মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) উপাচার্য পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা জোরালো হয়েছে। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল আজীম আখন্দের পরিবর্তে নতুন ভিসি নিয়োগ দেওয়া হতে পারে— এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়তেই শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকেই নতুন উপাচার্য নিয়োগের দাবি তুলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দেশের কয়েকটি বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের মধ্য থেকেও নতুন ভিসি নিয়োগ দেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অভিজ্ঞ শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে— এমন ধারণা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। এদিকে শিক্ষার্থীদের মতামত জানতে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির উদ্যোগে পরিচালিত এক অনলাইন জরিপে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৭৬.৫ শতাংশ নিজস্ব শিক্ষক থেকে ভিসি নিয়োগের পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে ১৩.৫ শতাংশ শিক্ষার্থী দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের পক্ষে মত দেন। এছাড়া প্রায় ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী বর্তমান ভিসিকেই বহাল রাখার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, নিজস্ব শিক্ষক ভিসি হলে ক্যাম্পাসের সমস্যা দ্রুত বোঝা এবং সমাধান করা সহজ হয়। পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী নাবী হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে কাজ করা শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো, গবেষণা কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যাগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখেন। ফলে সিদ্ধান্ত নিতে সময় কম লাগে এবং কাজের গতি বাড়ে। একই মত প্রকাশ করেছেন হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রাব্বি। তার মতে, নিজস্ব শিক্ষক থেকে ভিসি নিয়োগ হলে জবাবদিহিতা বেশি থাকে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়। তবে ভিন্ন মতও রয়েছে শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মধ্যে। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী এম. কে. সাহেল মনে করেন, বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষক ভিসি হিসেবে এলে নতুন চিন্তা ও পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়। এতে দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক ওয়াসিফ অয়ন বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য শুধু অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতা নয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে আবেগ নয়, যোগ্যতাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আবির রহমান বলেন, ভিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত সততা, দক্ষতা এবং নেতৃত্বের সক্ষমতা। তিনি নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হোন বা বাইরের— যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন, তাকেই দায়িত্ব দেওয়া উচিত। পটভূমি হিসেবে জানা যায়, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে থাকে, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগের নজির তৈরি হওয়ায় মাভাবিপ্রবিতেও একই ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। এর আগে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগের ঘটনাও শিক্ষার্থীদের এই আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে। শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের মতে, শুধু ভিসি নয়— উপউপাচার্য ও ট্রেজারার পদেও নিজস্ব শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও কার্যকর হতে পারে। এতে ক্যাম্পাসভিত্তিক সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সহজ হবে বলে তারা মনে করছেন। সব মিলিয়ে মাভাবিপ্রবিতে নতুন ভিসি নিয়োগ নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না এলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা ও প্রত্যাশা বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত কে দায়িত্ব পান— নিজস্ব শিক্ষক নাকি বাইরের কোনো অভিজ্ঞ অধ্যাপক— তা নির্ধারণ করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক দিকনির্দেশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।মাভাবিপ্রবিতে ভিসি নিয়োগের গুঞ্জন, নিজস্ব শিক্ষক থেকে নিয়োগের দাবি শিক্ষার্থীদের

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) উপাচার্য পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা জোরালো হয়েছে। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল আজীম আখন্দের পরিবর্তে নতুন ভিসি নিয়োগ দেওয়া হতে পারে— এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়তেই শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকেই নতুন উপাচার্য নিয়োগের দাবি তুলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দেশের কয়েকটি বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের মধ্য থেকেও নতুন ভিসি নিয়োগ দেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অভিজ্ঞ শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে— এমন ধারণা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। এদিকে শিক্ষার্থীদের মতামত জানতে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির উদ্যোগে পরিচালিত এক অনলাইন জরিপে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৭৬.৫ শতাংশ নিজস্ব শিক্ষক থেকে ভিসি নিয়োগের পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে ১৩.৫ শতাংশ শিক্ষার্থী দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের পক্ষে মত দেন। এছাড়া প্রায় ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী বর্তমান ভিসিকেই বহাল রাখার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, নিজস্ব শিক্ষক ভিসি হলে ক্যাম্পাসের সমস্যা দ্রুত বোঝা এবং সমাধান করা সহজ হয়। পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী নাবী হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে কাজ করা শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো, গবেষণা কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যাগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখেন। ফলে সিদ্ধান্ত নিতে সময় কম লাগে এবং কাজের গতি বাড়ে। একই মত প্রকাশ করেছেন হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রাব্বি। তার মতে, নিজস্ব শিক্ষক থেকে ভিসি নিয়োগ হলে জবাবদিহিতা বেশি থাকে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়। তবে ভিন্ন মতও রয়েছে শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মধ্যে। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী এম. কে. সাহেল মনে করেন, বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষক ভিসি হিসেবে এলে নতুন চিন্তা ও পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়। এতে দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক ওয়াসিফ অয়ন বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য শুধু অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতা নয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে আবেগ নয়, যোগ্যতাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আবির রহমান বলেন, ভিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত সততা, দক্ষতা এবং নেতৃত্বের সক্ষমতা। তিনি নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হোন বা বাইরের— যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন, তাকেই দায়িত্ব দেওয়া উচিত। পটভূমি হিসেবে জানা যায়, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে থাকে, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগের নজির তৈরি হওয়ায় মাভাবিপ্রবিতেও একই ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। এর আগে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগের ঘটনাও শিক্ষার্থীদের এই আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে। শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের মতে, শুধু ভিসি নয়— উপউপাচার্য ও ট্রেজারার পদেও নিজস্ব শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও কার্যকর হতে পারে। এতে ক্যাম্পাসভিত্তিক সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সহজ হবে বলে তারা মনে করছেন। সব মিলিয়ে মাভাবিপ্রবিতে নতুন ভিসি নিয়োগ নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না এলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা ও প্রত্যাশা বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত কে দায়িত্ব পান— নিজস্ব শিক্ষক নাকি বাইরের কোনো অভিজ্ঞ অধ্যাপক— তা নির্ধারণ করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক দিকনির্দেশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।মাভাবিপ্রবিতে ভিসি নিয়োগের গুঞ্জন, নিজস্ব শিক্ষক থেকে নিয়োগের দাবি শিক্ষার্থীদের

আপনার মতামত লিখুন