্ধারিত ভাড়াই কার্যকর থাকবে। কোনো পরিবহন প্রতিষ্ঠান বা শ্রমিক অতিরিক্ত ভাড়া নিতে পারবে না।

যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি

মালিক সমিতির এই অবস্থানের কারণে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। কারণ জ্বালানির দাম বাড়ার পর অনেক সময় বিভিন্ন রুটে হঠাৎ করে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ ওঠে।

এবার আগেভাগেই স্পষ্ট নির্দেশনা আসায় অনিয়ম ঠেকানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন যাত্রীরা।

জ্বালানি ও ডলার সংকটে বাড়ছে খরচ

তবে একই সঙ্গে পরিবহন খাতের বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টিও উঠে এসেছে মালিক সমিতির বিবৃতিতে।

সেখানে বলা হয়, লিটারপ্রতি ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাস পরিচালনার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। পাশাপাশি ডলারের দাম বাড়ায় যন্ত্রাংশ আমদানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত খরচও বেড়েছে।

পরিবহন মালিকদের মতে, টায়ার, ব্যাটারি, ইঞ্জিন তেল, ব্রেক সিস্টেমসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

ভাড়া সমন্বয়ের দাবি

এই পরিস্থিতিতে মালিক সমিতি সরকারের কাছে দ্রুত বাস্তবসম্মত ভাড়া সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে ভাড়া অপরিবর্তিত থাকলে পরিবহন খাতে আর্থিক চাপ বাড়বে এবং সেবার মানেও প্রভাব পড়তে পারে।

তারা মনে করেন, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত না নিলে অনেক পরিবহন প্রতিষ্ঠান ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

ভাড়া নির্ধারণে সরকারের ভূমিকা

বাংলাদেশে বাসভাড়া নির্ধারণ করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সাধারণত জ্বালানির দাম পরিবর্তনের ভিত্তিতে সরকার ভাড়া সমন্বয় করে থাকে।

এর আগেও একাধিকবার জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পর বাসভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার, যাতে পরিবহন খাতের পরিচালন ব্যয় কিছুটা ভারসাম্যে থাকে।


অতীত অভিজ্ঞতা ও অনিয়ম

অতীতে দেখা গেছে, ভাড়া সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই কিছু এলাকায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এবার সেই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতেই আগাম সতর্ক অবস্থান নিয়েছে মালিক সমিতি।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন খাতে স্বাভাবিকভাবেই চাপ তৈরি হয়। তবে হঠাৎ করে ভাড়া বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ পড়ে।

তাদের মতে, ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার, মালিক ও যাত্রী—সব পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

উপসংহার

সব মিলিয়ে মালিক সমিতির নির্দেশনার ফলে আপাতত বাসভাড়া অপরিবর্তিত থাকছে, যা সাধারণ যাত্রীদের জন্য স্বস্তির খবর।

তবে জ্বালানি ও পরিচালন ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে সরকার শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এখন পরিবহন খাত ও সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।



দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর