দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

আহসানগঞ্জ স্টেশনে ঢাকাগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা

আহসানগঞ্জ স্টেশনে ঢাকাগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা

কটিয়াদীতে বিএনপি-যুবদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, থমথমে বনগ্রাম বাজার

বাঞ্ছারামপুরে অটোচালক হত্যা: দুই সপ্তাহ পেরোলেও রহস্য উদঘাটন হয়নি

মিরপুরে ফ্ল্যাট থেকে ৭৫ বছর বয়সী নারীর মরদেহ উদ্ধার, কয়েকদিন পর জানাজানি

ভোলাহাটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১টি ঘর ছাই, মুহূর্তেই নিঃস্ব তিন সহোদরের পরিবার

বেনাপোল সীমান্তে ‘পুশইন’ চেষ্টার অভিযোগ, বিজিবির কঠোর অবস্থানে ব্যর্থ উদ্যোগ

মনিরামপুরে সড়কে রক্তাক্ত রাত, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত দুই যুবক

বাঞ্ছারামপুরে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

মুকসুদপুরে নির্মাণাধীন রেস্টুরেন্ট ঘিরে চাঁদা দাবি ও হামলার অভিযোগ, জমি বিরোধে উত্তেজনা

মুকসুদপুরে নির্মাণাধীন রেস্টুরেন্ট ঘিরে চাঁদা দাবি ও হামলার অভিযোগ, জমি বিরোধে উত্তেজনা
-ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় একটি নির্মাণাধীন রেস্টুরেন্টকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবি, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে মুকসুদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে দিগনগর ইউনিয়নের বাগাট এলাকায়।


নির্মাণাধীন রেস্টুরেন্টে হামলার অভিযোগ

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দিগনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম তার পৈতৃক জমিতে “রিজিক হাইওয়ে ইন চাইনিজ এন্ড বাংলা রেস্টুরেন্ট” নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করছিলেন। প্রায় তিন বছর ধরে চলা এই নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে ছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নির্মাণস্থলে প্রবেশ করে কাজ বন্ধ করে দেয়।


২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ওই সময় তার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

এ ছাড়া নির্মাণাধীন ভবনের টাইলস ভাঙচুর করা হয় এবং প্রায় ৩ টন রড জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


জমি বিরোধের বিষয়ও সামনে

ঘটনার সঙ্গে জমি বিরোধের বিষয়টিও জড়িত বলে জানা গেছে। শফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম ১৯৮২ সালে সাড়ে ছয় শতাংশ জমি ক্রয় করেন। তবে পরবর্তীতে বিআরএস রেকর্ডে তা ১৩ শতাংশ দেখানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তার দাবি, দলিলে জমির পরিমাণ ও ভোগদখলের সীমা নির্ধারিত থাকলেও এখন ভিন্নভাবে দাবি তোলা হচ্ছে।


স্থানীয়দের ভিন্ন বক্তব্য

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ওই এলাকায় সম্প্রতি জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। একই সঙ্গে নির্মাণাধীন রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চাঁদা দাবির বিষয়টিও শোনা গেছে।

তাদের মতে, চাঁদা না দেওয়ায় নির্মাণ কাজে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছিল, যা এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত করছে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “রেস্টুরেন্টটি চালু হলে অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতো। কিন্তু বিরোধের কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”


অভিযুক্তদের বক্তব্য

অভিযুক্ত ফজলু শেখের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তার ছেলে দাবি করেন, বিষয়টি জমি বিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, তারা জমির অংশ পাওয়ার দাবি নিয়ে নির্মাণ কাজে বাধা দিয়েছেন। তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।


থানায় অভিযোগ ও পুলিশের অবস্থান

মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, এলাকায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় সে জন্য পুলিশ নজরদারি বাড়িয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যেহেতু বিষয়টি জমি সংক্রান্ত এবং আদালতে মামলা চলমান, তাই আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে।


এলাকায় উত্তেজনা, উন্নয়ন নিয়ে শঙ্কা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকায় জমির মূল্য বাড়ার কারণে জমি নিয়ে বিরোধ প্রায়ই দেখা যায়। এর প্রভাব ব্যবসা ও উন্নয়ন প্রকল্পেও পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জমি বিরোধ দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলে তা শুধু আইনি জটিলতাই নয়, সামাজিক অস্থিরতারও কারণ হয়ে দাঁড়ায়।


প্রশাসনের নজরদারির দাবি

এ ঘটনায় এলাকাবাসী দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

তারা চান, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনুক এবং ব্যবসা ও উন্নয়ন কার্যক্রম সচল রাখুক।



শেষ কথা

মুকসুদপুরের এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, জমি বিরোধ ও স্থানীয় দ্বন্দ্ব কীভাবে একটি সম্ভাবনাময় ব্যবসা প্রকল্পকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিতে পারে। এখন সবার নজর প্রশাসনের তদন্ত ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে।

বিষয় : মুকসুদপুরে রেস্টুরেন্টে মুকসুদপুর চাঁদা দাবি

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬


মুকসুদপুরে নির্মাণাধীন রেস্টুরেন্ট ঘিরে চাঁদা দাবি ও হামলার অভিযোগ, জমি বিরোধে উত্তেজনা

প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় একটি নির্মাণাধীন রেস্টুরেন্টকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবি, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে মুকসুদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে দিগনগর ইউনিয়নের বাগাট এলাকায়।


নির্মাণাধীন রেস্টুরেন্টে হামলার অভিযোগ

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দিগনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম তার পৈতৃক জমিতে “রিজিক হাইওয়ে ইন চাইনিজ এন্ড বাংলা রেস্টুরেন্ট” নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করছিলেন। প্রায় তিন বছর ধরে চলা এই নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে ছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নির্মাণস্থলে প্রবেশ করে কাজ বন্ধ করে দেয়।


২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ওই সময় তার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

এ ছাড়া নির্মাণাধীন ভবনের টাইলস ভাঙচুর করা হয় এবং প্রায় ৩ টন রড জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


জমি বিরোধের বিষয়ও সামনে

ঘটনার সঙ্গে জমি বিরোধের বিষয়টিও জড়িত বলে জানা গেছে। শফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম ১৯৮২ সালে সাড়ে ছয় শতাংশ জমি ক্রয় করেন। তবে পরবর্তীতে বিআরএস রেকর্ডে তা ১৩ শতাংশ দেখানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তার দাবি, দলিলে জমির পরিমাণ ও ভোগদখলের সীমা নির্ধারিত থাকলেও এখন ভিন্নভাবে দাবি তোলা হচ্ছে।


স্থানীয়দের ভিন্ন বক্তব্য

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ওই এলাকায় সম্প্রতি জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। একই সঙ্গে নির্মাণাধীন রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চাঁদা দাবির বিষয়টিও শোনা গেছে।

তাদের মতে, চাঁদা না দেওয়ায় নির্মাণ কাজে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছিল, যা এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত করছে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “রেস্টুরেন্টটি চালু হলে অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতো। কিন্তু বিরোধের কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”


অভিযুক্তদের বক্তব্য

অভিযুক্ত ফজলু শেখের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তার ছেলে দাবি করেন, বিষয়টি জমি বিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, তারা জমির অংশ পাওয়ার দাবি নিয়ে নির্মাণ কাজে বাধা দিয়েছেন। তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।


থানায় অভিযোগ ও পুলিশের অবস্থান

মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, এলাকায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় সে জন্য পুলিশ নজরদারি বাড়িয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যেহেতু বিষয়টি জমি সংক্রান্ত এবং আদালতে মামলা চলমান, তাই আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে।


এলাকায় উত্তেজনা, উন্নয়ন নিয়ে শঙ্কা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকায় জমির মূল্য বাড়ার কারণে জমি নিয়ে বিরোধ প্রায়ই দেখা যায়। এর প্রভাব ব্যবসা ও উন্নয়ন প্রকল্পেও পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জমি বিরোধ দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলে তা শুধু আইনি জটিলতাই নয়, সামাজিক অস্থিরতারও কারণ হয়ে দাঁড়ায়।


প্রশাসনের নজরদারির দাবি

এ ঘটনায় এলাকাবাসী দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

তারা চান, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনুক এবং ব্যবসা ও উন্নয়ন কার্যক্রম সচল রাখুক।



শেষ কথা

মুকসুদপুরের এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, জমি বিরোধ ও স্থানীয় দ্বন্দ্ব কীভাবে একটি সম্ভাবনাময় ব্যবসা প্রকল্পকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিতে পারে। এখন সবার নজর প্রশাসনের তদন্ত ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর