দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ৯ দফা প্রস্তাবনা জামায়াতের

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ৯ দফা প্রস্তাবনা জামায়াতের

২০২৯ সালের মধ্যে চার লেনে উঠছে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক

ভবন নির্মাণ থেমে আছে, চিকিৎসক নেই—সরাইলের স্বাস্থ্যসেবার বেহাল চিত্র সংসদে

ইন্টারনেট বন্ধের কারণ নিয়ে পলকের বক্তব্য ‘রাজনৈতিক’—ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য

জুলাই আন্দোলনের আসামিদের জামিন নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সারজিস, সতর্কবার্তা বিএনপিকে

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে চীন সফরে বিএনপির শীর্ষ নেতারা

ইসিতে আপিল শুনানির ষষ্ঠ দিন শুরু: পাঁচ দিনে মঞ্জুর ২৭৭, বাতিল ৮১

শাপলা চত্বর মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাবেক আইজিপি মামুনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে ট্রাইব্যুনাল

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ৯ দফা প্রস্তাবনা জামায়াতের

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ৯ দফা প্রস্তাবনা জামায়াতের
-ফাইল ফটো

দেশের  রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক চাপ এবং জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ৯ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির মতে, এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটাই স্থিতিশীল হতে পারে এবং জনগণের আস্থা ফিরবে।

শুক্রবার রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা ও মহানগরী পর্যায়ের আমীর সম্মেলনে এসব প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান সরকারকে জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সব রাজনৈতিক দল ও অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

সম্মেলনে নেতারা বলেন, সাম্প্রতিক গণভোটের রায় বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি কাটাতে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করা জরুরি বলে তারা মনে করেন। একই সঙ্গে ‘জুলাই সনদ’-এর ধারাগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য শক্ত মনিটরিং ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

জ্বালানি সংকটকে দেশের শিল্প ও কৃষির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরে নেতারা বলেন, দেশীয় গ্যাস ও কয়লা উত্তোলনের ওপর জোর দিতে হবে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ খাত আধুনিক করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় যে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত সমাধানের দাবি জানানো হয়।

কৃষি খাত নিয়েও সম্মেলনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নেতারা বলেন, সার সংকট দূর করতে হবে এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ কৃষি দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখার দাবিও উঠে আসে সম্মেলনে। নিয়োগ ও পদোন্নতিতে মেধা ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষ ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে এবং সন্ত্রাস ও দখলবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। বাজারে সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, ব্যাংক ও আর্থিক খাতে সংস্কার আনা এবং অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাড়ানো এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে অনুকূল পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানানো হয়।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবিও জানানো হয়েছে। নেতারা মনে করেন, স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়লে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত পরিস্থিতি নিয়েও সম্মেলনে আলোচনা হয়। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা এবং মানবিক সহায়তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান নেতারা।

পটভূমি হিসেবে জানা যায়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় একটি দল। বিভিন্ন সময় নির্বাচন, প্রশাসনিক সংস্কার ও অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে দলটি তাদের নিজস্ব প্রস্তাবনা দিয়ে আসছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্যের চাপ সাধারণ মানুষের জীবনে বড় প্রভাব ফেলায় এসব বিষয় এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সরকারকে একা নয়, বরং সব অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে হবে। তার মতে, জাতীয় ঐকমত্য তৈরি হলেই স্থিতিশীলতার পথ সহজ হবে।

সব মিলিয়ে জামায়াতের এই ৯ দফা প্রস্তাবনা দেশের চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন দেখার বিষয়, এসব প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার ও অন্য রাজনৈতিক দলগুলো কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানায়।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬


রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ৯ দফা প্রস্তাবনা জামায়াতের

প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশের  রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক চাপ এবং জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ৯ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির মতে, এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটাই স্থিতিশীল হতে পারে এবং জনগণের আস্থা ফিরবে।

শুক্রবার রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা ও মহানগরী পর্যায়ের আমীর সম্মেলনে এসব প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান সরকারকে জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সব রাজনৈতিক দল ও অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

সম্মেলনে নেতারা বলেন, সাম্প্রতিক গণভোটের রায় বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি কাটাতে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করা জরুরি বলে তারা মনে করেন। একই সঙ্গে ‘জুলাই সনদ’-এর ধারাগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য শক্ত মনিটরিং ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

জ্বালানি সংকটকে দেশের শিল্প ও কৃষির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরে নেতারা বলেন, দেশীয় গ্যাস ও কয়লা উত্তোলনের ওপর জোর দিতে হবে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ খাত আধুনিক করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় যে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত সমাধানের দাবি জানানো হয়।

কৃষি খাত নিয়েও সম্মেলনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নেতারা বলেন, সার সংকট দূর করতে হবে এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ কৃষি দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখার দাবিও উঠে আসে সম্মেলনে। নিয়োগ ও পদোন্নতিতে মেধা ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষ ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে এবং সন্ত্রাস ও দখলবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। বাজারে সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, ব্যাংক ও আর্থিক খাতে সংস্কার আনা এবং অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাড়ানো এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে অনুকূল পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানানো হয়।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবিও জানানো হয়েছে। নেতারা মনে করেন, স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়লে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত পরিস্থিতি নিয়েও সম্মেলনে আলোচনা হয়। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা এবং মানবিক সহায়তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান নেতারা।

পটভূমি হিসেবে জানা যায়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় একটি দল। বিভিন্ন সময় নির্বাচন, প্রশাসনিক সংস্কার ও অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে দলটি তাদের নিজস্ব প্রস্তাবনা দিয়ে আসছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্যের চাপ সাধারণ মানুষের জীবনে বড় প্রভাব ফেলায় এসব বিষয় এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সরকারকে একা নয়, বরং সব অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে হবে। তার মতে, জাতীয় ঐকমত্য তৈরি হলেই স্থিতিশীলতার পথ সহজ হবে।

সব মিলিয়ে জামায়াতের এই ৯ দফা প্রস্তাবনা দেশের চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন দেখার বিষয়, এসব প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার ও অন্য রাজনৈতিক দলগুলো কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানায়।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর