দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

কৃষি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে নতুন সহযোগিতার ইঙ্গিত: কুচিংয়ে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বৈঠক

কৃষি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে নতুন সহযোগিতার ইঙ্গিত: কুচিংয়ে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বৈঠক

লন্ডনে বসেই ভোট: প্রবাসীদের অংশগ্রহণে বদলাবে কি বাংলাদেশের নির্বাচনের হিসাব?

উত্তর ইতালিতে বন্যা ও ঝড়ের তাণ্ডব: পানির নিচে বহু এলাকা, উদ্ধার অভিযান জোরদার

নতুন নিয়মে মালয়েশিয়া যেতে পারবেন বাংলাদেশি কর্মীরা, আসছে স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা

নজরদারির পর বড় অভিযান: মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক ১৭১ অভিবাসী

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর: সৌদির সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়ল বৃত্তির কোটা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি বার্তা

লস এঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ডে প্যারেড ও ফেস্টিভ্যাল

কৃষি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে নতুন সহযোগিতার ইঙ্গিত: কুচিংয়ে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বৈঠক

কৃষি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে নতুন সহযোগিতার ইঙ্গিত: কুচিংয়ে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বৈঠক
-ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার সারাওয়াক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হাজি আব্দুর রহমান যোহারি বিন তুন আবাং হাজি ওপেং-এর সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরীর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুচিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সৌজন্য সাক্ষাতে কৃষি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং শ্রমিক অভিবাসনসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে দুই পক্ষের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কৃষি খাতের সম্ভাবনা এবং দেশের বিশাল মানবসম্পদের সক্ষমতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। হাইকমিশনার জানান, সারাওয়াকের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দক্ষ, অর্ধদক্ষ ও সাধারণ পর্যায়ের বাংলাদেশি শ্রমিকদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে বাংলাদেশ আগ্রহী। বিশেষ করে নির্মাণ, কৃষি এবং শিল্প খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে উভয় পক্ষই উপকৃত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সারাওয়াকের মুখ্যমন্ত্রী এই প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, সারাওয়াকের নির্মাণ খাতে বাংলাদেশি শ্রমিকরা ইতোমধ্যে ভালো কাজের পরিচয় দিয়েছেন এবং তাদের অবদান প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতে সারাওয়াকের শ্রমবাজারে আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়েও তিনি নীতিগত সম্মতি দেন। এতে দুই দেশের মধ্যে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বৈঠকে অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও নিয়ন্ত্রিত করতে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের বিষয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে কৃষি খাতে আলাদা একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও নিয়ে কথা হয়, যা বাস্তবায়ন হলে কৃষি প্রযুক্তি ও উৎপাদন বাড়াতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে সৌরশক্তি ও সবুজ প্রযুক্তিতে জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময়ের মাধ্যমে যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এতে পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এই বৈঠকে সারাওয়াক প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ডেপুটি মন্ত্রী (শ্রম, অভিবাসন ও প্রকল্প পর্যবেক্ষণ) গেরাওয়াত গালাসহ উভয় পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে হাইকমিশনার মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারিং ফেডারেশন (এফএমএম) এবং সারাওয়াক বিজনেস ফেডারেশনের (এসবিএফ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। সেখানে দুই অঞ্চলের মধ্যে পারস্পরিক সুবিধাজনক ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

উল্লেখ্য, সারাওয়াক মালয়েশিয়ার পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য, যেখানে কৃষি, বনসম্পদ, নির্মাণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত উন্নয়ন হচ্ছে। এই উন্নয়ন কার্যক্রমে বিদেশি শ্রমিকের চাহিদাও তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি কর্মীদের অন্যতম প্রধান কর্মসংস্থানের বাজার হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে দেশটিতে লক্ষাধিক বাংলাদেশি বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন এবং প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠাচ্ছেন।

সার্বিকভাবে এই বৈঠক বাংলাদেশ ও সারাওয়াকের মধ্যে শ্রমবাজার, কৃষি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। ভবিষ্যতে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকগুলো বাস্তবায়িত হলে দুই পক্ষের সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬


কৃষি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে নতুন সহযোগিতার ইঙ্গিত: কুচিংয়ে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বৈঠক

প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মালয়েশিয়ার সারাওয়াক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হাজি আব্দুর রহমান যোহারি বিন তুন আবাং হাজি ওপেং-এর সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরীর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুচিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সৌজন্য সাক্ষাতে কৃষি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং শ্রমিক অভিবাসনসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে দুই পক্ষের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কৃষি খাতের সম্ভাবনা এবং দেশের বিশাল মানবসম্পদের সক্ষমতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। হাইকমিশনার জানান, সারাওয়াকের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দক্ষ, অর্ধদক্ষ ও সাধারণ পর্যায়ের বাংলাদেশি শ্রমিকদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে বাংলাদেশ আগ্রহী। বিশেষ করে নির্মাণ, কৃষি এবং শিল্প খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে উভয় পক্ষই উপকৃত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সারাওয়াকের মুখ্যমন্ত্রী এই প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, সারাওয়াকের নির্মাণ খাতে বাংলাদেশি শ্রমিকরা ইতোমধ্যে ভালো কাজের পরিচয় দিয়েছেন এবং তাদের অবদান প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতে সারাওয়াকের শ্রমবাজারে আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়েও তিনি নীতিগত সম্মতি দেন। এতে দুই দেশের মধ্যে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বৈঠকে অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও নিয়ন্ত্রিত করতে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের বিষয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে কৃষি খাতে আলাদা একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও নিয়ে কথা হয়, যা বাস্তবায়ন হলে কৃষি প্রযুক্তি ও উৎপাদন বাড়াতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে সৌরশক্তি ও সবুজ প্রযুক্তিতে জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময়ের মাধ্যমে যৌথভাবে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এতে পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এই বৈঠকে সারাওয়াক প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ডেপুটি মন্ত্রী (শ্রম, অভিবাসন ও প্রকল্প পর্যবেক্ষণ) গেরাওয়াত গালাসহ উভয় পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে হাইকমিশনার মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারিং ফেডারেশন (এফএমএম) এবং সারাওয়াক বিজনেস ফেডারেশনের (এসবিএফ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। সেখানে দুই অঞ্চলের মধ্যে পারস্পরিক সুবিধাজনক ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

উল্লেখ্য, সারাওয়াক মালয়েশিয়ার পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য, যেখানে কৃষি, বনসম্পদ, নির্মাণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত উন্নয়ন হচ্ছে। এই উন্নয়ন কার্যক্রমে বিদেশি শ্রমিকের চাহিদাও তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি কর্মীদের অন্যতম প্রধান কর্মসংস্থানের বাজার হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে দেশটিতে লক্ষাধিক বাংলাদেশি বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন এবং প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠাচ্ছেন।

সার্বিকভাবে এই বৈঠক বাংলাদেশ ও সারাওয়াকের মধ্যে শ্রমবাজার, কৃষি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। ভবিষ্যতে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকগুলো বাস্তবায়িত হলে দুই পক্ষের সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর