প্রিন্ট এর তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬
মুকসুদপুরে নির্মাণাধীন রেস্টুরেন্টে চাঁদা দাবির অভিযোগ, ভাঙচুর ও রড নেওয়ার দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
মুকসুদপুরে নির্মাণাধীন রেস্টুরেন্টে চাঁদা দাবি ও হামলার অভিযোগ, জমি বিরোধ নিয়ে উত্তেজনা গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দিগনগর ইউনিয়নের বাগাট এলাকায় একটি নির্মাণাধীন রেস্টুরেন্টে হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে মুকসুদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দিগনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম তার পৈতৃক জমির ওপর ‘রিজিক হাইওয়ে ইন চাইনিজ এন্ড বাংলা রেস্টুরেন্ট’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করছিলেন। প্রায় তিন বছর ধরে চলা এই নির্মাণ কাজ এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্থানীয়ভাবে এটি একটি সম্ভাবনাময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা হচ্ছিল, যা চালু হলে অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছিল।শফিকুল ইসলামের অভিযোগ, গত ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নির্মাণস্থলে এসে কাজ বন্ধ করে দেয়। এ সময় তারা তার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।তিনি আরও জানান, অভিযুক্তরা নির্মাণাধীন ভবনের টাইলস ভাঙচুর করে এবং প্রায় ৩ টন রড জোর করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তার বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। অভিযুক্তদের মধ্যে স্থানীয় সিরাজুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, ফজলুল হক শেখ ও আজিজল শেখসহ আরও ১০ থেকে ১৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টিও সামনে এসেছে। শফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম ১৯৮২ সালে একটি দলিলের মাধ্যমে সাড়ে ছয় শতাংশ জমি কিনেছিলেন। কিন্তু পরে বিআরএস রেকর্ডে তা ১৩ শতাংশ দেখানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার দাবি, দলিলে স্পষ্টভাবে জমির ভোগদখলের সীমা নির্ধারণ ছিল, অথচ এখন তার বিরুদ্ধে ভিন্ন দাবি তোলা হচ্ছে।এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সম্প্রতি ওই এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় বিভিন্নভাবে নির্মাণ কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছিল। এতে এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও ব্যাহত হচ্ছে বলে তারা মনে করেন। তাদের মতে, একটি বড় ধরনের রেস্টুরেন্ট চালু হলে স্থানীয় অনেক বেকার যুবকের কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারত।অভিযুক্ত ফজলু শেখের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তার ছেলে বলেন, তারা জমির অংশ পাওয়ার দাবি নিয়ে সেখানে বাধা দিয়েছেন। তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।এ বিষয়ে মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, তারা লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন এবং এলাকায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি না ঘটে সে জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যেহেতু বিষয়টি জমি-সংক্রান্ত এবং এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে, তাই আদালতের সিদ্ধান্তই এখানে চূড়ান্ত হবে।স্থানীয়দের মতে, মুকসুদপুরসহ আশপাশের এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধ নতুন নয়। অনেক সময় এসব বিরোধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের ক্ষেত্রেও বাধা তৈরি করে। বিশেষ করে মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকায় নতুন ব্যবসা গড়ে উঠলে জমির মূল্য বাড়ে, তখন বিরোধও বাড়তে দেখা যায়।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ আশা করছেন। একই সঙ্গে তারা চান, বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বের হয়ে আসুক এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকুক।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর