রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে Nahid Islam স্পষ্ট করে বলেছেন, অতীতে কেউ ছাত্রলীগ, ছাত্রদল বা ছাত্রশিবির করলেও এখন থেকে তারা চাইলে National Citizen Party (এনসিপি)-তে যোগ দিতে পারবেন। তবে ফ্যাসিবাদ, গণহত্যা, চাঁদাবাজি বা দুর্নীতির অভিযোগে জড়িত কেউ এই দলে জায়গা পাবেন না।
রোববার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের নেতাদের দলটিতে যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, অতীতের পরিচয় নয়, বরং বর্তমানের আদর্শ ও দায়িত্ববোধই এনসিপিতে কাজ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আজ থেকে কেউ এনসিপিতে যোগ দিলে তিনি এনসিপির সংগঠক হিসেবেই কাজ করবেন। তিনি এনসিপির আদর্শ ধারণ করে দেশের জন্য কাজ করবেন।” তার ভাষায়, নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার চেষ্টা করছে দলটি।
তিনি আরও বলেন, যারা বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে চান এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন, তাদের জন্য এনসিপির দরজা খোলা। তিনি মনে করেন, এতদিন ভিন্ন ভিন্ন প্ল্যাটফর্মে থাকলেও একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছেন অনেকেই, এখন সময় এসেছে একসঙ্গে কাজ করার।
সংবাদ সম্মেলনে তরুণদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, দেশে যেন নতুন করে কোনো স্বৈরশাসনের জন্ম না হয়, সে জন্য তরুণদের সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে, তাই সেই মত বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।
এ সময় তিনি আরও বলেন, জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব আছে। এনসিপি সেই দায়িত্ব পালন করতে চায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে তরুণদের অংশগ্রহণ খুবই জরুরি।
পটভূমি হিসেবে জানা যায়, এনসিপি মূলত তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং নতুন ধারার রাজনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে। দলটির নেতারা শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন, তারা পুরোনো বিভাজনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করতে চান। এ কারণে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন বা রাজনৈতিক পটভূমি থেকে আসা কর্মীদের একসঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি।
বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় রাজনীতিতে বড় ভূমিকা রেখে আসছে। বিভিন্ন সময়ে ছাত্রসংগঠনগুলো থেকেই জাতীয় পর্যায়ের নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে। ফলে ছাত্ররাজনীতির অতীত পরিচয়কে অগ্রাহ্য না করে নতুনভাবে একত্রিত হওয়ার এই আহ্বান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের নেতাকর্মীদের একসঙ্গে নিয়ে কাজ করার এই উদ্যোগ সফল হলে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে। তবে একই সঙ্গে অপরাধ বা সহিংসতার অভিযোগে জড়িতদের বাদ দেওয়ার ঘোষণা দলটির অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে।
সব মিলিয়ে, অতীতের বিভাজন ভুলে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে এনসিপি তরুণ ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে চাইছে। এখন দেখার বিষয়, এই আহ্বানে কতটা সাড়া মেলে এবং ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতিতে এর কী প্রভাব পড়ে।

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে Nahid Islam স্পষ্ট করে বলেছেন, অতীতে কেউ ছাত্রলীগ, ছাত্রদল বা ছাত্রশিবির করলেও এখন থেকে তারা চাইলে National Citizen Party (এনসিপি)-তে যোগ দিতে পারবেন। তবে ফ্যাসিবাদ, গণহত্যা, চাঁদাবাজি বা দুর্নীতির অভিযোগে জড়িত কেউ এই দলে জায়গা পাবেন না।
রোববার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের নেতাদের দলটিতে যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, অতীতের পরিচয় নয়, বরং বর্তমানের আদর্শ ও দায়িত্ববোধই এনসিপিতে কাজ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আজ থেকে কেউ এনসিপিতে যোগ দিলে তিনি এনসিপির সংগঠক হিসেবেই কাজ করবেন। তিনি এনসিপির আদর্শ ধারণ করে দেশের জন্য কাজ করবেন।” তার ভাষায়, নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার চেষ্টা করছে দলটি।
তিনি আরও বলেন, যারা বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে চান এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন, তাদের জন্য এনসিপির দরজা খোলা। তিনি মনে করেন, এতদিন ভিন্ন ভিন্ন প্ল্যাটফর্মে থাকলেও একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছেন অনেকেই, এখন সময় এসেছে একসঙ্গে কাজ করার।
সংবাদ সম্মেলনে তরুণদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, দেশে যেন নতুন করে কোনো স্বৈরশাসনের জন্ম না হয়, সে জন্য তরুণদের সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে, তাই সেই মত বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।
এ সময় তিনি আরও বলেন, জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব আছে। এনসিপি সেই দায়িত্ব পালন করতে চায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে তরুণদের অংশগ্রহণ খুবই জরুরি।
পটভূমি হিসেবে জানা যায়, এনসিপি মূলত তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং নতুন ধারার রাজনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে। দলটির নেতারা শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন, তারা পুরোনো বিভাজনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করতে চান। এ কারণে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন বা রাজনৈতিক পটভূমি থেকে আসা কর্মীদের একসঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি।
বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় রাজনীতিতে বড় ভূমিকা রেখে আসছে। বিভিন্ন সময়ে ছাত্রসংগঠনগুলো থেকেই জাতীয় পর্যায়ের নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে। ফলে ছাত্ররাজনীতির অতীত পরিচয়কে অগ্রাহ্য না করে নতুনভাবে একত্রিত হওয়ার এই আহ্বান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের নেতাকর্মীদের একসঙ্গে নিয়ে কাজ করার এই উদ্যোগ সফল হলে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে। তবে একই সঙ্গে অপরাধ বা সহিংসতার অভিযোগে জড়িতদের বাদ দেওয়ার ঘোষণা দলটির অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে।
সব মিলিয়ে, অতীতের বিভাজন ভুলে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে এনসিপি তরুণ ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে চাইছে। এখন দেখার বিষয়, এই আহ্বানে কতটা সাড়া মেলে এবং ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতিতে এর কী প্রভাব পড়ে।

আপনার মতামত লিখুন