প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬
শার্শায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় যুবককে খুঁটিতে বেঁধে নৃশংস নির্যাতন
যশোর প্রতিনিধি ||
যশোরের শার্শা উপজেলায় চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে এক যুবককে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। রোববার সকালে কায়বা ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় গুরুতর আহত শরিফুল ইসলাম বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।সকালে কাজে যাওয়ার পথে তুলে নেওয়ার অভিযোগস্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে প্রতিদিনের মতো কাজে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন শরিফুল ইসলাম (৩৮)। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী এবং রুদ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা।অভিযোগ রয়েছে, পথে একদল ব্যক্তি তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে রুদ্রপুর বাজারে নিয়ে গিয়ে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।চাঁদা দাবির পর নির্যাতনের অভিযোগপরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, সেখানে শরিফুলের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকজন ব্যক্তি হাতুড়ি ও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে শরিফুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।পূর্ব বিরোধ থেকে ঘটনার সূত্রপাত?ঘটনার পেছনে পুরনো একটি বিরোধের বিষয় সামনে এসেছে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরিফুলের চাচা শুকুর আলীর সঙ্গে রুপা লেনদেন সংক্রান্ত একটি ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। সেখানে শরিফুলও যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।এক পর্যায়ে প্রায় ৯ লাখ টাকার রুপা হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায় শরিফুলের ওপর বর্তায়। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য তিনি প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা পরিশোধ করেন বলে জানা গেছে।তবে পরবর্তীতে স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, ওই রুপা অন্য এক ব্যক্তির কাছে ছিল বলে বিষয়টি সামনে আসে। এমনকি ওই ব্যক্তি বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।এরপর ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৬ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়, যার মধ্যে ১ লাখ টাকা নগদ দেওয়া হলেও বাকি ৫ লাখ টাকার একটি ব্যাংক চেক দেওয়া হয়। কিন্তু চেক ভাঙাতে গিয়ে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় নতুন করে দ্বন্দ্ব শুরু হয় বলে জানা গেছে।দ্বন্দ্ব থেকে সহিংসতায় রূপস্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের এই আর্থিক বিরোধ ধীরে ধীরে উত্তেজনার সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তা সহিংস ঘটনার দিকে গড়ায়।অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রভাব খাটিয়ে কিছু টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। শেষ পর্যন্ত এই দ্বন্দ্বই রোববারের সহিংস ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।পরিবারের দাবিআহত শরিফুলের বাবা ছাবেদ আলী অভিযোগ করে বলেন, পুরনো হিসাব মিটে যাওয়ার পরও নতুন করে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তার ছেলেকে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে।তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।প্রশাসনের অবস্থানএ বিষয়ে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানিয়েছেন, এখনো পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।সীমান্ত এলাকায় বাড়ছে উদ্বেগস্থানীয়দের মতে, সীমান্তবর্তী শার্শা উপজেলায় চোরাচালান ও অবৈধ লেনদেনকে কেন্দ্র করে মাঝেমধ্যেই বিরোধের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে স্বর্ণ ও রুপা পাচারকে ঘিরে দ্বন্দ্ব, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার অভিযোগ নতুন নয়।তারা জানান, অনেক সময় ভুক্তভোগীরা ভয় বা সামাজিক চাপের কারণে থানায় অভিযোগ করতে চান না। ফলে এসব ঘটনা আড়ালেই থেকে যায় এবং অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।প্রভাব ও বিশ্লেষণবিশ্লেষকদের মতে, প্রকাশ্যে একজন ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের মতো ঘটনা স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলার জন্য বড় ধরনের হুমকির ইঙ্গিত দেয়।এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং এলাকায় বাড়তে থাকা সহিংসতা ও চাঁদাবাজির প্রবণতার প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।নিয়মিত নজরদারি, দ্রুত তদন্ত এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা না গেলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।উপসংহারশার্শার এই ঘটনাটি এখন স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ দায়ের করবে কিনা এবং প্রশাসন কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—সেই দিকেই তাকিয়ে আছে এলাকাবাসী।
ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর